News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: মিথূন রাশি)

# মিথূন রাশি

(২১শে মে-২০শে জুন) [আষাঢ়]

এই রাশিতে জন্মিলে জাতক মৃদু গতিসম্পন্ন, স্থিরগাত্র, পঠনকালে স্পষ্ট বাক্যযুক্ত, পরোপকারী, পন্ডিত, ক্রুরান্তঃ-করণবিশিষ্ট, মলিনবেশধারী, বাতশ্লেষ্মা প্রকৃতিসম্পন্ন ও গীতবাদ্যাদিতে অনুরক্ত হয়ে থাকেন ।

# মিথুন রাশি স্বরূপ ঃ

মিথুনরাশি *পশ্চিমদিকস্বামী, বায়ুতত্ত¡ ,শুককান্তি (শ্যামবর্ণ ,মতান্তরে মুব্রবর্ণ ), দ্বিপদ, পুরুষরাশি, চরস্থির উভয় স্বভাব, বিষমোদয়, মধ্যপ্রজ ও মধ্যসঙ্গ, বনচারী, শূদ্রজাতি, দীর্ঘরব, øিগ্ধকর, দিবাবলী ও উগ্রপ্রকৃতি ।

#মিথুন রাশি কেমন

এদের দ্বৈত সত্তা প্রবল। এদের মন এত দ্রুত বদলায় যে, চাকরি, সঙ্গী কিংবা ঠিকানা সবই বদলে ফেলতে পারে খুব সহজে। বাস্তবতা এবং কল্পনার আদ্ভুদ সংমিশ্রণ হয় তারা। রক্ষণশীল হলেও এরা অস্থির। এদের চোখ সুন্দর হ্য।কিন্তু সেই চোখ বেশিক্ষণ এক জিনিসের উপর স্থির রাখতে পারে না। এরা খুব দ্রুত বন্ধুভাবাপন্ন হয়। এদের বুদ্ধিমত্তা প্রখর হওয়াতে যুক্তিতর্কে হারানো কষ্ট। মিথুন মহিলারা দেখতে চমৎকার এবং বুদ্ধিদিপ্ত বৈশিষ্টের অধিকারী। এরা যেকোনো কাজে সিদ্ধহস্ত।

একই সাথে এরা অনেক কাজ করতে সক্ষম। এদের কোনও রুটিনে ফেলাটাই বিপদ।যেকোনো অনুষ্ঠানে দেরি করে পৌঁছানো এদের স্বভাবজাত।প্রতিনিয়ত প্রিবরতন-উত্তেজনা এদের আকর্ষণ করে। লেখা লেখি বিশেষ পছন্দ। এরা আজ যা পছন্দ তা কাল নাও করতে পারে। এরা সৎ মিথ্যা বলেনা। কল্পনার জাল বোনে।এদের দুর্বলতা পা এবং পিঠ। আথ্রাটাইটিস, রিউমেটিক সমস্যা ছাড়াও মানসিক সংকটে ভোগাও এদের জন্য শাভাবিক। এদের সবই বাধাগ্রস্ত হয় তার অস্থিরতার কাছে।

# প্রকৃতি ঃ

জাতক প্রায়ই মেধাবী , আনন্দপ্রিয়, আত্মপ্রশংসা বিলাসী, সুক্ষèবুদ্ধিসপ্নন্ন ও সমালোচক হয়ে থাকেন। সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, নৃত্য-গীতাদিতে তার সহজাত আকর্ষণ থাকবে । অন্যান্য বিষয়ও আয়ত্ব করার দিকে তার ঝোঁক লক্ষণীয়। স্বভাবজাত বুদ্ধিপ্রভাবে সহজেই সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন তাই বহু বিষয়ে জ্ঞানার্জন জাতকের পক্ষে অসম্ভব নয়। জাতক আগ্রহশীল ও তীক্ষèবুদ্ধিসম্পন্ন, কিন্তু চাপল্যবশতঃ কোন বিষয়েই সম্যক পরিচয় দিতে অসমর্থ হবেন। একই ভাববিষয়ক কাজকর্মে দীর্ঘদিন মনোনিবেশ করে সূচারুভাবে সম্পন্ন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় । কারণ জাতকের চিন্তা সর্বদা অধৈর্যে পরিপূর্ণ।

জাতকের প্রতিটি কাজকর্ম, চিন্তা-ভাবনার দ্রুত পরিবর্তন-পরিবর্ধন চাই। পারিবারিক, সামাজিক, বৈষয়িক ও ভূমিসংক্রান্ত ব্যাপারেও তার নিত্য নতুনত্ব প্রয়োজন। প্রতিটি বিষয়ে কিছুু না কিছু বিবর্তনের । বহু বিষয় নিয়ে থাকা ও সুশৃঙ্খলভাবে তার সম্যক পরিচালনা করা জাতকের বৈশিষ্ট। এই বিষয়ে তিনি যথেষ্ট ক্ষমতাবান। বিভিন্ন রুচিবৈচিত্র্য জাতককে বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে নিয়ে যেতে চাইবে । এ জন্য জাতক কোনবিষয়েই গভীর ও সম্যক জ্ঞানার্জনের অবসর পাবেন না । বিবাদ-বিসম্বাদ জাতক আদপেই ভালবাসেন না। কোন বিবাদ- কলহের সূচনা হলে উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে সহজেই মিটিয়ে ফেলবেন । জাতকের লৌকিক ব্যবহার সত্যই অতীব সুন্দর। সাধারণের তরে ব্যবস্থা, মতামত সহজেই মেনে নেবে। সর্বদা বিরোধ- বিরোধী এই জাতক হাসি –খুশী, আনন্দ- কোলাহলে থাকতেই আগ্রহী হবেন।

জাতকের চরিত্র দ্বৈত প্রকৃতিবিশিষ্ট। এ-দেশ সে-দেশ বেড়িয়ে বেড়ানই তার স্বভাব। কোন এক স্থানে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে তার মনে জড়তা এসে পড়তে পারে। এভাবে একই বাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাস করাও তার প্রকৃতিবিরুদ্ধ। ইনি সামর্থে কুলোলে দু‘চারটে পৃথক বাড়ি, রম্যকানন তৈরী করে রাখবেন। মাঝে মধ্যে সে সব স্থানে বসবাস করে চিত্তবিনোদনের প্রয়াস পাবেন। তেমনি ভাবে কাজও করবেন দু‘চার ধরনের একই সঙ্গে। জাতক প্রসংশার কাঙ্গাল, যেসব কাজে প্রশংসা ও খ্যাতি অর্জন স¤ভব, সেই সব কাজ, সেই সব সংসর্গ ইনি অধিক ভালবাসবেন। পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব তাব পক্ষে একান্ত প্রয়োজন। বিবেক দিয়ে প্রতিটি বিষয়েরই ভালমন্দ পূর্বাহ্নে বুঝে নিতে চেষ্টিত হওয়া কর্তব্য। জাতক সমালেচক, বাকপটু, বাগ্মিতাও তার যথেষ্ট রয়েছে। বাক্যবিন্যাসে সাধারণের মন আকৃষ্ট ও জয় করার যোগ্যতা তার চরিত্রে সমধিক বর্তমান এবং যে কোন বিষয়ের বিবাদ-বিসম্বাদ স্বীয় অকাট্য যুক্তি ও অভ্রান্ত প্রমাণ এবং বাকনৈপুণ্যে অত্যল্পকালের মধ্যেই মীমাংসা করে দিতে সক্ষম হবেন। তার বাক্য-বিন্যাস প্রণালী ওমধুর কন্ঠে সাধারণ মোহিত হয়ে সহজেই তার মীমাংসা মেনে নেবে।

জাতক আবেগ প্রবণ,যাই চিন্তা করুক না কেন, তাতে একেবারে তন্ময় হয়ে যবেন। তবে যদি কখনও ভাগ্যক্রমে উন্নতির দিকে বা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতায় মনেনিবেশ করেন  সহজেই উচ্চতম সোপানে আরোহণ করতে পারবেন। আবার বিপরিত লিঙ্গের প্রতি জন্মগত অত্যধিক আকর্ষণ বিধায় যদি কখনও অপরিমিত যৌনকর্ষণে মেতে যান, তাহলে তাকে দোষ দেয়া যুক্তিযুক্ত হবেনা । এটা ঘটলে  জাতকের জীবন  অবনতির দিকে ক্রমাগ্রসর  হয়ে চরমতম  দুঃখে নিপতিত  হতে  পারে ।

তেমনিই যদি কখনও জাতকের মন সৎকর্মানুষ্ঠানের দিকে ধাবিত হয়, অতিশয় উন্নতির যোগ সম্ভব। এজন্য স্বীয় স্বাতন্ত্র্য যথারীাতি বিসর্জন দিয়ে সৎসঙ্গের আশ্রয় গ্রহণ করলে ঐহ্যিক ও পরিত্রিক পরম উন্নতির যোগ পরিলক্ষিত হবে।

জাতকের প্রকৃতি দ্বিধাগ্রস্থ, পূর্বেও বলেছি। ইনি যেমন নির্জনতা-প্রিয়,তেমনি লোকসঙ্গও তার অপ্রিয় নয় । কাজকর্মে বাধাধরা নিয়ম যেমন ভালবাসেন ,তেমনি কালোপযোগী কর্মসংস্কারও ভালবাসেন, তেমনি কালোপযোগী কর্মসংস্কারও তার একান্ত কাম্য: কোন নতুন বিষয়কে ইনি সহজে পছন্দ করেন না বা সহজে মেনে নিতে চান না। সংস্কার ও সামঞ্জস্য তার প্রতিটি কাজকর্ম ও চিন্তা ভাবনায় বর্তমান। তবে বিশেষ এই, যে মত বা যে পথ তার মনে ভাল বলে মনে হবে, তাকে অভ্রান্ত ও বিধিনির্দেশিত মনে করেই ইনি তাতে রেগে তাকাবেন, কাজটি ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন। কারো যুক্তি-প্রমাণ বা শত বাধাবিঘœ কর্তব্যকর্ম হতে তাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারবেনা। সাধারণে তার চরিত্রও সহজে বুঝে উঠতে পারবে না, হয়ত বাইরে থেকে একে ক্ষমা করার আগ্রহী দেখালেও অন্তরে হয়ত ইনি অন্য উপায়ে শত্র“র ধ্বংস সাধনে ব্যাপৃত। এই দ্বৈত মনোভাবকে সুপ্রশস্থ সরল ও ন্যায়নীতির পথে পরিচালিত করতে না পারলে সংশয়াকুল হয়ে কখনও বুদ্ধিভ্রম এসে মনোজগতকে আছন্ন করে ফেলতে পারে। ফলে জীবনের উৎকর্ষ লাভ অপেক্ষা  অপকর্ষেরই সম্ভাবনা প্রবল । এজন্য জীবন অশান্তিময় হওয়াও বিচিত্র নয়। তজ্জন্য এসব বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা সহকারে যতারীতি বিচার-বিশ্লেষণ পূর্বক চলা একান্ত কর্তব্য।

প্রকাশ্যভাবে জাতকের যথেষ্ট কর্মদক্ষতা বিদ্যমান, পক্ষান্তরে চঞ্চলতা চপলতাও যে না আছে তা নয়। তার দৃষ্টি স্বীয় কর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সহজাত  সূক্ষèদৃষ্টির

প্রভাবে কাজের ক্ষুদ্রতম ত্র“টিও তিনি লক্ষ্য করতে পারেন। নিজ মতের বিরুদ্ধবিষয়ে কখনও দৃষ্টিপাত করবেন না। সামাজিক, বৈষয়িক, পারিবারিক সব ক্ষেত্রেই স্বীয় মতপ্রাধান্য বজায় রাখতে সচেস্ট হবেন। মতদ্বৈততার জন্য ইনি কোন কাজই তেমন উন্নতি করতে পারবেন না, কেননা ইনি চান দ্রুততর পরিবতৃন-পরিবর্ধন। যখন যে কাজে ব্যাপৃত হবেন, তখন সেটাকেই উপযুক্ত ও উত্তম বিবেচনা করবেন। কাজেই ধীরস্থির চিত্তে অধ্যবসায়ের সঙেগ কাজ করে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবেনা। এ বিষয়ে যথেষ্ট সর্তক হযে চিত্তচাঞ্চল্য যথাসম্ভব পরিহার করে ন্যায় ও উত্তম কার্যে স্থিরচিত্ত হতে না পারলে তেমন উন্নতির আশা নেই। দ্বিধাগ্রস্থ মনকে এক পথাবলম্বি করে কার্যরত রইলে জাগতিক উন্নতি অবশ্যম্ভাবী। লোকসমাজে প্রসিদ্ধিলাভও অসাধ্য নয়।

#  কর্মদক্ষতা ঃ

কর্মক্ষেত্রে গুপ্ত শত্র“বর্গ অথবা অধীনস্থজন আনারূপ অশান্তি ও বিঘেœাৎপাদনের চেষ্টা করবে। মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে জাতকের সম্মানহানি ঘটিয়ে তৎসঙ্গে কর্মবিপর্যয়ও ঘটাবে। তাই সর্তক হয়ে চলতে হবে । জাতক উচ্চাকাঙ্খি হলেও চপলতা ও অস্থিরতাবশতঃ সঠিক কর্মপন্থা অনুসরণ করা বা ধীরমস্তিষ্কে অধ্যবসায়সহকারে বিশেষ একশ্রেণীর কাজে মনোনিবেশ করা তার পক্ষে সম্ভব হবেনা । স্বাস্থ্যভঙ্গের  জন্যও মাঝে মধ্যে কর্মে বিঘিœত হবে কাজকর্মে সবিশেষ অভিজ্ঞতা বর্তমানেও কর্ম উন্নতিতে স্থায়ী যোগ পরিলক্ষিত হয়না । কখনও ভাল ,কখনও মন্দ এভাবে জীবন নাট্য অগ্রসর হবে । বহুবিধ বিষয়ে জাতকের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকবে। আইন চিকিৎসা, শিল্পকর্ম, সাহিত্য, দালালী, কারিগরী, কেরাণী, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে মনোযোগ দিলে জাতক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন। বস্তুতঃ মনকে স্থিতিশীল করতে পারলে, চিত্ত সংযত করতে পারলে সব বিষয়েই সম্যক যোগ্যতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে সুনাম অর্জন করা মিথুনের পক্ষে দুঃসাধ্য হবে না।

# কর্মক্ষেত্র ঃ

যোগাযোগ হচ্ছে এদের জন্যে সবচেয়ে উত্তম কর্মস্থল। সাংবাদিকতাও এদের প্রিয় পেশা হতে পারে। নতুনত্ব, থ্রিল ও নিত্যনতুন অভিজ্ঞতাই একমাত্র তাদের টেনে রাখতে পারে। এরা অভিনয়েও পারদর্শী হয়।

# ভাগ্য ঃ

জাতকের ভাগ্য সত্যি সত্যিই সুখ দঃুখ মিশ্রিত। কখনও ঐশ্বর্য, কখনও দারিদ্র, এদুটোই উপভোগ করতে হবে। অর্থকড়ির ব্যাপারে সতত নিশ্চয়তার অভাব পরিলক্ষিত হবে। স্বীয় ভূলত্র“টিবশতঃ অনর্থক অর্থের অপচয় হয়ে দৈন্যদশাগ্রস্থ   হয়ে মাঝে মধ্যে প্রচুর অস্বস্তি ভোগ করতে হবে। নিজ বুদ্ধিবলে জাতক প্রচুর অর্থউপার্জন করতে পারবেন । উপার্জন যথেষ্ট হবে, কিন্তু তা নিশ্চিন্তে উপভোগ করা যা অর্জিত সম্পদ রক্ষা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে স্ত্রী -পুত্র-কন্যাদির জন্য সম্পদের হানি ও  অর্থক্ষতি  হওয়া বিচিত্র নয়। তবে জাতক যে কোন অবস্থাতেই থাকুক না কেন , যেরূপ পারিপাশ্বিকতায়ই বসবাস করুন না কেন, স্বীয় বুদ্ধি ও কৌশলে প্রচুর অর্থোপাজনে সক্ষম হবেন।

# পরিণয় ঃ

শুক্লা অষ্টমী বা কৃষ্ণা প্রতিপদ তিথিতে যারা জন্মগ্রহণ অথবা আষাঢ় ,কার্তিক ,পৌষ, ফাল্গুন যাদের জন্মমাস,এরূপ পুরুষ বা মেয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাহটা বেশী বয়সে হতে পারে , বিবাহকালে কোনরূপ বিঘœ সৃষ্টি হলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। পরবর্তী জীবনে স্বামী অথবা স্ত্রীর মতান্তর মনান্তর মনকে অতিষ্ঠ করে তুলতে পারে । দম্পতি যুগলের মধ্যে মতের সামঞ্জস্য রক্ষা করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে । এতে সংসারে বেশ কিছু অশান্তির সৃষ্টিও হতে পারে । দীর্ঘদিন দম্পতি যুগল একত্রাবস্থান ত্যাগ করে বিছিন্ন অবস্থায় বসবাস করলে অনেক কম অশন্তি অনুভব করবে । এভাবে যৎকিঞ্চিৎ শান্তিতে থাকা সম্ভব হবে । অন্যথায় অধিকাংশ সময়ে খুটিনটি বিষয় নিয়ে মানসিক শান্তি বিঘিœত হবে। দম্পতিযুগল পরস্পর সহানুভূতিশীল ও স্ব স্ব দোষ ত্র“টি মুক্ত হলে সুখের মুখ দেখতে পাবেন।

# পরিবার ঃ

পারিবারিক অবস্থা খুব সুশৃঙ্খল নয়। তা নিয়ে প্রায়ই এক আধটু কলহ বিবাদ, অশান্তি পোহাতে হবে। নিজের একান্ত আকাক্সক্ষা না হলেও বিশেষ কোন ব্যাপারে মতদ্বৈততার জন্য পরিবার পরিজন হতে একসময়ে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। পারিবারিক বিশৃঙ্খলা কাজকর্মে অচলাঅবস্থা এনে দেবে। আত্মীয়স্বজন অগনিত হলেও তাদের প্রতি লোকাচারসম্মত মৌখিক ভালবাসা অপেক্ষা প্রকৃত হৃদয়াবেগ, নাড়ীর টান’ যাকে বলা হয় । অনেকটা  কম দেখতে  পাওয়া যাবে। সন্তান-সন্তুতির উপর যথেষ্ট øেহশীল হবেন । তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য অকাতরে অর্থ ব্যয় করবেন । সন্তানাদি সৎমনোভাবাপন্ন ও শিক্ষিত হবার সম্ভবনাই সমধিক । সংসার  বা পরিবার পরিজননের প্রতি ইনি মমতাসমপন্ন হলেও ক্ষেত্রবিশেষে চিত্তচাঞ্চল্যের জন্য যথেষ্ট অশান্তি উপভোগ করবেন।

# স্বাস্থ্য ঃ

অতিরিক্ত মস্তিষ্ক পরিচালনার ফলে  শিরঃপীড়া ও øায়ূদৗর্বল্যর আশঙ্কা  বিদ্যমান । পিত্তবায়ূর প্রবাল্যে চর্মরোগ, পেটের পীড়া ইত্যাদিও হতে পারে । যে কোন সামান্যতম রোগও জাতকের অসর্তকতার  ও উদাসিনতার ফলে ক্রমে কঠিন আকার ধারণ করতে পারে । চিকিৎসা  বিভ্রাটে ভূল চিকিৎসা হবার ফলে স্বাস্থ্যভঙ্গ হবার প্রবল যোগ বর্তমান। কাজেই রোগের প্রারম্ভে যথোচিত সুচিকিৎসা, নিয়মিত ¯œানাহার, নিদ্্রা, অল্প ব্যায়াম, পরিষ্কার , আলো বাতাস  যুক্ত মনেরাম স্থানে  বসবাস এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম ,মানসিক দুশ্চিন্তা ও পারিবারিক অশান্তি দূর করতে সচেষ্ট হবেন।

#  প্রণয় ঃ

যে সব লোকের যে কোন মাসের যে কোন পক্ষের প্রতিপদ বা অষ্টমী তিথিতে জন্ম অথবা জন্মমাস যাদের আষাঢ়, এদের  সঙ্গে জাতকের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব হবে , বন্ধু বান্ধব জুটবে অসংখ্য এর ভিতর  মুষ্টিমেয়  বুন্ধ বান্ধব সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে নিন  পুর্বাহ্নে, কারণ বন্ধু স্থানীয় কেউ সমস্যা শত্র“তাভাবাপন্ন হয়ে  অপকার করতে পারে , করবে। কাজেই বন্ধুত্ব নিয়ে সুখ দুঃখ উভয়ই ভোগ করা সম্ভব। এজন্য বিশেষ সর্তক হয়ে মেলামেশা ও ঘনিষ্ঠতা করা কর্তব্য । যাতে কোনরূপ। অশান্তি বা আকস্মিক উপদ্রব উপস্থিত না হয়।

# বিবিধ ঃ

জীবনে কয়েকবার দূরদেশ ভ্রমণ বা তথায় বসবাসের কারণ দেখা দেবে। অল্পকালীন ভ্রমণযোগও বর্তমান। বিশেষ কোন বিষয় উপলক্ষে তীর্থভ্রমণেরযোগ পরিলক্ষীত হয়। বস্তুতঃ দেশ-বিদেশ পর্যটনের যথেষ্ট সুযোগ জাতক পাবেন কিন্তু সতর্ক হয়ে না চললে পথিমধ্যে কিংবা প্রবাস কালে কোনরূপ অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে ।

#  বর্ণ ঃ

ছাই রং ও সর্ব্ববিধ উজ্জ্বল সবুজ রঙ শ্রীবর্ধক ও প্রীতিকর।

# মিথুনের লক্ষণ ঃ

(বুধ) বালক স্বভাবের,চপলমতি বালকের সঙ্গে তুলনীয়।

# মিথুনরাশি (বুধ) কেমন ঃ

ধীশক্তি, বাকশক্তি, বুদ্ধিবৃদ্ধি এবং কর্মকুশলতা বুধের লক্ষণ।

# মিথুন (বুধ) রাশির জন্ম কথা ঃ

মিথুনের জন্মরহস্য নিয়ে একাধিক তথ্য পাওয়া যায়। মিথুন রাশির প্রতীকে দুটি চরিত্র দেখা যায়। গ্রিকরা এই দুইজনকে বলে থাকে ক্যাস্টর এবং পলিডিউসেস। রোমানদের মতে হারকিউলিস এবং এপোলো। তাদের দাবি হচ্ছে দেবতা জোভ এই দুই ভাইকে রাতের আকাশে স্থাপন করেছে বিশ্বস্থতা এবং ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন স্বরূপ। কোনো কোনো মতের একজন ভাই একজন বোন। খ্রিস্টিয় মতে এদের একজন অ্যাডাম, অন্যজন ইভ।

#  রতœ ঃ

বৈদুর্যমণি, পান্না ধারন সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যজনক। ফিরোজা, অ্যাকোয়া।

# প্রতিকঃ যমজ, শিল্পি, আবিষ্কারক

# সঙ্গীঃ কুম্ভ, তুলা, সিংহ

# ধাতুঃ পারদ/রা্ং,হলুদ

# সংখ্যাঃ ৫

# বৈশিষ্ট্য ঃ

বায়বীয়/ বাচাল, অস্থির, বহুমুখী,চতুুর, উচ্ছাস, স্পষ্টরূপে প্রকাশক্ষম

# মিথুনের (বুধ) খাদ্য ঃ

দুগ্ধ,ফল, হিতকর। উত্তেজক খাদ্য ক্ষতিকারক।

# মিথুনের (বুধ) ব্যাধি ঃ

স্মৃতিশক্তিহীনতা, বাকশক্তিরোধ, তোতলামী, উন্মত্ততা, মৃগীরোগী, স্বরবিকৃতি, ক্লীবতা, অজীর্ণ, ভেদ, স্নায়ুবিকৃতি, শ্বাসকষ্ট।

# মিথুনের (বুধ) ঔষধি ঃ

বৃদ্ধদারক বা বিষধারকের মূল।

#বিবর্তন

মানব জীবনে নিরবচ্ছিন্ন সুখ আদৌ সম্ভব নয়। অশান্তি, রোগ-শোক, বাধাবিঘœ  প্রমুখ অসুবিধা এসে পড়তে পারে। আবার সুখশান্তি, কর্মোন্নতিও পরিলক্ষিত হয়। এতে হর্ষ বা বিষাদের  কিছু নেই। নির্দিষ্ট সময় অন্তে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে থাকে। সমভাবে এটাকে উপভোগ করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কর্তব্য। অশুভ প্রতিকারার্থে উলে­খিত বর্ণাদির ব্যবহার ও যথাবিহিত শাস্ত্রসম্মতভাবে মণি-রতœাদি  ধারণ, যপ-তপ, ধর্ম-কর্ম, সুন্দর-সাবলীল চলাফেরা , দৈব অনুকুল হয়।

# মিথুনের গুণ ঃ

মিথুন নৈরাশ্যবাদি নয়, দারুণ আশাবাদী। প্রতিটি ঘঁটনা এবং কাজের গুরুত্ব তারা বিবেচনা করে। এদের ইচ্ছাশক্তি প্রশংসনীয়। এদের একঘেয়েমি পছন্দ নয় তাই তাদের মাথা থেকে বের হয় সুন্দর সুন্দর চিন্তা আর কাজের সমাধান। এদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা চমৎকার। এরা সজ্জ্বন, সহানুভূতিশীল, চিন্তাশীল এবং কিছুটা রহস্যময়ী। কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী তাই এরা কথাকে কাজে রূপান্তর করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। এদের হাতে যেন জাদু আছে। ভাষা ব্যবহার জ্ঞান প্রখর। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে এদের তুলনা মেলা ভার। বুদ্ধিমান সহজে শিখতে পারে ও দক্ষতার সঙ্গে তার ব্যবহার করতে পারে।

# দোষ ঃ

এদের সন্দেহ বাতিক প্রবণতার জন্য অনেক সময় ঝামেলার সৃস্টি করে। ভাবগম্ভীর এবং বদমেজাজি হয়ে থাকে। সময়ে তারা যুক্তি মানেন না-যা তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়। অনেক সময় আগামাথা না ভেবে এমন কিছু করে বসে যার কোন দরকারই ছিলনা। তিলকে তাল বানাতে দারুণ ওস্তাদ।

# মন্দদিক

দ্বিধাগ্রস্ত, অপরিছন্ন, আত্মকেন্দ্রিক, অসাবধান, নিষ্ঠুর,শক্তি বা ক্ষমতা স্থায়ী নয়।

# উপদেশ ঃ

মিথুনের নার্ভস সিস্টেম খুবই সেনসেটিভ। অল্পতেই আঘাত পায় এ কারণে তারা কাজে মন বসাতে পারে না। আবেগকে দমন করুন। জীবনে প্রতিযোগীতার মূল্য অনেক বেশি। আবেগ আপনার সত্তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। কে কী বললো তার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক কাজ করে যান। শরীরের প্রতি যতœবান হোন

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: