News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: মেষ রাশি)

 

বার রাশির সাধারণ ফল (প্রকৃতি):


মেষ রাশি ১:
২২# ২১ মার্চ-২০ এপ্রিল [বৈশাখ]
মেষ রাশিতে জন্মালে বিমল কেশযুক্ত, চঞ্চল, ত্যাগশীল, কান্তিযুক্ত, পবিত্র, বিলাসী, অতিশয় বক্তা, দুর্দান্ত, গৃহস্থ শ্রমবিরত, রোষ-কষায়ত নেত্র, অল্প মেধাবিশিষ্ট, ধনাঢ্য ও দাতা হয়ে থাকেন।
# রাশিস্বরূপঃ
মেষরাশি-পুরুষ, চরসংজ্ঞক, অগ্নিরাশি, সুদৃঢ়, চতুষ্পদ, রক্তবর্ণ, উষ্ণস্বভাব, পিত্তপ্রকৃতি, অতিরব, পর্ব্বতচারী, উগ্রপ্রকৃতি, পীতবর্ণ, দিবাবলী, *পূর্বদিকের অধিপতি, বিষমোদয়, অল্প স্ত্রীসঙ্গ, ও সন্তুতিযুক্ত, রুক্ষশরীর, ক্ষত্রিয় জাতি, সমাজ ও ওজ্ব –সংজ্ঞক।

# মেষরাশি কেমন ঃ
* খোলামন, প্রচন্ড স্পৃহা এবং স্বাতন্ত্র্য মেষের ব্যক্তিত্বের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। * স্পষ্টবাদি, সচেতন, কথায় ও কাজে ত্বরিত গতিসম্পন্ন। * যতটা না শুনতে চায় তার চেয়ে বলতে চায়।* অতিমাত্রায় উচ্চাকাক্সক্ষী এবং চ্যালেঞ্জিং জীপনযাপনে আগ্রহী। * অতিমাত্রায় স্বাধীন এবং লড়াই বিতর্কে দুর্বলের পক্ষ নেয় এ কারণে তাদের হার হয়। * পরাজিত হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ মাত্রারিক্ত আত্মবিশ্বাস, বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে না পারা এবং প্রস্তুতিতে প্রায় সময় দুর্বল থাকা।

# প্রকৃতি ঃ
মেষ রাশি মানবদেহের মস্তিস্ক বা মাথার অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এই রাশির জাতক স্বভাবতই স্বাধিনতাপ্রিয়, উচ্চকাঙক্ষী, ভাবুক, স্বকর্মে বিশ্বাসী, ও অভিমানী হয়ে থাকেন । স্বাধীন ভাবে স্বীয় প্রচেষ্টা চায়। যে কোন মহৎ কর্ম গড়ে তুলে স্বীয় কর্তৃত্বে পরিচালনা করতে আগ্রহী। সেরূপ কর্তত্ব পেলেও অস্থিরতা ও চিত্তচাঞ্চল্যের জন্য স্থায়ীভাবে লেগে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। অন্যের সৎ পরামর্শ উপেক্ষা করেও ইনি নিজ পছন্দমত কাজকর্ম সম্পাদনেই আগ্রহী হবেন। পরমতের বিরুদ্ধাচরণ করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। স্বীয় স্বার্থের প্রতিই তার সমধিক দৃষ্টি থাকবে। তাই তার মতবিরুদ্ধ কোন কাজ তার ক্রোধকেই বাড়িয়ে তুলবে মাত্র। পক্ষান্তরে স্বীয় মতানুকুলে কোন কথা বা কাজ পেলে খুশি হতেও তার খুব সময় লাগবে না।
জাতক ভাবুক প্রকৃতির হলেও গাম্ভীর্যহীন হওয়ায় তার চিত্তচাঞ্চল্য ও অধৈর্য অতি সহজেই সবার দৃষ্টিগোচর হবে। তার আত্মবোধ ও ইন্দ্রিয়ানুভূতি প্রবল। তুচ্ছতম ব্যাপারেও ঈর্ষাপরায়ণ ও বিষাদভাবাপন্ন হয়ে পড়বেন। এজন্য কোন বিশেষ মনোভাবই তার দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হবে না স্নায়ু উষ্ণতা ভাবসম্পন্ন হওয়ায় কর্ম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজ ভাবেরও পরিবর্তন হবে দ্রুততর। কিভাবে কোন স্থানে কি কাজ করবেন তা নিজে অনেক সময় বুঝে উঠতে পারবেন না, অন্যেরা কি বুঝবে।
খুব বিবেচনা করে কর্তব্য সম্পাদনে ব্রতী হয়ে অধৈর্যের ফলে পরমুহুর্তে বিপরীত একটা কিছু করে ওঠা তার পক্ষে আদৌ বিচিত্র নয়।
ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে না ভেবে একগুঁয়েমীবশতঃ কোন কাজ করে বসা, সেটা ভাল মন্দ যাই হোক না কেন, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এইরূপ হঠকারিতার জন্য কোন সময়ে হয়ত বা সামান্য পরিশ্রমজনিত কোন কাজ অসমাপ্ত ভাবে ফেলে রাখাও তার পক্ষে অসম্ভব নয়। এজন্য সর্বসাধারণ্যে তাকে নিন্দাভাজনও হতে হবে সময় বিশেষে।
জাতকের নিকট কোন কাজই অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হবে না। কাজ যত দুঃসাধ্য হোক না কেন । অদম্য উৎসাহকারে তাতে প্রবৃত্ত হয়ে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে আসা তার পক্ষে বিচিত্র নয় সর্বোপরি ধীরস্থিরচিত্তে চিন্তা করে কোন কাজে অগ্রসর হওয়া তার পক্ষে স¤ভব নয়। কাজকর্ম, চিন্তা ভাবনায় তার থাকবে অহেতুক ব্যগ্রতা। খাওয়া পরা, চলাফেরা কোনটাই তিনি ধীরে সুস্থে করতে পারবেন না। সুস্থ মস্তিকে নিরিবিলি বসে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সব সময় একটা না একটা কাজ চাই । কাজ না থাকলে একটা গুছিয়ে নিয়ে তাতে মাথা খাটান বা শক্তি ব্যয় করা তার অভ্যাস । এরকম একভাবের অর্থাৎ একঘেয়েমি কাজ তার ভাল লাগেনা । এই হল তার প্রকৃতি। অন্যের শত-সহস্র উপদেশও তার মন ভিজবে না। কারো কাছে নিজের দৈন্য প্রকাশ করবেন না বা হেয় হবেন না। নিজের বুদ্ধিমত্তাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে প্রচার করতে চেষ্টিত হবেন। সমাজ-সামাজিকতা, ধর্ম-রাষ্ট্র বা যে কোন বিষয়ে স্বীয় মতের প্রাধান্য রক্ষা করার চেষ্টা ইনি আজীবন করবেন। শুধু এই একমাত্র কারণে পারিপার্শ্বিক অন্যান্য জনের সঙ্গে তার মতান্তর –মনান্তর হলেও ইনি পশ্চাদপদ হবেন না। স্বীয় মতের প্রাধান্য রক্ষা করা তার প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট। শান্তমনে বসে থাকা হয়ত বা তার কোষ্ঠীতে নেই, যাহোক একটা কিছু তার করা চাই । একটা কিছু নিয়ে মনকে পরিচালিত করতে ইনি সতত চেষ্টিত । মেষলগ্নে যে সব নরনারী জন্মেছেন অথবা মেষরারাশিতে যাদের জন্ম, তাদের নিজ জীবনকে উন্নত করার জন্য উত্তম সৎ স্বভাবসম্পন্ন সঙ্গীদের সঙ্গে চলাফেরা, মেলামেশা, সদগ্রন্থ অধ্যয়ন, সুচিন্তা, দৈবে নির্ভরশীলতা একান্ত কর্তব্য। স্বীয় পরিবার-পরিজনকেও উচ্চ ও সুশিক্ষায় শিক্ষীত করে তুলতে যত্নবান হতে হবে।

# কর্মদক্ষতা ঃ
একই ধরনের একই ভাবের দীর্ঘস্থায়ী কর্মসম্পাদন জাতকের অভিপ্রেত নয়। সে সব কাজ তার প্রীতিপ্রদও নয়। যে কাজের দ্রুত পরিবর্তন-পরিবর্ধন সম্ভব, সেটাতেই তার আকাঙ্খা প্রবল । কাজেই কোন ধারবাঁধা ছক-কাটা রুটিন মাফিক জীবন-যাপন তার প্রকৃতি-বিরুদ্ধ। জাতক সত্যিই ভয়লেশহীন, অন্তরের দৃঢ়তা-আত্মপ্রত্যয় তার প্রবল। চলারপথে যত বাধাবিপত্তি, প্রতিবন্ধক আসুক না কেন, সে সবকে তুচ্ছ মনে করে তাচ্ছিল্য ভরে পদদলিত করে যাওয়াই তার স্বভাব। শত-সহস্র প্রবল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ক্রমাগত সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়া এবং স্বীয় মতপ্রাধান্য রক্ষা করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ। কর্মক্ষেত্রে উদ্ভুত বিঘ্ন সমূহ দূরীকরণে যদি একান্ত প্রিয়ভাজন বন্ধুও বৈরী-ভাবাপন্ন হয় , তাতেও ইনি কোনরূপ দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না, জাতকের কর্মোন্নতি হবে বটে ,তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কর্মোন্নতির স্থায়ীত্ব রক্ষা করতে হলে জাতককে অবশ্যই হতে হবে নির্ভীক ,অধ্যবসায়ী ও কঠোর পরিশ্রমী। শত্রুভাব প্রবল। শত্রুবর্গ জাতককে সর্বপ্রকারে অবদমন করতে চেষ্টা করবে। পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সময়ে সময়ে তার উন্নতির প্রবল প্রতিবন্দক হয়ে দাঁড়াবে। তবে বিশেষ এই, জাতক আত্মপ্রত্যয়ী, অদ্ভুত মনোবলসম্পন্ন হওয়ায় কিছুতেই ভীতিগ্রস্ত বা পশ্চাদৎপদ না হয়ে বীরদর্পে সম্মুখপানে এগিয়ে চলবেন, সুষ্ঠ ও সূচারুভাবে স্বীয় কর্তব্য সম্পাদন করতে মনোনিবেশ করবেন । তবে বিভিন্ন ধরনের ঝঞ্ঝাটহেতু মাঝে মাঝে তার যথেষ্ট সময়ের অপব্যবহার হবে। অপরের সঙ্গে – পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে যাতে তার মনোমালিন্য না হয় এবং কোন ক্রমে পারিবারিক অশান্তি এসে উপস্থিত না হতে পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখল্ উন্নত হওয়া অসম্ভব নয় আদৌ।

# কর্মক্ষেত্র ঃ
সৈন্য বিভাগ, চিকিৎসা ব্যবসায়, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কর্মে, রাজনৈতিক কাজে, শাসন বিভাগে, কোন ধাতুজাত দ্রব্যের ব্যবসায়ে, রসায়নশিল্পে, অস্ত্রশস্ত্রাদির ব্যবসায়ে ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে জাতক যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দেবেন ও সুনাম অর্জন করতে পারবেন। উৎসাহদাতা বা পরামর্শক হিসেবেও ভাল করে থাকবেন।

# ভাগ্য ঃ
জীবনপথে চলতে আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা তার পক্ষে সত্যই কষ্টকর হয়ে পড়বে। জাতক আর্থিক বিষয়ে কোন সময়েই স্বয়ংসম্পূর্ণ বা নিশ্চিত হতে পারবেন না । ন্যায় অন্যায়, প্রয়োজন- নিষ্প্রয়োজন, কর্তব্য-অকর্তব্য বিচার করে অর্থব্যয় করাও তার পক্ষে সম্ভব হবে না । আবেগের বশীভূত হয়েই তিনি অধিকাংশ কাজ করবেন। অর্থোপার্জনের ব্যাপারে যাবতীয় কৌশল তিনি গুপ্তভাবে ই সমাধা করতে চাইবেন। কোন স্বজন বা নিকট আত্মিয়ের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির যোগ বর্তমান। পক্ষান্তরে স্বজনাদির জন্য অতর্কিতে অর্থব্যয়ের ও প্রবল থাকবে। কোন ব্যবসায়ে মূলধন লাগিয়ে অব্যবস্থিত-চিত্তের জন্য আশানুরূপ অর্থপ্রাপ্তিতেও যথেষ্ট বাধার যোগ বর্তমান। আর্থিক বিষয়ে বিবিধ বিপত্তির সম্ভাবনা প্রবল। কাজেই ধীরভাবে সাতিশয় বিচার বিবেচনা করে ও সতর্কতার সঙ্গে সব কাজ সমাধা করা অবশ্য কর্তব্য। একই ভাবে সুখভোগের আকাঙক্ষা বিড়ম্বনা মাত্র। ভাল-মন্দ সুখ-দু:খের ইতর-বিশেষ মাঝে দেখা দেবে।

# পরিণয় ঃ
কৃষ্ণা তৃতীয়া অথবা শুক্লা দশমী তিথিতে জন্ম অথবা বৈশাখ-ভাদ্র-কর্তিক-পৌষ মাসে জাতপুরুষের সঙ্গে মেয়ের, মেয়ের সঙ্গে পুরুষের বিবাহ বন্ধন স্থাপিত হলে মনে সাম্যভাব বজায় থাকা খুবই সম্ভব এবং এতে দাম্পত্য জীবন সুখের হবে। স্ত্রী বা পুরুষ বিনয়ী, স্নেহাদ্র ও সৎ মনোভাবাপন্ন হলে মতানৈক্যের সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত অল্প।

# পরিবার ঃ
বংশ- গৌরব ও পারিবারিক শৃঙ্খলার উপর সাতিশয় সতর্ক হলেও স্বীয় রুচির বিরদ্ধাচরণ করা তার পক্ষে বস্তুতই অসম্ভব। এতে জাতকের মানসিক শান্তি অনেকাংশেই বিঘ্নিত হতে পারে। আত্মীয় -স্বজনাদির সঙ্গে যথেষ্ট সদ্ভাব ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। নিজে স্নেহপরায়ণ হবার ফলে আত্মীয়-স্বজন ও সন্তান সন্তুতির উপর অপরিমিত স্নেহাধিক্য কোন সময়ে বিশেষ কোন কার্যে ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভবনা। পুত্র-কন্যাদির বিবাহ নিশ্চিন্তে-নির্বাভনায় সম্পন্ন হবে না। বিঘ্নের সম্মুখিন হতেই হবে।

# স্বাস্থ্য ঃ
জাতকের দেহ হবে বায়ূ ও পিত্তপ্রধান প্রকৃতিবিশিষ্ট,ফলে স্বভাবে একটা অহেতুক রুক্ষতার ভাব সর্বদাই পরিলক্ষিত হবে। বংশগত কোন বিশেষ ব্যাধি ছাড়াও মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে রোগ ভোগের সম্ভাবনা প্রবল। মনকে স্থির ও প্রকৃতিস্থ করে রাখবার জন্য সঙ্গ ও কর্ম -পদ্ধতি বিশেষ বিচার- বিবেচনা সহকারে নিজ হতেই নির্বাচন করে নিতে হবে ,যাতে কোন রকম মনঃস্তাপ ইত্যাদি এসে মনোবৈকল্য উপস্থিত না হয়। মুক্ত আলো-বায়ূযুক্ত স্থানে মনোরম গৃহে বাস স্বাস্থের পক্ষে হিতজনক, গুরুপাক, রুক্ষদ্রব্য, যাবতীয় মাদকদ্রব্য, চা,- তামাক, ধূমপান ইতাদি সজত্নে পরিত্যাগ করতে হবে। লঘুপাক দ্রব্য ভোজন, উপযুক্ত নিদ্রা ও সৎ পরিবেশে বসবাস স্বাস্থ্যরক্ষার একমাত্র প্রকৃষ্ট উপায় সর্বদা নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে স্বাস্থসম্মত নির্দেশনাদি পালন ও ধর্ম-কর্ম পালনকরলে স্বাস্থ্য ও মন উভয়ই সুস্থ থাকবে।

# প্রণয় ঃ
যেসব জাতক-জাতিকার জন্মতিথি কৃষ্ণা তৃতীয়া অথবা শুক্লা দশমী অথবা যাদের জন্মমাস বৈশাখ-ভাদ্র-পৌষ এসব জাতক-জাতিকার সঙ্গে এদের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব হতে পারে। বন্ধুলাভ অনেক ঘটবে, কিন্তু তাদের দ্বারা পারিবারিক ও বৈষয়িক জীবনে বহুবার প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্থ হবার সমুহ সম্ভাবনা; সেজন্য বন্ধু নির্বাচনে যথেষ্ট বিবেকবান হতে হবে। অন্তরঙ্গ বন্ধু বান্ধবাদির নানারূপ অসুবিধা দর্শনে চিত্ত চাঞ্চল্য উপস্থিত হতে পারে। সেদিকেও সবিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

# বিবিধ ঃ
জাতক স্বীয় কর্তৃত্বে সমাজ-সামাজিকতা, আত্মীয়-স্বজন ও জন্মভূমির প্রতি অত্যাধিক পরিমাণে মমতা বিশিষ্ট হওয়ায় এসবের জন্য শারীরিক পরিশ্রম ও অর্থব্যয় করতে কার্পণ্য করবেন না। রহস্যজনক ব্যাপার, আধিভৌতিক বিষয়, যাবতীয় গুপ্তবিদ্যা জানবার দিকে তার আগ্রহ থাকবে, কিন্তু এই জাতকের পক্ষে এগুলো মঙ্গলকর নয়। দেশ ভ্রমণ যোগ বেশ কয়েকবারই দেখা যায়, কিšতু জাতককে সতর্ক থাকতে হবে সব সময়। কারণ ভ্রমণকালে আকস্মিক বিপদ উপস্থিত হয়ে জাতকের সমগ্র জীবনকে এলোমেলো করে দিতে পারে। সে জন্য প্রথম থেকেই যথেষ্ট সাবধান হন।

# বর্ণ ঃ
অসুস্থ থাকাকালীন কোনরূপ উজ্জল বর্ণ ব্যবহার করবেন না। সুস্থ থাকা অবস্থায় গেরুয়া রঙ, চাঁপা ফুল, সোনালী, হালকা লাল রঙ ব্যবহারে শ্রীবৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যোন্নতি হবে।
# মেষরাশি মঙ্গলের (লক্ষণ) ঃ
পুরুষ ভাবাপন্ন, বলবান যুবকের মতো।
# মেষরাশি মঙ্গল কি চায় ঃ
মঙ্গলের লক্ষণ হল তার তীব্র গতি। মঙ্গলের দশা হল চরৈবেতি, তখন তাকে এগোতেই হবে, যে কারণেই হোক। সুন্দর, সুসংবদ্ধ গতি এবং উন্নতি দেওয়াই মঙ্গলের বৈশিষ্ট।

# মেষ রাশির জন্মকথা (গ্রিক)
গ্রিকদের যুদ্ধ এবং মহামারীর দেবতা এরিস। সে ছিল হেরা এবং জিউসের পুত্র। তার স্ত্রী ছিল আফ্রোদিতি। রোমানরা এরেকসে সম্পৃক্ত করেছিল মার্সের সঙ্গে। নেপিলির পুত্রের নাম ছিল ফ্রিক্সাস। সুন্দরী দেবী বিয়াডিসকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ফ্রিক্সাসের বিরুদ্ধে। ফ্রিক্সাস নিজেকে নির্দোষ দাবি করেও রেহায় পায়না। মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয় তাকে। কিন্তু ফ্রিক্সাস আসলেই ছিল নির্দোষ। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার সময় দেবতা মারকিউরি (বুধ) একটি সোনার ভেড়াকে পাঠিয়ে দেয় ফ্রিক্সাকে রক্ষা করার জন্য। ফ্রিক্সাস প্রাণে বেঁচে যায় এবং এই সোনার ভেড়া তাকে অনুরোধ করে তাকে দেবরাজ মার্সের উদ্দেশে কোরবানি দেয়ার জন্য। সেই থেকে মেষের যাত্রা।

# রত্নঃ হলুদ বর্ণের পোখরাজ ,(ক্র্যাম্বার,) হীরা, প্রবাল হিতকারী।
# মেষ জন্মমাস অনুযায়ী মূল: স্বর্ণচাঁপা অথবা রক্তকরবী
# মেষরাশি প্রতিকঃ অগ্নি [যোদ্ধা বা অগ্রগামী]
# মেষরাশি সদৃশ্য /সঙ্গীঃ সিংহ, তুলা, মিথুন
# শুভ ধাতুঃ লোহা/ইস্পাত, তামা (সোনা,সীসা আজীবনের শুভ ধাতু)
# মেষরাশি মূল (মঙ্গল): অনন্ত মূল
# শুভ গ্রহ/শাসকঃ মঙ্গল
# ভাগ্য নিয়ন্ত্রক গ্রহঃ বৃহস্পতি
# শুভ রঙঃ লাল, নীল, সবুজ, বেগুনী, সাদা
# বৈশিষ্ট্যঃ আগ্নেয়, উদ্যমী, আবেগপ্রবণ, কৌতুহলী, ইতিবাচক, কর্মতৎপর, মনোলোকবাসী।
# প্রভাবকারী গ্রহঃ মঙ্গল
# মেষরাশি মঙ্গলের খাদ্যঃ ডিম, মাংস, দুধ, অতিরিক্ত মশলা, উত্তেজক খাদ্য/পানীয় সর্বদা বর্জনীয়। নারিকেল ও পিত্তপ্রশাসক খাদ্য হিতকর।
# মেষরাশি মঙ্গলের ব্যাধিঃ *পিত্তবিকৃত পীড়া, প্রদাহ, বসন্ত,হাম, রক্ত আমাশয়, *অর্শ, ভগন্দর, প্রস্রাবের যন্ত্রণা, বাধক, অনিয়মিত অপরিমিত রক্তস্রাব, *অস্ত্রাঘাত, অগ্নিদাহ, চর্মরোগ, রক্তক্ষরণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, *ঠান্ডা জাতীয় রোগ, ব্যানবায়ূ।
# মেষরাশি মঙ্গলের ঔষধিঃ অনন্তমূল, লতাজাতীয় গুল্ম।
# বিবর্তনঃ
মানব জীবনে নিরবচ্ছিন্ন সুখ আদৌ সম্ভব নয়। অশান্তি, রোগ-শোক, বাধাবিঘœ প্রমুখ অসুবিধা এসে পড়তে পারে। আবার সুখশান্তি, কর্মোন্নতিও পরিলক্ষিত হয়। এতে হর্ষ বা বিষাদের কিছু নেই। নির্দিষ্ট সময় অন্তে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে থাকে। সমভাবে এটাকে উপভোগ করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কর্তব্য। অশুভ প্রতিকারার্থে উল্লেখিত বর্ণাদির ব্যবহার ও যথাবিহিত শাস্ত্রসম্মতভাবে মণি-রত্নাদি ধারণ, যপ-তপ, ধর্ম-কর্ম, সুন্দর-সাবলীল চলাফেরা , দৈব অনুকুল হয়।

# মেষরাশি গুণঃ
মেষ উদার শ্রেণীর মানুষ। এরা অর্থের পুরোপুরি সদ্ব্যব্যবহার করার চেষ্টা করে। অন্যের কষ্টে এরা ব্যথিত হয় এবং যথাসাধ্য সহানুভূতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। এদের নৈতিক এবং শারীরিক শক্তি প্রবল। কেউ নিপীড়িত হচ্ছে বুঝতে পারলে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করে তার পাশে দাঁড়াতে এবং অন্যায় দেখলে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে তার প্রতিবাদ করতে। তারা সৃষ্টিশীল, খোলামনের এবং প্রাণবন্ত।
*মেষ রাশির লোকদের বড় গুণ হচ্ছে এরা উদ্যমী ও উৎসাহী, মনের দিক দিয়েও এরা বেশ শক্ত। কাজকে এরা ভয় পান না, তা সে যে কাজই হোক না কেন। ব্যক্তিত্বও এদের প্রবল এবং দায়িত্ববান। এদের ওপর কোন কাজের ভার দিলে নিনিশ্চন্ত থাকা যায়। সমস্যায় ভীত হন না। এদের চারপাশে থেকে যারা কাজ করেন তারাও যথেষ্ট উৎসাহ পান।

# মেষরাশি দোষঃ
*অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাস অনেক মেষকে অথৈ সাগরে ফেলে দেয়। দিºিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে অনেক অপকর্ম করে বসে তখন। একরাশ হতাশা তখন এমন ভাবে তাকে গ্রাস করে যে, পরাজয়ের ভয়ে জীবনের বাকি কাজগুলো করার ইচ্ছে তার থাকে না।
*বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে থাকে এবং অসহনীয় এক পরিস্থিতি তারা নিজেরাই সৃষ্টি করে।
*মেষের আর একটি খারাপ দিক হচ্ছে এদের প্রত্যাখ্যান ভীতি। সঙ্গত কোনো কারণ না থাকলেও এদের ধারণা সবাই তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পছন্দ করে। এ কারণে প্রতিটি কাজ তারা নিজেরা সমাধানের চেষ্টা করে। আর এ কারণে তারা অনেক সময় প্রত্যাখ্যানকে বেছে নেয় প্রতিরোধ অথবা প্রতিশোধ হিসেবে।
*মেষের আর একটি বড় দোষ হচ্ছে এরা সোজা চলতে পছন্দ করেন। ফলে এই জটিল সংসারে অনেক সময়ই এরা বিপদাপন্ন হন। সমস্যায় পড়েন। আবার সমস্যাকে সমস্যা মনে করেন না বলে সব কিছুই আবার গুবলেট করে ফেলেন। অনেক মেষ লোকই নিজের বোঝাকেই সবচেয়ে বড় মনে করে। ফলে অন্যের কোনো কথাই কোনো অজুহাতেই শুনতে চান না।
*ক্রোধ আরেকটি বড় দোষ। একবার ক্রোধান্বিত হলে এরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য আর মারাত্মক বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন।
*বার বার পেশা/সিদ্ধান্ত বদল ও অধৈর্যতা [দ্রুত ফললাভের আশায়] এদের সমূহক্ষতি ও আনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
* প্রায় সময় নিজের কাজ ফেলে অন্যের কাজ করার ঝোঁক থাকার ফলে নিজেকে ক্ষতির সম্মুখে ঠেলে দেয়।
* বেশি শাসন মেষকে শিশুকে অবাধ্যতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

# মেষরাশি মন্দ দিকঃ
মেষ প্রায়ই অধৈর্য, অহংকারীও অনেক সময়। শুধু তাই নয়; হিংসা, হিংসুটে আর ভীষণ রকম একরোখা।
# মেষরাশি উপদেশঃ
মেষকে মিতব্যয়ী হতে হবে শেষ জীবনের ঝামেলা এড়ানোর জন্য। ধৈর্যশীলতাও চর্চা করতে হবে এবং হামবড়া মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে। কোনো কাজের আগে অভিজ্ঞ দু’একজনের মতামত নিলে অনুশোচনায় ভুগতে হবে না।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: