News Updates

Home » ব্লগ » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: তুলা রাশি)

(২৩শে সেপ্টেম্বর-২২শে অক্টোবর)[কার্তিক]
অনতীদির্ঘ দেহবিশিস্ট, দানশীলতায় বন্ধুগণের সন্তোষকারী, অত্যন্ত বহুভাষী, জ্যোতিষজ্ঞ এবং ভৃত্যবর্গের প্রতি অনুরক্ত হয়ে থাকে।

১# রাশি স্বরূপ ঃ
তুলা পুরুষ ও চররাশি, বিচিত্রবর্ণ, সমোদয়, উষ্ণ স্বভাব, পশ্চিম দিকস্বামী, বায়ূতত্ত্ব, ¯িœগ্ধগাত্র, ¯িœগ্ধরব, বশ্য নহে, অল্পপ্রজ ও অল্পসঙ্গ, শূদ্র, উগ্র, দিবাবলী, দ্বিপদ ও সমধাতু।
২# তুলা কেমনঃ
দ্বিধা দ্বন্দ মানেই তুলা। তাদের আচরণ বৈপরিত্য প্রবণ। তীক্ষè বুদ্ধির অধিকারী। এরা অনেক সময় সরল। বলতে যতটা পছন্দ করে তেমনি পছন্দ করে শুনতে। অস্থির চিত্ত হলেও অলস। যদিও আশা করা হয় মাদন্ডের মতো ভাসাম্য বজায় রাখবে কিন্তু তা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। একই সময় তারা চমৎকার, মিষ্টি, গ্রেশাস তেমনি অপর দিকে বিরক্তিকর, ঝগড়াটে, গোঁয়ার, াস্থির, হতাশ এবং অবশ্যই দ্বিধাগ্রস্থ। লক্ষণীয় না হলেও এদেরকে দেখতে ভালো লাগে। এমনকি খুব রাগান্বিত অবস্থায়ও দেখে মনে হয় শান্ত। এদের মারাত্মক অস্ত্র এদের চমৎকার হাসি। যে কোনো আলোচনায় এরা প্রধান বক্তা। তারপর একনিষ্ঠ শ্রোতা, প্রয়োজনে পিসমেকার এবং পর মুহুর্তেই তর্কবাগীশ। প্রয়োজনে প্রচুর পরিশ্রম করে কিন্তু অলসতা এদের বড় বৈশিষ্ট্য। দ্বৈত সত্তা এদের মধ্যে এতটাই প্রবল যে কাছের মানুষরা তাকে ঠিকমতো চেনেও না। সেন্টিমেন্টাল, তুলারা প্রচুর কাঁদতে পারে আবার মুড ঠিক হলেই হয়ে যায় বসন্তের কোকিল। আবেগের এতো দ্রুত পরিবর্তন অন্য রাশিতে দেখা যায় না। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই এদের আবেগ হয় চুড়ান্ত। েেকানো ব্যাপারে তর্ক করা এদের স্বভাব। আপনি যা বলবেন তার বিপরীতে এরা কথা বলবেই। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে এরা এত অস্থিরতায় ভোগে যে, অন্যের জন্য এটা বিরক্তিকর। নিজেদের আচরণ বা কথাকে এরা অস্বীকার করতে পারে খুব সহজেই। বিশেষত, এরা যে বিপরীত আচরণ করে তারা মানতে চায় না। সংগীত, কবিতা মোটকথা শিল্পের প্রতি আগ্রহ প্রচন্ড। জন্মগত ভাবে প্রত্যেক তুলাই শিল্পী। তারা যদি বুদ্ধিমত্তা ও ভালোবাসাপূর্ণ হৃদয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারত তবে এদের নিয়ে গর্ব করা যেত।
৩# প্রকৃতিঃ
জাতক দয়াদ্রচিত্ত, জ্ঞানী, সঙ্গীতজ্ঞ, সামাজিক, আনন্দপ্রিয়, উচ্চাকাঙক্ষী, প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়, মনোভাব সম্পন্ন ও সূক্ষ্ম বিবেচক-বিষেক হয়ে থাকেন। জাতক øেহপরায়ণ ও মিষ্টভাষী, সেজন্য সর্বসাধারণের সঙ্গে মিলে তাদের প্রিয়পাত্র হওয়া আদৌ কঠিন হবে না। প্রচুর সুখ্যাতি লাভ করতে পাবেন। স্বীয় মতবিরূদ্ধে কাজ করেও ইনি প্রিয়তা অর্জন করবেন। উপস্থিত বুদ্ধি প্রবল, ফলে যে কোন স্থানেই, যে কোন অবস্থায় নিজেকে খাপ খাইয়ে প্রতিষ্ঠা লাভে সমর্থ হবেন। জীবনপথে চলতে অপরের সঙগ ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজনীয়। একাকী বা নিঃসঙ্গ অবস্থায় বসবাস করা অপেক্ষা অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে এবং তদনুযায়ী ভাগ্য গড়ে নিতে ইনি আগ্রহী। প্রতিদ্বন্দ্বীর ক্ষেত্রেও ইনি সম্যক বুদ্ধি ও কর্মশক্তির পরিচয় দিবেন। তবে অতি সূক্ষè বিষয়েও এর সতর্ক দৃষ্টি থাকার ফলে বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে তার সময়ে মতান্তর-মনান্তর হবে। জাতকের হৃদয় সর্বদা আনন্দে পরিপূর্ণ। ইনি সর্বদা প্রফুল্ল থাকবেন, কিন্তু সামান্যতম কারণেও এর চিত্তচাঞ্চল্য উপস্থিত হবে। যদিও রাগে অধীর হয়ে উঠেন, তবুও সে রাগ তার সাময়িক, পর মুহূতেই সব ভুলে যান।
জাতক সামাজিক, তার ব্যবহার নম্র ও মধুর, সামাজিক আচার আচরণ নিয়ম-শৃঙ্খলায় ইনি প্রবল পক্ষপাতী। যুগোপযোগী প্রচলিত নিয়ম-কানুনের বিরুদ্ধাচরণ ইনি আদপেই সহ্য করবেন না। এমনকি তার ব্যবহার্য পোশাক-পরিচ্ছদাদি পর্যন্ত বর্তমান কালোপযোগী, সুন্দর ও সুরুচিপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। জাতক সতত উচ্চাকাঙক্ষী, কিন্তু কিভাবে তার উচ্চাশাকে পরিপুর্ণ বাস্তবে রূপদান করবেন ,তা সম্যক বুঝে উঠতে পারেন না, প্রতিনিয়ত সংশয়ের আবর্তে এর চিত্তোদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এজন্যেই অন্য জ্ঞানীর পরামর্শ বা নির্দেশিত মত ও পথ ব্যতিত এর জীবনে উন্নতি সূদুর পরাহত। স্থির চিত্তে কোন কাজে লেগে থাকা তার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়, কিন্তু জাতক ধীরচিত্তে অভিনিশেসহকারে কোন কাজে লেগে থাকেন , তাহলে কোন নব্য আবিষ্কারও একে দিয়ে সম্ভব। একমাত্র চাঞ্চল্যই এর অবনতির মূল কারণ। জাতকের কর্মজীবনে যদি তেমন কোন উৎসাহী গুণী সহকর্মীর সংযোগ ঘটে, তবে ইনি জগতে প্রসিদ্ধী লাভ করতে পারবেন। তীক্ষèদৃষ্টি বশতঃ যে কোন কাজের ভাল-মন্দ-বিচারকালে ইনি দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে থাকবেন । মত পরিবর্তনও সহজেই সম্ভব।
জাতক যদিও ভাল-মন্দ বিবেচনাশীল, তবুও অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য তার দোষ-ত্র“টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন কিম্বা দেখেও এড়িয়ে চলবেন। এমনকি অশান্তি যাতে আরও বেড়ে না যায়, সে জন্য সকলের সঙ্গে মিলে মিশে আনন্দ কোলাহলে কাটাতে তাদের দোষ- ত্র“টিকে পরোক্ষে সমর্থন দান করবেন। জাতক উচ্চাকাঙক্ষী, কি করে জগতে উন্নত হওয়া যায়, এ চিন্তা সর্বদা তার চিত্তে জাগ্রত;
ফলে ক্রমোন্নতির প্রতি তার আন্তরিক আগ্রহ বিদ্যমান। ভাবী জীবনে যে-কোন প্রকারে ইনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবেন, এটা তার জন্মগত বদ্ধমূল সংস্কার। জাতক কর্মনিষ্ঠ,পরিম্রমী,পূর্বে বরেছি, একাকী কাজ করা অপেক্ষা দশের সং্গে মিলে-মিশে কাজ করাতেই এর প্রচুর আনন্দ। বিরামহীন অথবা পুরাতন পদ্ধতির কাজ তার অপ্রিয়। ইনি চান প্রাচীন রীতি অনুযায়ী যুগোপযোগী ভাবে প্রতিটি কাজের পরিবর্তন-পরিবর্ধন এবং স্বীয় মতলব মতান্যকে খাটিয়ে কাজ আদায় করা ও তাকে গড়ে তুলতে সাহায্য করা। নিজের হাতে কাজ করা অপেক্ষা লোক পরিচালনাতেই তার যথেষ্ট দক্ষতা থাকবে । জাতক বিলাসপ্রিয় ও ভোগ বৃত্তিপরায়ণ, কাজেই বিলাসবহুল সাজসজ্জা, আসবাবপত্র, উপাদেয় চর্ব-চেষ্য-লেহ-পেয় ইত্যাদির প্রতিতার সাভাবিক আকর্ষণ বর্তমান। পোষাক পরিচ্ছদ ও ব্যবহার্য যাবতীয় কিছু মহার্ঘ হবে। তবে জাতককে লক্ষ্য রাখতে হবে, তৎপ্রতি সবিশেষ লক্ষ্য রাখা। এতে জীবনে সর্বপ্রকারে অবনতি এসে পড়তে পারে। এ বিষয়ে পারিবারিক অশান্তিঅর্থক্ষয় ও ভগ্নস্বাস্থ্য হয়ে পড়াও বিচিত্র নয়। এটা নিশ্চিত যে ,জাতক যদি নিরলস পরিশ্রমসহকারে যথেষ্ট অধ্যবায়ী ও একাগ্রচিত্ত হয়ে কোন কাজে একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকেন এবং স্বীয় তীক্ষè বুদ্ধিপ্রভাবে কর্মজীবনকে পরিচালিত করতে যতœবান হন। তবে জগতে যথেষ্ট উন্নত ও জনপ্রিয় হবেন।
৪# কর্মদক্ষতাঃ
জাতকের কর্মজীবনে প্রচুর উন্নতি যোগ বর্তমান। তদানুরূপ সুযোগ-সুবিধা আপনা থেকেই এসে উপস্থিত হবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কোন গুণবান কর্মী তার কর্মজীবনে উপদেষ্টার ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং সময়োপযোগী যুক্তিযুক্ত সৎ পরামর্শ দিয়ে তাকে উন্নতির উচ্চতম সোপানে অধিষ্ঠিত করাতে সচেষ্ট হবে। আত্মীয়াদির মধ্যে বিশেষ কোন স্বজন দ্বারা উপকৃত হবার সম্ভাবনা বর্তমান, তার দ্বারা কর্মক্ষেত্রের নানাবিধ বাধা-বিঘœ অপসারিত হবে। এহেন সুযোগ-সুবিধা বর্তমান থাকা সত্ত্বেও স্বীয় সংশয়, চিত্তোদ্বেগ, চাঞ্চল্য ও ভবিষ্যৎ চিন্তা সম্বন্ধে যথেষ্ট তৎপর না হওয়ায় উন্নতি ও সুনাম অর্জন বিঘিœত হবে। পারিবারিক বিশৃঙ্খলা ক্ষেত্রবিশেষে উন্নতির প্রতিবন্ধক হবে। এ সব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। লোকপ্রিয় হবার আকাঙ্খা প্রবল বিধায় ইনি বহু জনকল্যানমূলক কাজ করবেন। উপস্থিত বুদ্ধি যে সব কাজে প্রয়োজন , সে সবের প্রতিও তার ঝোঁক থাকবে। আইন, শিক্ষকতা, ব্যবসা-বানিজ্য বিষয়ক কাজে জাতকের দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যাবে। জনবহুল স্থান ও যে সব কাজ মহৎ, বহুজনসংশ্লিষ্ট, অন্যকে পরিচালনা করা যায়, সেসবই তার আকাঙ্খিত। বস্তুতঃ ধৈর্য্য-সহকারে কর্মে লেগে থাকলে কর্মজীবন উন্নতিই বলা চলে।
৫# কর্মক্ষেত্র ঃ
এরা মূলত সৌন্দর্যের পূজারি বলে সৌন্দর্য সম্পর্কিত পেশা বা কারখানায় এরা ভালো করতে পারে। যেমন-ফ্যাশান, মেকআপ শিল্পী, ফটোগ্রাফী, কসমেটিক ইন্ডস্ট্রি। এরা ভালো ক’টনীতিকও হতে পারেন। বিশেষ করে জনসংযোগ সম্পর্কিত পেশা। ফলে সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা পেশায়ও এরা স্বস্তিবোধ করে। এ ছাড়াও এরা ভালো মধ্যস্থতাকারী বলে এ ধরণের দ্বৈত কাজেও এরা সফল হয়।
৬# ভাগ্য ঃ
উত্তরাধিকারসূত্রে ধনলাভ বর্তমান। কিছু ভূ-সম্পত্তিও পেতে পারেন, তবে তা বিঘœ ও ব্যয়সাধ্য। মনোমালিন্য ও মামলাযোগ বর্তমান। প্রাপ্তব্য সম্পত্তি বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমায় যে অর্থব্যয় হবে, তাতে লাভ অপেক্ষা ক্ষতির মাত্রাই সমধিক। এতে যথেষ্ট সময়ের অপচয়ও হবে। এছাড়া এ ব্যপারে অপবাদগ্রস্থ হবার সম্ভাবনাও প্রবল। কর্মক্ষেত্রে দ্বৈত মনোভাবের জন্য আয়াদির ব্যপারে বিঘেœর সৃষ্টি হবে। আর্থিক উন্নতির ব্যপারে অপরের সাহায্য একান্ত অপরিহার্য। নানারূপ বাধা-বিঘœ কর্মক্ষেত্রে উৎপাদিত আয়ে হ্রাস-বৃদ্ধি জন্মাবে সময়বিষেশে, তবে শেষ জীবনে অর্থ সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারবেন। সেজন্যই অর্থভাগ্য মধ্যম বলা যেতে পারে।
৭# পরিণয় ঃ
যেসব মেয়ে বা পুরুষের জন্মতিথি যে কোন মাসে সুক্লা দ্বীতিয়া যা কৃষ্ণা নবমী এবং যাদের জন্মমাস বৈশাখ, আষাঢ়, কার্তিক বা ফাল্গুন- এদের সঙ্গে বিবাহ হলে বিবাহিত জীবন সুখের হবে। স্বামী বা স্ত্রীর ব্যবহারে সর্বদা তীক্ষèদৃষ্টি থাকার ফলে দাম্পত্যজীবন বিঘিœত হতে পারে। উভয়কেই তজ্জন্য দোষত্র“টি অনুসন্ধানে তৎপর না হয়ে যথেষ্ট সরব ও উদার মনোভাবাপন্ন হতে হবে , তবেই সুখ-শান্তি সম্ভব। বিবাহে অর্থপ্রাপ্তি যোগ বর্তমান। এ ব্যপারে জীবনে উন্নত হওয়ারও যোগ দৃষ্ট হয়। দাম্পত্য মিল থাকা কষ্টকর। মতান্তর ইত্যাদির ফলে সাধারণের নিন্দাভাজন হতে হবে। স্বীয় কর্মাদি বা বন্ধুবর্গের জন্যও দাম্পত্য শান্তি বিঘিœত হবে। মানসিক অশান্তি যাতে মনকে বিব্রত করতে না পারে, সেদিকে সবিশেষ দৃষ্টি দেবেন।
৮# পরিবার ঃ
পারিবারিক অবস্থা সমভাবে চলবে না, মাঝে মাঝেই দ্রুত পরিবর্তিত হবে। কখনও বা স্বীয় পরিবার অপেক্ষা অপর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হবে। কর্ম-বিপাকে, গ্রহাদির অশুভ প্রভাবে কখনও কখনও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে । এই বিশৃঙ্খলা তাকে ক্রমানাবতির দিকে টেনে নামাবে। শেষ জীবনে পারিবারিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এতে ভাল-মন্দের যে-কোন একটা হবে। ভ্রাতা-ভগ্নীর সংখ্যাধিক্য থাকবে। তৎসত্তেও স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব তাদের সঙ্গেসমধিক সদ্ভাবের পরিচয় পাওয়া যাবে। আত্মীয়দের মধ্যে বিশেষ কারও দ্বারা কর্ম ও আর্থিক দিক দিয়ে সাহায্য পাবেন। এর সংশ্রব আপনার অর্থলাভ ও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার সূচক হতে পারে। সন্তানাদি অল্প হলেও কারও ব্যাপারে উদ্বেগ ও অশান্তি সৃষ্টি হবে। আশাভঙ্গ হবার প্রবল যোগ বর্তমান। অপবাদগ্রস্থ হতে পারেন, লক্ষ্য রাখবেন। বিশেষ কোন আত্বীয় (ব্যবসায়ী ধরনের) শত্র“তা সাধন ও অপবাদ গ্রস্থ করার কারণ হবে।
৯# স্বাস্থ্য ঃ
সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রণালীতে চলতে হবে। শক্তিবর্ধক খাদ্য কখনও অত্যাধিক আপনার শরীরে সইবে না। অত্যাধিক ঠান্ডা বা বেশী গরম স্বাস্থ্য হানিকর। কঠোর পরিশ্রম ও ব্যায়াম অহিতকর। সব কিছুতেই নিয়মানুবর্তিতার অনুসারী হয়ে চলতে হবে, ব্যতিক্রমে স্বাস্থ্যহানি যোগ বর্তমান। গলদেশ, জানু, মূত্রাশয়, জননেন্দ্রিয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল। রক্তদৃষ্টিসংক্রন্ত চর্মরোগাদি পীড়াভয় বর্তমান। ডাল, মাছ, মাংস, ছানা, ঘি, মাখন, সহ্যমত ব্যবহার কর্তব্য। একেবারে মসলাবর্জিত খাদ্য হিতকর নয়। মাঝে মাঝে ভিটামিনযুক্ত ঔষধাদি ব্যবহার কর্তব্য। সামান্য অসুখেই দুর্বল হয়ে পড়বেন। সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন ও ইন্দ্রিয়সংযম, পরিমিত আহার নিদ্রা স্বাস্থ্যরক্ষার একান্ত সহায়ক।
১০# প্রণয় ঃ
যে সব মেয়ে বা পুরুষের জন্মতিথি যে কোন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া বা কৃষ্ণা নবমী অথবা যাদের জন্ম মাস আষাঢ়, কার্তিক ও ফাল্গুন এসব ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থায়ী ও সুখের হবে। বন্ধুভাগ্য উত্তম। বন্ধু ভালবাসবে ও বিশ্বাস স্থাপন করবে। কিন্তু নিজে তারপ্রতি বিশ্বাস স্থ^াপন করতে না পারায় কখনও ঈর্ষা বা অবিশ্বাসবশতঃ বন্ধুর ক্ষতি সাধনেও তৎপর হবেন। বন্ধু পরিবর্তনে সর্বদা সচেষ্ট হবেন। বন্ধু-স্থান ভাল বলেই বন্ধুবর্গ তাকে ত্যাগ করে যাবে না বা তার দোষত্র“টি অবহেলা-ভরে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
১১# বিবিধ ঃ
বিদেশভ্রমণ যোগ মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বর্তমান। এবং এই স্বল্পকালীন ভ্রমণই জাতকের পক্ষে আনন্দ ও ঐশ্বর্যপ্রদাতা। অতি দূরদেশ বা দীর্ঘকলীন ভ্রমণ তার অনভিপ্রেত। তীর্থযাত্রা বা সমুদ্রপথ ভ্রমণে নানারূপ বিঘœাশঙ্কা বর্তমান। অনেক সময় বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যেও সিদ্ধ নাহতে পারে। বিদেশ পর্যটনে বিশিষ্ট ব্যাক্তিবগের মিত্রতা লাভ সুপষ্ট, তবে কোনরূপ উপকারের আশা নেই।
১২# বর্ণ ঃ
গাঢ় নীল রঙ জাতকের শ্রী, স্বাস্থ্য ও আনন্দবর্ধক। তবে বিভিন্ন ধরনের যেকোন প্রকার নীল রঙই ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু অসুস্থ অবস্থায় উজ্জল পাতলা রঙ স্বাস্থ্যপ্রদ ও প্রীতিবর্ধক হবে।
১৩# তুলারাশি (শুক্র) লক্ষণ ঃ
পুরুষভাবাপন্ন, সদ্যবিবাহিতা জা¥াইয়ের মতো। মেধাবী, ধার্মিক, বিষয়বুদ্ধিসম্পন্ন। আচারী। সকলের পিয়পাত্র কিন্তু লোভী। প্রচুর অর্থউপর্জন করলেও সম্পূর্ণত তা ধরে রাখতে পারে না। বড় বেশিমাত্রায় আবেগপ্রবণ হয়। সুগঠিত, সুঠাম, রূপবান বা রূপবতী শরীর। সুন্দর চোখের অধিকারী। প্রিয়ংবদা।
১৪# তুলারাশি (শুক্র) কি চায় ঃ
শুক্র হল ভোগী গ্রহ, কিন্তু শুক্রাচার্যের ভোগও উৎকৃষ্ট। অর্থাৎ চন্দ্র সাহিত্য, শিল্পবোধের উম্মেষ ঘটায়। মনে শুদ্ধচিন্তা আনে, ঈশ্বর ভক্তিতে মন পূর্ণ করে, শান্ত করে। চন্দ্র রজোগুণী গ্রহ, চন্দ্রের দশায় পার্থিব জীবনের কামনা বাসনা বাড়ে।
১৫# তুলারাশির (শুক্র) জন্মকথা ঃ
দেবতা আনুবিস মৃতদেহ সমাধিস্থ হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির আত্মা মাপার জন্য এক পাল্লায় আত্মা রেখে অন্য পাল্লায় একটি পালক দিয়ে মাপের কাজটি সম্পন্ন করে। মাপন প্রক্রিয়া শেষ করার পর আনুবিস মৃত ব্যক্তির আত্মা অসিরিসের সভায় বিচারের জন্য নিয়ে যায়। মাপন ক্রিয়ার ফলাফল লিপিবদ্ধ করে থাকে দেবতা থত্। ফলাফল সন্তোষজনক না হলে অসিরিস স্বয়ং মৃত আত্মাকে অনন্ত জীবনে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়। আর ফলাফল সন্তোষজনক না হলে মৃতের আত্মাকে ডিভাওয়ার নামক বীভৎস জন্তু দ্বারা ভক্ষন করানো হয়। অনন্তকাল ধরে এ মৃত আত্মার জন্ম জন্মান্তরে চলাচলে এবং মানব জীবনে ন্যায়বিচার, সাম্য ও সমঝোতার তুলাদন্ডের ভ’মিকাকে অবিস্মরণীয় করে রাখার জন্য এর প্রতিফলন নক্ষত্রলোকে স্থাপন করা হয়। নক্ষত্রলোকে তুলাদন্ডের প্রতিকৃতিই রাশিচক্রে তুলা রাশির প্রতিক।
১৬# রতœ ঃ
ফিরোজা, নীলা, ইন্দ্রনীল প্রভৃতি রতœ হিতকর

৩০# তুলারাশি (শুক্রের) বৈশিষ্ট্য ঃ বয়বীয়
৩২# তুলারাশি (শুক্রের) খাদ্য ঃ
মধ্যম উত্তেজক খাদ্য হিতকর, অধিক জলপান, নিরামিষ আহার কল্যাণকর।
৩৩# তুলারাশি (শুক্রের) ব্যাধি ঃ
যাবতীয় যৌনব্যাধি, বহুমূত্র, যৌনআকাঙক্ষা, যৌনশীতলতা, ইত্যাদি।
৩৪# তুলারাশি (শুক্রের) ঔষধি ঃ
রামবাসকের মূল।
৩৮# তুলারাশি (শুক্রের) গুণ ঃ
তুলার বিশ্লেষণী ক্ষমতা অসাধারণ। এরা সু-বিচারক এবং সু-পরিচালক। এদের হাত দিয়ে অন্যায় কাজ হওয়া যথেষ্ট কঠিন। অন্যের প্রয়োজন, দুঃখ ও দাবিকে এরা বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগী হয়। এরা আশাবাদী এবং বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন কিংবা পরিচিতদের হাসি-আনন্দে রাখতে পারে সব সময়। এরা মানুষের কাছে দেনা থাকতে পছন্দ করে না। এরা দারুণ কৌশলী এবং একই সঙ্গে রোমান্টিক হয়ে থাকে।
৩৯# তুলা (শুক্রের) দোষ ঃ
তুলা মাঝে মাঝে ছ্যাবলামি করে বসে, যা তার বড় দোষ। এরা অনেক সময় মানসম্মানের ধারধারে না ধেরে উল্টেপাল্টা কথা বলে বসে এবং কাজ করে বসে। এর ফলে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রেমের ক্ষেত্রে এরা হয় ভোগবাদী। একই সঙ্গে একাধিক প্রেম করার প্রবণতা দেখা যায়। প্রেমে সিদ্ধান্তে অসফল। বেশ ভীতু স্বভাবের হয়ে থাকে। সময়ে বাড়াবাড়ি রকম ধৈর্য ধরে থাকে এবং পরিণামে শাস্তি ভোগ করে। রেগে গেলে থামানো কঠিণ। এদের দাম্পত্য জীবন কদাচিৎ অসফল।

৪১# তুলা (শুক্রের) উপদেশ
অতি চাপে তুলা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে, যা তার শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনে। মাথা যন্ত্রণা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এ ব্যাপরে সচেতন থাকুন। পিঠের যতœ নিন।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: