News Updates

Home » ব্লগ » ভালবাসার জন্ম কোথা – ২

এখন দেখা যাক ভালবাসা কতরকমের হতে পারে।
প্রধাণতঃ আমরা তিন রকমের ভালবাসা দেখতে পাইÑকর্তব্যময়ী, সাময়িক বা স্বার্থময়ী এবং প্রেমময়ী।
পরম করুণাময় আল্লাহ্ তা’লার সৃষ্টি কৌশল এমনি কতকগুলি নিয়মে গড়া যে তার ব্যাতিক্রম হবার উপায় নেই। এর রহস্য মূল খুঁজে পাবার মত সাধ্য তো দূরের কথা সাহসও খুব চিন্তাশীল-ব্যাক্তিই করতে পারেন। তাই পথিমাঝে যেয়ে শেষে বলতে বাধ্য হয়েছেন- প্রকৃতির নিয়মে গড়া এই সৃষ্টি জগত। এই জগতের একটী প্রাণীর সঙ্গে অন্যটির সম্বন্ধ এমনি ঘোরতর, যেন মহান এক কর্তব্যের বেড়াজালে ঘেরা, এবং এই বেড়া জাল ডিঙিয়ে অথবা একে বাদ দিয়ে চলার মত ক্ষমতা সৃষ্টিকূলের নেই। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, বিচার বুদ্ধিশালী। পৃথিবীর আদি-মানব হজরত আদম(আঃ) যখন খোদার আদেশে বেহেশত থেকে পৃথিবিতে আসেন, তখন থেকেই এই কর্তব্যময়ী বেড়াজালে আবদ্ধ হন। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় আজীবন তিনি এই গন্ডির ভিতর চ’লে তাঁর সন্তান দিগকে এই সুমহান শিক্ষা দিয়ে গেছেন। যে মানুষ প্রকৃতির নিয়মের বাইরে যেতে পারে না। তিনি নিজে সন্তান দিগকে অপত্য- স্নেহে পালিত, শিক্ষিত এবং দীক্ষিত করেছিলেন,তাঁর সন্তানেরাও তেমনি আবার নিজেদেও সন্তান দিগকে লালন-পালন শিক্ষা-দীক্ষা করেছিলেন। প্রত্যেক পিতা-মাতাই আপন-আপন সন্তাদেও প্রতি যে স্নেহ-মমতা দেখায়ে থাকেন তারই নাম ‘কর্তব্য ময়ী-ভালবাসা। এটা শুধু মানুষ-জীবজগতই এর অধীন।
শৈশব থেকে কৈশোরের শেষ সীমা পর্যন্ত মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গাদীর বৃদ্ধিও সঙ্গে সঙ্গে মনের আশা-ভরসা বাড়তে থাকে। সুশিক্ষা এবং সৎ সঙ্গেও অভাবে অথবা সাময়িক- দুর্বিপাকে নানারকম বাধা পায় এবং সবচেয়ে নীচু-স্তওে নামতে শুরু করে। এই নীচ-মনা -সমাজের প্রত্যেকটী মানুষ চায় সরল, কোমল-প্রাণ নবীন দিগকে তাদেও দলে আনতে। কিং কর্ত্যব্য বিমূঢ়ের মতই তখন সরল-প্রাণ তরুনেরা ক্রমাগত মোহের বশে ঐ শ্রেনীর লোকের শরণাগত হয়। সাময়িক-ভাবে এরা যথেষ্ট সহায়তা অবশ্য পেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে ধনী বা সম্পন্ন পরিবারের ছেলেরাই বেশী সুযোগ পায়। কারণ গরীবের ছেলেরা শৈশব থেকেই সংসারের প্রবল ধাক্কা খেতে খেতে যৌবনের প্রথম সীমায় এসে পড়ে। ধনীর ছেলেরা যখন ভরা-যৌবনের অফুরন্ত-আনন্দ উপভোগ করে, গরীবের ছেলেরা তখন রোদে পুড়ে, পানিতে ভিজে সারাদিন হাড়-ভাঙ্ড়া খাটুনির পরিবর্তেও দৈনিক উদরান্নের সংস্থান করতে সব সময় সক্ষম হয় না। প্রতিবেশী ধনীরা এমনই অন্ধ যে তারা এদের দুঃখে বরং আনন্দিত হন এবং অতি তাচ্ছিল্যতার সঙ্গে এদের আবশ্যকীয় অমূল্য জীবন প্রদীপ দরকার মনে করলে বিলেতী- জুতোর ঠক্কোরে দূরে সরায়ে দিয়ে অথবা নিভিয়ে দিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। এদেও জীবন যে কত মূল্যবান, এরাও যে খোদারই সৃষ্ট, একই পথের পথিক, অথবা বাস্তব জগতে প্রতি পদক্ষেপেই যে গরীবেরা ধনীদিগকে সহায়তা করে, রাস্তা চালিয়ে নেয়, প্রতিপালন করে, তাদের মহামূল্য জীবন ধারণের প্রতিটী উপকরণই যে এরাই উৎপন্ন করে তাও তাদেও অবিদিত নেই। শুধু ধনেশর্যের অংকার, মিথ্যা-দুনিয়ার প্রলোভনে পড়েই নিজেদের ভবিষ্যৎ তথা গরীবদেও সর্বনাশ করতে তৎপর হন। যার জন্য আজ লক্ষ লক্ষ লোক গরীব, অন্ন-বস্ত্রহীন, আশ্রয়হীন, সারাদিন অক্লান্ত-পরিশ্রমের ফলেও পেটপুরে খেতে পায়না দরকার মত পরতে পায় না। পক্ষান্তরে এদেরই রক্ত শোষণ করে ধনীরা গড়েন প্রেমের সমাধি এবং পাকিস্তানীরা ইডেন গার্ডেন। নশ্বর ধরাধামেই তাঁরা চান স্বর্গীয় প্রেমের উদ্যান রচনা করতে। ফলে সেখানে জুটে নানারকম পেশাদার নীচ-স্বভাবের লোক। মাত্র কার্যোদ্ধরের জন্যই তারা এই সব ধনী – সন্তানেদের সঙ্গে মিশে নানা অবৈধ কাজে যোগ দেয় এবং শেষে সরকারের বিচারে দোষী সাবাস্ত হয়। অপর দিকে ধনীর ছেলেরা অর্থের সাহায্যে সাময়িক ভাবে রেহাই পেয়ে থাকেন। এই শ্রেণীর স্বার্থ-পূর্ণ সাময়িক মেলামেশার নামই ‘সাময়িক বা স্বার্থময়ী ভালবাসা’।
এটা খোদারই মেহেরবাণী যে তাঁর অনন্ত দাতা এবং দয়ালু নামের মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্যই পুরুষ এবং স্ত্রী দু’টী পৃথক শ্রেনী তৈরী ক’রেছেন। এই উভয়ের শুভ মিলনেই তো দুঃখ-ভরা পৃথিবীতেও মানুষ স্বর্গ রচনা করে একে অন্যের দিকে চেয়ে।

মানব জীবন মাঝে যত কিছু চাওয়া
শুভ- এ মিলনে যায় সবটুকু পাওয়া।
আদম (আঃ) হইতে শুরু ঐশী এ দান
যুগে যুগে লভে তাই আদম – সন্তান।
নারী – নেয়ামত – সুধা নর করে পান
প্রেমের সমাধী তার রচে শা’জাহান।

প্রেম পবিত্র,স্বর্গীয় এবং খোদার দান। সৃষ্ট জগতে যা’ কিছু আছে সবই সেরা জীব মানুষের হিতার্থে এবং ভোগ ও মনোরঞ্জনের নিমিত্ত। পুরুষের জন্য নারীই দুনিয়াতে সব চেয়ে বড় নেয়ামত। তাই হজরত (সঃ) বলেছিলেন দুনিয়াতে মাত্র তিনটি জিনিষই তাঁর পছন্দণীয় ছিল। নামাজ, নারী এবং খুশবু (সুগন্ধ)। নারীর জন্য পুরুষের কাছে তার অটুট স্বাস্থ এবং অসীম শ্রম সামর্থ সব চেয়ে বড় মূল্যবান। এ দু’য়ের মহামিলনে মিলে অপার-আনন্দ, আনে বিপুল সুখ ও স্বর্গীয় প্রেমের পবিত্রতায় মর্তলোকেও পূণ্যধাম গড়ে ওঠে। এই দুই অভেদাত্মার মহান প্রেমের আদর্শবলীই অজানা-স্বর্গীয় পথের দীপ শিখায় দিক ভ্রান্ত মানবের মনকে ফিরিয়ে আনতে শত প্রেরণা জাগায়। তাই এর নাম “প্রেমময়ী ভালবাসা”।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: