News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: সিংহ রাশি)

(২১ শে জুলাই-২১ শে আগষ্ট) [ভাদ্র]

সিংহরাশিতে জন্মগ্রহণ করলে সেই ব্যক্তি স্বীয় উদরভরণে সন্তুষ্ট, রাগান্বিত, মাংস লোভী, নিবিড় অরণ্য ও গুহায় ভ্রমণরত, বন্ধুহীন, কপিলবর্ণ চক্ষুবিশিস্ট,উচ্চ বক্ষস্থলবিশিষ্ট, ক্ষুধাতুর, যুবতী সেবাপরায়ণ ও পন্ডিত হয়ে থাকে।
# রাশি স্বরূপঃ
সিংহরাশি পুরুষ, স্থিররাশি। অগ্নিতত্ত্ব, দিবা-বলি,পীতবর্ণ, রুক্ষগাত্র, পিত্তপ্রকৃতি, উষ্ণসভাব।
# সিংহ কেমনঃ
সিংহরাশির জাতকরা (পুরুষরা) পৌরুষদিপ্ত ও মহিলারা গ্রেসাস হয়ে থাকে। এদের মাথাভর্তি চুল থাকে ও তা সাধারণত কোঁকড়ানো যায়। দেহ ঋজু, শক্ত কাঠামোর। সুস্বাস্থের অধিকারী হয়ে থাকেন। উজ্জল রং এদের প্রিয়। মেরুদন্ডের ও হার্টের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। এরা উদার হয়ে থাকেন। নেতৃত্ব এদের স্বভাজাত। এরা প্রশাসক ও সংগঠক হয়ে থাকেন।
# প্রকৃতিঃ
জাতক সৌন্দর্যপ্রিয়, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অভিমানী, গাম্ভীর্যপূর্ণ, স্নেহপরায়ণ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন। তিনি বিশ্বাসী, এ জন্য সাধারণের প্রিয়পাত্র হয়ে সব ক্ষেত্রে সব বিষয়ে কর্তৃত্ব করার সুযোগ পাবেন এবং যোগ্যতা থাকায় সকল বিষয়ে ও কর্ম সূচারুরুপে নিষ্পন্ন করায় যথেষ্ট সুনাম অর্জন করবেন। উচ্চাকাংক্ষা ও নেতৃত্ব করার বাসনা সর্বদাই হৃদয়ে পোষণ করবেন। স্বীয় সারল্য ও ঔদার্যগুণের প্রভাবে তার পক্ষে তা সম্ভবও হবে, সর্বসাধারণ তাকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে ধারণা করবে। স্নেহাধিক্যবশঃত প্রিয়পাত্রের জন্য ইনি কুন্ঠিত হবেন না।
পোষাক পরিচ্ছদ, বসন-ভূষণ, বাড়ি – ঘর, আসবাব পত্র, বিলাসিতার দ্রব্য, খাদ্য ইত্যাদি সবই তার উত্তম হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং কিছুই নিজ রুচি অনুযায়ী করে নিতে চাইবেন। এতে অর্থ ব্যয়েও ইনি কুন্ঠিত হবেন না। পরিণামে এই ভোগবিলাসের দিকে যাতে অত্যাধিক ঝোঁক এসে না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন, নতুবা প্রচুর অবনতী ঘটতে পারে। চিত্র, সঙ্গীত, অভিনয় ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ থাকবে। সুনিদৃষ্ঠ কোন আদর্শকে অবলম্বন করে ইনি কাজ করতে চাইবেন। স্বীয় উদ্দেশ্যজাত আদর্শবান কর্মসম্পাদন মনোনিবেশ করে ইনি সযতেœ তার শ্রীবৃদ্ধি সাধনের চেষ্টা করবেন। কোনরূপ বাধা-বিঘœ বা নিন্দা-স্তুতি তাকে আদর্শ বা সঙ্কল্পচ্যুত করতে পারবেন না। জাতক স্বমতে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী, কোনরূপ বিরুদ্ধ যুক্তি-প্রমাণে তার ধারণার পরিবর্তন –পরিবর্ধন সম্ভব নয়। আধ্যাতিক সাধনার দিকে একবার মোড় নিলে,তা থেকে তাকে বিরত করা যাবে না। ক্রমে সাধকে পরিণত হবার প্রবল সম্ভবনা। কারণ ভক্তি-বিশ্বাস-অধ্যবসায় শক্তি তার প্রবল।
নিজ ইচ্ছামত ইনি যে কার্যে প্রবৃত্ত হবেন,দৃঢ় চিত্তে তা সম্পাদন করে যাবেন, সে কাজ ভাল মন্দ যাই হোক না কেন। এই মনোভাব নিয়ে উচ্চপথে অগ্রসর হলে জীবনে সবিশেষ উন্নতি হবার যোগ থাকবে। পক্ষান্তরে কুপথে পরিচালিত হয়ে চরম অবনতি হওয়াও বিচিত্র নয়। জাতক সরল অন্তকরণ বিশিষ্ট, ইনি কোন গোপন বিষয় পছন্দ করেন না। একটু সচেষ্ট হলে জাতক সহজেই নিজের ভূল-ত্র“টি সংশোধন করে নিতে পারবেন। স্নেহপরায়ণ এই জাতক পাত্রপাত্রী বিচার করে ভালবাসেন না। সহজেই অপরের বাক্যে বিশ্বাস স্থাপন করে তার উপর সহানুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়বেন। এর ফলে অসৎ পাত্রে বিশ্বাস স্থাপন করলে তার দ্বারা প্রতারিত হওয়া আদৌ অসম্ভব নয়। এভাবে দু‘চারবার প্রতারিত হয়ে সৎপাত্রেও জাতক বিশ্বাস হারাতে বাধ্য হবেন এবং এভাবে বারবারক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে তার মানসিক বৈকল্য দেখা দেওয়াও বিচিত্র নয়। এজন্য পরিণামে হয়ত জগৎ-সংসারের অন্য কাউকে আর সুদৃষ্টিতে দেখবেন না।
সৌন্দর্যের প্রতি জাতকের সহজাত আকর্ষণ থাকবে, ইনি স্বীয় ঘর-বাড়ি, আসবাব-পত্র, গৃহসজ্জাদি সুন্দর ও মনমতো করে নেয়ার চেষ্টা করবেন। স্বীয় ও পরিবার-পরিজনের জন্য সুদৃশ্য ও উত্তম পোষাক-পরিচ্ছদাদি ব্যবহার করতে চেষ্টিত হবেন এবং তজ্জস্য সাধ্যানুসারে অর্থব্যয় কার্পণ্য করবেন না। উত্তম ও উপাদেয় খাদ্য সংগ্রহে চেষ্টিত হবেন। উচ্চাকাঙক্ষা সর্বদা জাতকের মনে জাগরুক থাকায় ইনি সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টিত হবেন। এই উচ্চমনের গতিআধ্যাতিক বিষয়ে বা কোন উচ্চ দৃষ্টান্তে পরিণত হলে সবিশেষ উন্নত হওয়াও আদও বিচিত্র নয়।
জাতক ধীর – স্থির ও গম্ভীর প্রকৃতিসম্পন্ন। সরাচর কোন ব্যাপারে চঞ্চল হয়ে উঠবেন না। যদি বা হঠাৎ কোন কারণে রেগে উঠেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না, পরক্ষণে ইনি শান্ত হয়ে পড়বেন। কোন কারণ বিশেষে কারও উপর নেয়ার আকাঙক্ষা হলে সেটা হীনভাবে না নিয়ে বেশ মার্জিতভাবেই শিক্ষিতজনের মতই নিতে চেষ্টা করবেন। গোপনে কারও ক্ষতি না করে প্রকাশ্যে শত্রুতাসাধনেই ইনি যত্নবান হবেন। অবশ্য অপরাধী দোষ স্বীকার করলে তাকে আবার বুকে টেনে নেবেন, ভুলে যাবেন তার কৃত সব অপরাধ-অন্যায়, দোষ-ত্রুটি।
জাতক ধৈর্যপরায়ণ, শত বাধা-বিঘ্ন যাই আসুক না কেন তার কর্মক্ষেত্রে, স্বীয় রুচিসম্মতভাবে ধৈর্যের সঙ্গে সূচারুরূপে সব কাজ সম্পাদন করতে ইনি যত্নবান হবেন। বিশ্বাস করে তার উপর যদি কোন কর্মভার অর্পণ করা যায়, তাহলে ইনি সোৎসাহে তা নিস্পন্ন করবেন। কাজ অসম্পূর্ণ রেখে বিশ্রাম কবা তার রুচিবিরুদ্ধ। ইনি চান আরদ্ধ কর্ম সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করে বিশ্রাম নিতে। যে কাজই তার প্রতি ন্যস্ত হোক না কেন , শত বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে ইনি পূর্ণোদমে সে কাজ নিষ্পন্ন করবেন। সেরূপ শক্তির উদ্যম, উৎসাহ, কর্মদক্ষতা, মানসিক ধৈর্য্য তার চরিত্রে সতত বর্তমান।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও প্রাধন্য বজায় রাখার প্রতি ইনি সর্বদা সচেষ্ট হবেন, সামাজিকতার দিকে তার ততটা লক্ষ্য থাকবে না। নিজের মতে অন্যকে আনার, অপরকে আকৃষ্ট করার, স্বীয় মতানুযায়ী করার আগ্রহ তার প্রবল; তবে বিশেষ এই, তিনি নিজের স্বতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়ে কারও অধীনতা স্বীকার করতে চাইবেন না। তিনি একাকী থাকতে ভালবাসেন, যদি না মনের মত সঙ্গী না পান। সব বিষয়ে সর্বদা নিজে বড় ও মহৎ হয়ে থাকার আকাঙক্ষা মনে পোষণ করবেন। সর্বসধারণের নিকট নিজেকে উচ্চতম আসনে আসীন রাখার প্রতি ইনি সর্বদাই যত্নবান থাকবেন, তা প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে যাই হোক না কেন।
জাতক ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টা, ভবিষৎ বিষয়ে তার চিন্তা প্রবল ; বর্তমানে তিনি সন্তুষ্ট নহেন। বর্তমানে ইনি যে কাজে ব্যাপৃত আছেন, এর চেয়ে কি করে ভাল কাজ করতে পারবেন, কি করে অধিকতর উন্নত হতে পারবেন, কোন প্রণালীর জীবনযাত্রায় নিজেকে জগতে আদর্শস্থানীয় করে তুলতে পারবেন, তদ্বিষয়ে ইনি সর্বদা প্রাণপণ যত্ন করবেন এবং এজন্যই বর্তমান কাজের প্রতি এর যথেষ্ট লক্ষ্য থাকবে না। ফলে বিশেষ উন্নতি করাও তার পক্ষে অসম্ভব হবে ‘হাতের একটি পাখী বনের দশটার সমান’। নিশ্চিত কর্ম পরিত্যাগ করে আকাশ-কুসুম চিন্তা করলে অবনতি হবে প্রতি পদে। অতএব নিশ্চিত কর্ম সম্পাদনে প্রসিদ্ধি লাভের আশা করাই যথার্থ বুদ্ধিমানের কর্তব্য। ভাবপ্রবণ এই জাতক সৎ সঙ্গ ও সৎ কর্ম নির্বাচন করে তাতে অধ্যবসায় সহকারে মনোঃসংযোগ করলেই সবিশেষ উন্নত হতে পারবেন।
# কর্মদক্ষতাঃ
স্বীয় যোগ্যতায় অন্যের কোনরূপ সাহায্য না নিয়ে সুনাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভে জাতক সমর্থ হবেন। সব বিষয়ে সংযমী, অধ্যবসায়ী, ধীর-স্থীর ও সুচিন্তাশীল হয়ে স্বীয় কর্তব্যকর্মে অবহেলা না করেন। যেসব কাজে বিশেষত্ব ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন সম্ভব, তেমন সব কাজেই জাতকের প্রবণতা থাকবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, খাদ্যদ্রব্যের ব্যবসায়, কৃষিকাজ, ফার্ম – নার্সারী – বাগান, বক্তৃতা, অভিনয়, চিত্র, সঙ্গীত, বিবিধ শিল্পকর্ম এ সবই জাতকের প্রিয় হবে এবং এ সবের কোন বিষয়ে হাত দিয়ে জাতক যোগ্যতার পচিয় দেবেন এবং সমাজে শ্রেষ্ঠ ও গুণী ব্যক্তি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করবেন। সর্বোপরি যেসব কাজে আত্মতৃপ্তি সম্ভব, গুণীজনদের প্রশংসা পাবার যোগ্য, এরূপ উত্তম কার্যসমূহ সম্পাদনেই জাতকের সমধিক আগ্রহ বিদ্যমান।
# কর্মক্ষেত্রঃ
সচিব পর্যায়ের কাজে এরা সবচেয়ে দক্ষ হয়ে থাকে। কারিগরি কাজেও। সুচারু রূপে কোনো কিছু করা এদের প্রধান গুণ।
# ভাগ্যঃ
আর্থিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে, এমনকি সংসারিক ব্যয় নির্বাহও কষ্টকর ও দুঃসাধ্য হয়ে পড়তে পারে; কিন্তু তা হবে ক্ষণস্থায়ী। এজন্য সময়ে দশ্চিন্তাগ্রস্থ হতে হলেও যথেষ্ট ধৈর্য্যসহকারে সবকিছু উপভোগ করাই বিধেয়। দেশ ভ্রমণ, গৃহভূমি, গৃহসাজ ও সাংসারিক ব্যাপারে অতিরিক্ত ব্যয়রাহুল্য পরিলক্ষিত হয়। দৈবদুর্বিপাকে বেশ অর্থ ক্ষতি হবার সম্ভাবনা। অর্থের প্রতি মমতাসম্পন্ন না হওয়ায় সঞ্চয়ের প্রতি তেমন আকর্ষণ থাকবে না। আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভের আশায় জনকল্যাণ মূলক কোন কর্যে সঞ্চিত যৎকিঞ্চিত অর্থ ও ভূসম্পত্তি দান করাও জাতকের চরিত্রে অসম্ভব নয়। অবশ্য তিনি যদি সন্তান-সšতুতির জন্য সামান্য কিছু রেখে বাকীটা কোন জনকল্যাণমূলক কর্মে উৎসর্গ বা দানপত্র সম্পাদন করে দিয়ে যান, তাহলে কেউ আশ্চর্য হবেন না। পক্ষান্তরে দানসূত্রে অন্য কোন স্থান হতেও ইনি প্রভূত ধন-সম্পত্তি পেতে পারেন মধ্যবয়সে: তবে জীবনের শেষভাগ এর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়েই কাটবে, অস্তগামী সূর্যের তেজ যেমন প্রখর নয়; তেমনি সিংহরাশিজাত ব্যক্তির ভাগ্যও শেষ জীবনে স্তিমিত হয়ে পড়বে।
# পরিণয়ঃ
বৈশাখ, চৈত্র, ভাদ্র ,পৌষ বা ফালগুন মাসে যেসব নর-নারীর জন্ম অথবা জন্মতিথি কৃষ্ণা সপ্তমী, চতুর্দশী, অমাবশ্যা, শুক্লা ষষ্ঠী বা ত্রয়োদশী, এরূপ মেয়ে বা ছেলের সঙ্গে বিবাহ হলে দাম্পত্যজীবন সুখময় হবে। দম্পতিযুগল পরস্পর প্রগাঢ় স্নেহশীল হলেও খুটিনাটি বিষয় নিয়ে মতদ্বৈততা হওয়ায় সময়-বিশেষে এক – আধটু মতান্তর – মনান্তর হতে পারে। তবে তাও হবে ক্ষণস্থায়ী। বিষয়-আশয় বা বন্ধু-বন্ধবের জন্যও দাম্পত্যজীবন অশান্তিময় হতে পারে। এমন কি সময়ে এসব ব্যাপারে অন্যের প্রতি উদাসীনতা দেখা দিতে দেওয়ায় স্নেহের বন্ধন সাময়ীকভাবে শিথিল হয়ে উভয়ের পক্ষে কিছুকাল বিচ্ছিন্নভাবে (বিচ্ছেদ নয় ) থাকা অসম্ভব নয়। তবে দম্পতিযুগল সর্তক হয়ে বিচার-বিবেচনা সহকারে সংসারী হলে পারিবারিক জীবন সুখময় হবেই।
# পরিবারঃ
জাতকের সন্তানাদি অল্প হওয়া খুবই সম্ভব এবং যারা হবে তাদের জন্যও তাকে চিন্তাগ্রস্থ হতে হবে। কারণ জাতকের কোনরূপ বিকৃতাঙ্গ বা অদ্ভুত প্রকৃতির সন্তান হতে পারে । পিতার বিদেশ ভ্রমনকালে আকস্মিক কোনরূপ দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে জীবন বিপন্ন হবার সম্ভাবনা বর্তমান। শৈশবেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিতৃবিয়োগ যোগ । মাঝে মাঝেই পিতামাতা বা গুরুজনদের জন্য অর্থব্যয় ও কর্ম-বিঘœ উৎপাদিত হবে। সাংসারিক ব্যয়-বাহুল্যের জন্য তাকে মাঝে মাঝেই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হতে হবে। উত্তরাধিকারীসূত্রে প্রাপ্তব্য পৈত্রিক সম্পত্তি বন্টনকালীন বিবাদ-বিসম্বাদ হবেই।
এমনকি, জাতক যদি এ ব্যাপারে বিরক্ত হয়ে অন্য কারও নিকট নামমাত্র মূল্যে সম্পত্তি বিক্রয় করে দেন তাহলে আশ্চর্য হবার কিছইু নেই। স্বজন ও বন্ধুবর্গের প্রতি স্নেহাধিক্য হলেও অনিদৃষ্ট কারণে তাদের প্রতি বিরাগ হয়ে মনোমালিন্য হওয়াও বিচিত্র নয়। এদের সংসর্গে জাতকের জীবনে এমন কোন ঘটনা সংঘটিত হতে পারে, যার ফলে মানসিক অশান্তি ভোগ করতে হবে সারা জীবন।
# স্বাস্থ্যঃ
জাতক বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী হবেন নিঃসন্দেহে। তবুও কোন পীড়াগ্রস্থ হয়ে দীর্ঘকাল কষ্টভোগ করবেন। নানারূপ উৎকট ব্যাধিও হতে পারে, যা সাধারণ চিকিৎসায়-বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে নিরাময় না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দৈব বা আধ্যাতিকতার এবং মানসিক চিকিৎসায় আরোগ্য হবে। মানসিক অসান্তি যাতে না আসে এবং রক্তচলাচলে কোনরূপ বিঘœ সৃষ্টি না হয় , সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখবেন। মানসিক প্রফুল্লতা বজায় সতত অপরিহার্য।
সৎসঙ্গবাস, সৎচিন্তা, আধ্যাতিক ঙ্গীতাদি শ্রবণ, মনেরম দ্রষ্টব্য স্থান দর্শন, সুস্বাদু সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ ও উত্তম স্থানে ও পরিবেশে পরিভ্রমণ স্বাস্থ্য ভাল রাখার একমাত্র উপায়। অসুস্থ অবস্থায় গেরুয়া ও লাল রংয়ের ব্যবহার অবশ্য কর্তব্য। খাদাদি বিষয়ে তরল পদার্থ যথাসম্ভব বর্জন করার চেষ্টা করবেন। আহার-বিশ্রাম-নিদ্রা, পরিমিত মৈথুনাদি এবং অসৎসঙ্গ বর্জন বিধেয়।
# প্রণয়ঃ
যাদের জন্মমাস বৈশাখ, পৈাষ বা ভাদ্র এবং শুক্লা ষষ্ঠী বা ত্রয়োদশী কিংবা কৃষ্ণা চতুর্দশী, সপ্তমী ও অমাবস্যা তিথিজাত নরনারীর সঙ্গে অটুট বন্ধত্ব হবে এবং এটাই প্রীতিপ্রদ ও শুভদায়ক হবে। বিভিন্ন প্রকৃতির লোকের সঙ্গে মিত্রতা হতে পারে । তবে যাচাই করে বন্ধু-নির্বাচন করা ভাল ।কারণ বন্ধু-বান্ধবের সংস্রবে চরিত্র, সম্মান ও সুযশ হানির যোগ বর্তমান। বন্ধুদের সঙ্গে কখনও মনোমালিন্য হতে পারে। এ বিষয়ে সর্তক তাকতে হবে। সর্বসাধাণ তাকে ভালবাসবে,যথেষ্ট অনুচর সর্বদা তাকে পরিবেষ্টিত করে থাকবে, তাদের দ্বরা উপকারের পরিবর্তে অর্থক্ষতি ও গুপ্তশত্র“তা সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে সাবধান হতে হবে। ব¯তুতঃ বন্ধুভাগ্য শুভ নয়।
# বিবিধ ঃ
দেশভ্রমণ যোগ বহুবার । কার্য্যপদেশে, তীর্থগমন বা প্রবাস বিনিমিত্তে প্রায়ই পথে যাতায়ত করার প্রয়োজন হবে, কিন্তু জলপথে, জীবনের সমূহ আশঙ্কা বিদ্যমান। স্থলপথে গমণাগমনই জাতকের পক্ষে নিরাপদ। সময়ে দীর্ঘদিন বিদেশবাসের প্রয়োজন হবে। জাতক আদর্শ প্রেমিক হল্ওে প্রেমপাত্রির সঙ্গে এক ভাবে সুদীর্ঘকাল টিকে থাকা হয়ত সম্ভব হবে না, এজন্য তাকে মাঝে মাঝে দুঃখভোগ করতে হবে। প্রণয় পাত্রীর সাময়িক বিচ্ছেদ, কিংবা তার রোগ-বিয়োগ অথবা অপর কোন দুর্ঘটনাজনিত জাতককে বিশেষ মনঃকষ্ট ভোগ করতে হবে। প্রণয়-পাত্রীর জন্য কোনরূপ কলঙ্ক অর্জন করাও অসম্ভব নয়।
# বর্ণঃ
বিবিধ প্রকার বিচিত্র বর্ণ, আকাশের ন্যায় নীল রঙ, বহুবিধ মিশ্র রঙ, জাতকের পক্ষে মঙ্গলজনক ও আনন্দবর্ধক। সবুজ রঙ সবসময় অকল্যা বয়ে আনবে। অসুস্থ অবস্থায় গেরুয়া ও লাল রঙ ব্যবহারে সুফল পাবেন।
# সিংহ (রবি) লক্ষণঃ
পরুষ ভাবাপন্ন, বলবান যুবকের মতো।
# সিংহ (রবি) কী চায়ঃ
রবি রজোগুণী গ্রহ। সম্মান, যশ, প্রতিষ্ঠাÑসবই রবি দেয়। অর্থাৎ রবির উজ্জল থাকলে আপনার বাড়ি-গাড়ী সবই হবে। আপনাকে সমীহ করবে সব্বাই। রবি সর্বদা আপনার মনের মধ্যে বলবে আমি রাজা হতে চাই। নীচস্থ রবি উদ্যমকে নষ্ট করে দেবে।
# সিংহ রাশির জন্ম কথা (গ্রীক)
নিমিয়ান সিংহ অতি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে সাধারণ জনগণের জন্য। এমনকি দেবতারাও তটস্থ থাকেন নিমিয়ানের ভয়ে। বহু বছর ধরে বহু চেষ্টা চলে নিমিয়ানকে বধ করার জন্য। কিন্তু কোনো ফায়দা হয় না। যে যায় সিংহ মারতে সেই যায় তারপেটে। দেবতা জিউসের জারজ পুত্র বিধায় হারকিউলিসকে দেবী হেরা ভীষণ ঘৃণা করতো। তার চাওয়া ছিল নিমিয়ানকে দিয়ে হারকিউলিসকে হত্যা করানো। হেরা হারকিউলিসকে বলে নিমিয়ানকে মেরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য। হারকিউলিস নিমিয়ামের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং তাকে হত্যা করে। শুধু তাই নয়। এই পরক্রমশালী সিংহের চামড়া দিয়ে হারকিউলিস বর্মও তৈরী করে ফেলে! এই ঘটনাকে স্মরণীয় রাখার জন্যে জিউস রাতের আকাশে নিমিয়ামের একটি মূর্তি স্থাপন করে।

# রত্নঃ চন্দ্রকান্তমণি (চুনী), হীরা ,ওপাল, স্বর্ণক্ষেত্র বৈদুর্যমণি।
#প্রতকিঃ প্রেমিক বা রাষ্ট্রপ্রধান
# সঙ্গীঃ ধনু, মষে, মথিুন
#ধাতুঃ র্স্বণ,
# সংখ্যাঃ ১
# বৈশিষ্টঃ গর্বিত, উদার, আস্থাবান, উদ্যমী, নিয়ন্ত্রণকামী, কর্তৃত্বপরায়ণ।
# সিংহ (রবির) খাদ্যঃ নিরামিষ খাদ্য হিতজনক। সবরী কলা, বেল, দুধ, ডিম ঘৃত উপকারী। চর্বি ও উত্তেজক খাদ্য ক্ষতিকর।
# সিংহ (রবি) ব্যাধিঃ মস্তিষ্কের রোগ, হৃদকম্প, গাত্রকম্পন, অস্থিপীড়া, প্লীহা.
# সিংহ (রবি) ঔষধিঃ বেগুন, আদা, জায়ফল।

# বর্বিতনতঃ
মানব জীবনে নিরবচ্ছিন্ন সুখ আদৌ সম্ভব নয়। অশান্তি, রোগ-শোক, বাধাবিঘœ প্রমুখ অসুবিধা এসে পড়তে পারে। আবার সুখশান্তি, কর্মোন্নতিও পরিলক্ষিত হয়। এতে হর্ষ বা বিষাদের কিছু নেই। নির্দিষ্ট সময় অন্তে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে থাকে। সমভাবে এটাকে উপভোগ করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কর্তব্য। অশুভ প্রতিকারার্থে উল্লেখিত বর্ণাদির ব্যবহার ও যথাবিহিত শাস্ত্রসম্মতভাবে মণি-রত্নাদি ধারণ, যপ-তপ, ধর্ম-কর্ম, সুন্দর-সাবলীল চলাফেরা , দৈব অনুকুল হয়।
# সিংহ রাশির গুণঃ
কোনো রকম অন্যায় ধামকির কাছে সিংহ মাথা নত করে না। সময় ও সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে। অন্রের কষ্টে এরা ব্যথিত হয় এবং যথাসাধ্য সহানুভ’তি প্রর্দশনের চেষ্টা করে। এদের নৈতিক ওশারীরিক শক্তি প্রবল। কেউ নিপীড়িত হচ্ছে বুঝতে পারলে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করে তার পাশে দাঁড়াতে এবং অন্যায় দেখলে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে তার প্রতিবাদ করতে। এরা খোলামেলা, বিশ্বস্ত ও উদার হয়।
# সিংহ রাশির দোষঃ
এ রাশির জাতক/জাতিকা অতিমাত্রায় বিশ্বাস প্রবণ। এরা শত্রুর কথা যেমন বিশ্বাস করে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে, তেমনি মিত্রের কথায় বিশ্বাস করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কোনো রকম যাচাই-বাছাই করে দেখে না। একের পর এক তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে থাকে এবং অসহনীয় এক পরিস্থিতি তারা নিজেরাই সৃষ্টি করে। বিচারক হিসেবে এরা ভালো নয়, কারণ গায়ের জোরে এবং আবেগের বশে অনেক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, যা উত্তম বিচারকের বৈশিষ্ট নয়।
# উপদেশ
মাননীয় সিংহ আপনি হয়তো জানেন না সমাজে আপনার শত্রু সংখ্যা অনেক। আর এতো শত্রু সৃষ্টির জন্য আপনি নিজেই দায়ী। আবেগপ্রবণ হয়ে অনেক সময় এমন কাজ করেন এবং এমন কথা বলেন যে, আপনার অনেক বন্ধুও মহাশত্রু হয়ে যায়। ভেবে চিন্তে কথা বলুন এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করুন। আপনি মাঝে মাঝে একাকিত্ব বোধ করে থাকেন। পরিবেশ বদল করুন মাঝে মাঝে। কান এবং মাথার যত্ন নেবেন। আপনার এ দু’টি প্রত্যঙ্গের ওপর চাপ পড়ে থাকে।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: