News Updates

Home » ব্লগ » পুস্তক » ছোটো গল্পসমগ্র

বাঘের মন
প্রণতি দাস
এক রাজার শখ ছিল শিকার করা এবং শিকার করা পশুপাখিকে যত্ন করে নিজের পশুশালায় রেখে দেওয়া। একদিন রাজা শিকারে গিয়ে একটি বাঘ শিকার করে পশুশালায় এনে রেখে দিলেন। তারপর থেকেবাঘটার সামনে যে লোক যেত, বাঘ তাকে খাঁচা খুলে দিতে বলতো। বাঘের স্বভাব সবাই জানতো। তাই কেউ খাঁচা খুলে দিত না। একদিন এক ব্রাক্ষ্মণকে বাঘ খাঁচার দরজা খুলে দিতে অনুরোধ করলো। দয়াপরবশ হয়ে ব্রাক্ষ্মণ সঙ্গে সঙ্গে খাঁচার দরজা খুলে দিল এবং বাঘ সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে ব্রাক্ষ্মণের সম্মুখে এসে তাকে বললোঃ ’অনেক দিন মানুষের রক্ত খাওয়া হয়নি, তাই
আজ তোকে খাবো।’ এবং বলার সঙ্গে সঙ্গেইব্রাক্ষ্মণের ঘাড়ে লাফিয়ে তাকে হত্যা করলো।
জাতকের গল্প
মিহির সেন
এক বনে এক গর্তের ভেতর একদল ইঁদুর বাস করতো। বহুদিন ধরে সেখানে সুখে বসবাস করছিল তারা।একদিন এক শিয়াল সেখানে দিয়ে যেতে যেতে ইঁদুরদেরদেখে ভাবল,এদের ফাঁকি দিয়ে খাবার ব্যবস্থা হচ্ছে।অনেক ভেবে এক ফন্দি বের করলো শিয়াল। গর্তের কিছুটা দূরে এক জায়গায়একপায়ে ভর দিয়ে, সূর্যের দিকে মুখতুলে,মুখ হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকলো।ইঁদুরের দলপতিখাবার খুজতে বেরিয়ে শিয়ালকে ঐ অবস্থায় দেখে একটু অবাক হ’ল। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
আপনার নাম কি ?
শিয়াল বলল, আমার নাম ধার্মিক।
ইঁদুর বলল,আপনি তিন পা তুলে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন ?
শিয়াল বলল, আমি চার পা মাটিতে রাখলে পৃথিবী সে ভার বহন করতে পারবে না বলে।
-আপনি মুখ হাঁ করে আছেন কেন ?
-আমি তো আর কিছু খাই না, শুধু বাতাস খেয়ে থাকি। তাই মুখ হাঁ করে বাতাস খাচ্ছি।
ইঁদুর বলল, কিন্তু সুর্যের দিকে মুখ তুলে আছেন কেন ?
শিয়াল বলল, সূর্যকে প্রণাম করার জন্য।
শিয়ালের কথা শুনে ইঁদুর দলপতির শ্রদ্ধা হ’ল। বুঝল, এই শিয়াল সাধারণ শিয়াল নয়, সন্নাসী শিয়াল।
সেদিন থেকে রোজ সে সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলা ইঁদুরদের নিয়ে সেই সন্নাসী কে প্রণাম করতে যেতো।কিন্তু প্রত্যেকবারই ওরা প্রণাম করে ফেরার সময় সবচেয়ে পিছনের ইঁদুরটাকে খপ করে ধরে টপ করে গিলে ফেলতো শিয়াল। তারপর মুখ তুলে আগের মতই একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। কেউ টের পেত না। কিছুদিন পর ইঁদুররা লক্ষ্য করলো, ক্রমেই যেন ওদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আগে যে গর্তে ওদের জায়গায় কুলাতো না, ঠেসাঠেসি করে থাকতে হ’ত, সেটা যেন দিনকে দিন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপার কি?সব দেখে-শুনে দলপতির শিয়ালের ওপর কেমন যেন সন্দেহ হ’ল। ও খেয়ে ফেলছে না তো ইঁদুরদের ?
একদিন তাই পরীক্ষা করে দেখার জন্য শিয়ালকে প্রণাম করে ফেরার সময় নিজে সবার পেছনে থাকলো। যা সন্দেহ করেছিল, তাই। ওরা ফিরতেই শিয়াল হঠাৎ দলপতির ওপর লাফিয়ে পড়ল।দলপতি আগেথেকেই সতর্ক ছিল। একলাফে দূরে সরে গেল। তারপর শিয়ালের দিকে ফিরে বলল,
তাহলে ইঁদুর খাবার জন্যই তোমার এই ধর্মেরছলচাতুরী। এবার তার ফল ভোগ করো। বলেই ইঁদুর-দলপতি আচমকা শিয়ালের ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ে এক কামড়ে গলার নলী ছিড়ে ফেলল। শিয়ালও সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল। এবার উলটে ইঁদুররাই ফিরে এসে আঁশ মিটিয়ে শিয়ালের মাংস খেয়ে আবার নিজেদের গর্তে ফিরে গেল। আর সেদিন থেকে আবার আগের মত সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল সেখানে।
রাক্ষস আমি নই
রাখী চৌধুরী
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। আবদুল লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে গেল। মোনা শুয়ে শুয়ে দেখছিল, ছোট ছোট লাইটের পোকাগুলোর দেয়ালে কি বড় বড় সব ছায়া পড়ছে। হঠাৎ ও দেখলো লাইটের শেডের তলায় একটা টিকটিকি আড়ি পেতে আছে। একটা ছোট্ট পোকা ওর সামনে যেতেই টিকটিকিটা গিলে নিল।
মোনার মনটা খারাপ হয়ে গেল, কিছুক্ষণ আগেও পোকাটা কি সুন্দর করে লাইটেরউপর ঘুরপাক খাচ্ছিলো। মোনার ভাবনা এলো ওটা যদি আরও পোকা খেয়ে ফেলে। ওটাকে তাড়াতে হবে। ভাইয়া ঘরে এলো, কিরে মোনা উপরের দিকে অমন করে কি দেখছিস?
ভাইয়া, একটা পাটখড়ি দেনা।
কেন?
টিকটিকিটাকে তাড়াতে হবে।
কেনরে ?
ও সব পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলবে যে।
মোনা করুণ স্বরে জানালো।
ভাইয়া হেসে ফেললো। কিরে টিকটিকির
সেই ছড়াটা তোর মনে নেই ?কি যেন ?
ছোট ছোট পায়ে আমি
দেয়ালেতে চলি
টিকটিক করি আমি
ঠিক ঠিক বলি
গুটি গুটি পোকা আমি
পেলেই গিলে ফেলি।
না ভাইয়া, ওটাকে তাড়াÑ
আমার ভালো লাগছে না।
দীপু টিকটিকিটাকে ঠিকই তাড়িয়ে দিল
তবুও মোনা জানতে চাইলো ওটা কোথায় গেছে। দীপু বললো, জানিস টিকটিকিটা না আমাদের দেয়াল বেয়ে নেমে কলিদের ভেন্টিলেটারের ভেতর দিয়ে ওদের বাড়ী গেল। মোনা দুঃখ করে বললো, টিকটিকিটা যা রাক্ষস, নিশ্চয়ই ওখানে আবার পোকা খেতে শুরু করবে। দীপু বললো, টিকটিকিটাকে রাক্ষস বলছিস, কিরে ও যদি রাক্ষস হয় তবে আমরা তো রাক্ষসের বাবার বাবারে। মোনা আশ্চার্য হয়ে বললো কেনরে ?কেন, বুঝলি না ? আমরা যেভাবে প্রতিদিন গরু, ছাগল, মুরগী ধ্বংস করছিÑআমরা কি ওদের কাছে রাক্ষস নই ? এই যে তুই শুধু মুরগীর সুপ খেয়ে থাকিস ? মুরগীগুলো কি তোকে রাক্ষস বলছে না ? মোনা তো এ দিকটা কোনদিন ভেবে দেখেনি। ভাইয়া বললো রাক্ষস কেউ না । টিকটিকি পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে । তাই সে পোকা খাবেই এটাই নিয়ম।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: