News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: মীন রাশি)

(১৯ শে ফেব্র“য়ারী-২০ শে মার্চ) [চৈত্র]

মীনরাশিতে জন্মগ্রহণ করলে জাতক ধনজনসুখভোগী, মিথুনকার্যরত, সমান রুচিবিশিষ্ট, সুন্দর শরীরযুক্ত, ব¯ু—লাভে সক্ষম, অল্প-মধ্য লাভযুক্ত,শত্র“ পরাভবকারী, স্ত্রীজিৎ, সুকান্তিযুক্ত, অতিশয় ধনলোভী ও পন্ডিত হয়ে থাকেন।
১# মীনরাশি স্বরূপ ঃ
মীন অপদ, স্ত্রীরাশি, কফ প্রকৃতি, রাত্রিবলী, নি:শব্দ, পিঙ্গলবর্ণ, (শুভ্র), দ্বি-স্বভাব, জলের উপর যুগ্মতনু, ¯িœগ্ধ, অতিশব্দ, অতিপ্রসব, বিপ্র, সৌম্য, উত্তর দিকস্বামী, ও বিষমোদয়।
২# মীন কেমন ঃ
* মীন এক জায়গায় স্থির থাকতে পারে না। *মীন রাশির জাতক-জতিকারা শিল্পানুরাগী হওয়ায় শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে এদের সংখ্যা বেশি। *এদের মোহনীয় আচরণ আপনাদের মুগ্ধ করবে। *নিয়ম-কানুনের প্রতি এরা যথেষ্ট উদাসীন। * সহজে রেগে যাওয়া এদের স্বভাব নয়, তবে রেগে গেলে ভয়ঙ্কর। *এদের জিহ্বা হয়ে ওঠে মিছরির ছুরি। *অবশ্য রাগ কমাতেও বেশি সময় লাগে না।
* মীন অন্যান্য রাশিগুলোর সমন্বয়ে তৈরি।
* বৃশ্চিক ও কর্কটের মতো পার্টি থেকে দূরে থাকতে চায়, সামাজিকতা এড়িয়ে চলে।
* বাস্তবতাকে মেনে নিতে কষ্ট হয় বলে পৃথিবীকে দেখতে চায় নিজেদের দৃষ্টিতে।
* যে পৃথিবীতে নেই কোনো দুখঃ-কষ্ট। কল্পনা বিলাসী মীন বাস্তববাদী হয়ে ওঠে ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে। *যেকোনো তুচ্ছ বিষয়ে এদের মনেযোগ এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা, বিনয় এবং রোমান্টিকতা * তুলা রাশির মতো,
* কর্কটের মতো কৌতুকবোধ এবং সহানুভূতি রয়েছে তার।
* ধনুর মতো সত্যবাদিতা,
* উদারতা সিংহের মতো বর্হিমুখী,
* রসিক এবং মকরের মতো দায়িত্ববোধ এবং ঈর্ষাÑএগুলোর সমন্বয় দেখা যায় মীনের মধ্যে।
* তবে মেষের আদর্শ, উৎসাহকে বিদ্রুপ করা এদের স্বভাব। * এরা হতে পারে মিথুনের মতো চতুুর,
* বৃষের মতো অলস এবং * বৃশ্চিকের মতো রহস্যময়। নিজেদের কষ্টকে ঢেকে রাখে রসিকতার আড়ালে।
* অন্যকে বিদ্রুপ করার প্রবণতা এত প্রবল যে অন্যের তা মেনে নেয়া কষ্টকর।
* কারো বিপদে সাহায্য করা এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
* মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা অসাধারণ।
৩# মীনরাশি প্রকৃতি ঃ
জাতক শান্তিপ্রিয় উদার, উচ্চাকাক্সক্ষী, সামাজিক, উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন দ্বৈতমনোভাববিশিষ্ট, সহানুভূতিপরায়ণ ও মাধূর্যময় হয়ে থাকেন। জাতকের চরিত্রে একাগ্রতা ও তেজস্বিতা প্রচুর পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়। এতে সহজেই তিনি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। ইনি আদর্শপ্রিয় হলেও সত্যের প্রতি এর অনুসন্ধিৎসা প্রবল; অন্যের মতাদর্শ যদি যুক্তিযুক্তি হয়, তাহলে বিভিন্ন প্রতিকুলতা অগ্রাহ্য করেও ইনি স্বীয় মতবাদ পরিত্যাগ করে তৎপ্রতি আকৃষ্ট হবেন এবং সেই মতানুযায়ী চলতে আগ্রহী হবেন। পরস্পর বিরোধী দু’টি মানসিক ভাবধারা জাতকের চরিত্রে স্থান পেলেও কর্মক্ষেত্রে ইনি এমন ব্যবহার করবেন, সাধারণে তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজে অনুধাবন করতে পারবে না। অসহায় ও দুর্বল জনের প্রতি ইনি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। বিপন্নকে উদ্ধার, নিরন্নকে অন্নদান, নিরাশ্রয়কে আশ্রয়দান তার সহজাত গুণ। দুঃখীর দুঃখমোচনে ইনি মুক্ত হবেন। জগতে যারাই দয়াশীল আখ্যায় আখ্যায়িত হয়েছে, তারা অধিকাংশই মীন রাশির জাতক। প্রার্থীর আকাঙিক্ষত বস্তু হিসেবে ইনি দধীচির ন্যায় আত্মদেহ বলি দিতেও প্রস্তুত। তবে অন্যের দুঃখে সহজেই মন বিগলিত হলেও বাইরে থেকে দেখে একে সহজে বোঝা যাবে না। চারিত্রিক দ্বৈতস্বভাবহেতু ক্ষেত্রবিশেষে অনেকে তাকে নিষ্ঠুর বলেও মনে করতে পারে। অপূর্ব ঘটনাদির প্রতি তার সবিশেষ দৃষ্টি থাকবে। যেসব বিষয়ের আলোচনা ও অধ্যয়নে অন্তর ব্যাকুল হয়, চিত্ত দ্রবিভূত হয়, সেদিকে তার লক্ষ্য থাকবে সমধিক। যুক্তি প্রমাণ অপেক্ষা স্বীয় হৃদয়াবেগকেই ইনি সমধিক প্রাধান্য দেবেন। বিজ্ঞানাদির চর্চায়ও তার আগ্রহ দেখা যাবে। ূ
জাতকের চরিত্রে একই সময়ে ধীরতা-চাঞ্চল্য, অশান্ত বা সমাহিত চিত্ততার ভাব পরিলক্ষিত হবে। বাইরে থেকে জাতককে মনে হবে, ইনি শান্ত, স্থির, গম্ভীর, অন্তরে ইনি হয়ত তখন চঞ্চলতা অনুভব করছেন। আবার এমনও হতে পারে বাইরে ইনি চঞ্চল ও অস্থির, কিন্তু অন্তরে ইনি শান্ত-সমাহিত। এই পরস্পর অসামঞ্জস্যপূর্ণ দ্বৈতস্বভাবহেতু একে সঠিক বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না।
মানসিক চিন্তাধারা, হৃদয়াবেগ হতে মৌলিক উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় পাওয়া যাবে। ইনি সদানন্দ, মুক্ত পুরুষ, ইনি সর্বদা যেমন আনন্দিত ও প্রফুল্ল থাকতে চান। মানসিক আবেগবশতঃ যে কাজে অগ্রসর হবেন, তাতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে কুন্ঠিত হবেন না। সব ব্যপারেই তার আতিশয্যের ভাব-একটা বাড়াবাড়ি বর্তমান থাকবে।
কথাবার্তা, লেখনী প্রভৃতি বিষয়ে অতিরঞ্জনের ভাব-তিলকে তাল করার প্রবণতা থাকবে। সুপ্রিয় জাতক! এবিষয়ে সতর্ক হন। এই প্রকৃতির আবেগকে যদি অবদমিত করতে না পারেন, তবে কুসঙ্গপ্রভাবে জুয়া, ব্যাভিচার, মদ ইত্যাদিতেও আসক্ত হয়ে স্বীয় শরীর ধ্বংসকর বীজ বপন করতে পারেন।
অন্তে কঠিন পীড়াগ্রস্থ হয়ে রোগভোগে মৃত্যুবরণ করবেন না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না। যেটা সমাজবিরুদ্ধ, তাকে যথাসাধ্য পরিহার করে চলাই দুঃখনিবৃত্তির উপায়। নিজ মনের ভাব-ধারা, আশা-আকাঙক্ষা, কর্ম-পরিকল্পনা যথাসম্ভব নিজের মনেই রাখতে চেষ্টিত হবেন। এজন্য অপরের সঙ্গে মেলামেশা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনুন। জাতক বিদ্যাভিলাষী, জগতের প্রতিটি বিষয়ে জানবার আগ্রহ তার রয়েছে। যেকোন অবস্থা সইবার মত শক্তিও তার প্রবল। উপভোগেও ইনি সাতিশয় পটু। নিজে ভোগপটু একা নয়, পারিপার্শিক অন্যান্য জনকেও সে আনন্দের অংশীদার করতে তিনি একান্ত অভিলাষী।
বস্তুতঃ জাতক শান্তিপ্রিয়, তজ্জন্য যদি কখনও দেখা যায়, কোন ভুল বিষয়ের প্রতিও ইনি নির্বাক, বিবাদ-বিসম্বাদ করতে অনাগ্রাহী, তাহলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। অবশ্য সমালোচনার শক্তি এর প্রচুর, ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে ইনি পক্ষপাতহীন নির্ভুল সমালোচনা করতে পশ্চাদপদ হবেন না। অন্যকে দুঃখ দেওয়া তার আকাঙিক্ষত নয়। ইনি উদার , কোন বিষয়েই ও গোঁড়ামি তার থাকবে না। স্বীয় মতবিরুদ্ধ বিষয়েও ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করে সদবৎ বিবেচনা করে নম্র-ভদ্রভাবে তৎসমুদয় সম্পন্ন করতেই তার আনন্দ। জাতক স্বীয় কল্পনা মত কাজ করতে ইচ্ছুক,তার পতন-ঙ্খলনন্যে সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য করে। যে কোন বিষয়ে মনমত না হলে ভেঙ্গে-চুরে আবার নতুন করে করতেও ইনি সিদ্ধহস্ত। এজন্য দেখা যায়, স্থির আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ও ইনি কোন সময়ে নিজ মত ও পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। সব ব্যপারেই তার চাঞ্চল্য, ক্ষিপ্রতা বর্তমান। ধীর-স্থীরভাবে চলা যেন তার কোষ্ঠিতেই নেই। আহার-বিহার, চলাফেরা, আলাপ-আলোচনা, কাজকর্ম-সব বিষয়েই একটা ব্যস্ততা দেখা যাবে। ভ্রমণের প্রতি তার সবিশেষ আগ্রহ বর্তমান। খেলাধূলা, দৌড়-ঝাপ, ব্যায়াম-কুস্তি ইত্যাদিতেও আসক্তি প্রবল।
জাতক অতীব চিন্তাশীল, স্বীয় কর্ম বা কর্তব্যের খুটিনাটি ত্র“টি ও ভাবী ফল নিয়ে সর্বদা অনাবশ্যক দুশ্চিন্তা ভোগ করবেন। অথচ এর মূলে কোন ভিত্তি নেই। মন থেকে সন্দেহ, দুশ্চিন্তা ও ভয়কে সম্পূর্ণ দূর করুন। নইলে জীবন অশান্তিপূর্ণ হয়ে পড়বে। আপনার উন্নতি সুনিশ্চিত এবং জগতে আপনার জন্য উচ্চাসন সুনিদৃষ্ট রয়েছে।
৪# মীনরাশি কর্মদক্ষতা ঃ
জাতকের সংগঠন-সংযোজন ক্ষমতা প্রবল। যে কোন পুরাতন ধারাকে বদলে নতুনভাবে তাকে রূপ দিতে ইনি সমধিক যোগ্য ব্যক্তি। অন্যের আরদ্ধ অসম্পূর্ণ কাজ ইনি সুচারূপে সম্পাদন করতে পারেন। অন্যের পক্ষে যা অসম্ভব, সেগুলো সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করতে একে সবিশেষ বেগ পেতে হবে না। যে সব ব্যাপারে বিদ্যা ও বুদ্ধির কৌশল প্রয়োজন, সে-সব বিষয়েই এর আকর্ষণ থাকবে বেশী। খুব চিন্তাশীল কাজ, যে সব কাজে সুক্ষè বুদ্ধিবৃত্তির প্রয়োজন, যেমন বিজ্ঞান, দর্শনঘটিত অথবা কোন পরিকল্পনা বা শিল্পবিভাগ প্রভৃতি বিষয়সমূহে এর সাতিশয় কৃতিত্তের পরিচয় পাওয়া যাবে। সর্বজীবের হিতসাধিকা ও আন্দদায়ক কর্মে ইনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে অগ্রসর হবেন। প্রয়োজনবোধে ইনি এক সঙ্গে বিভিন্ন ধরণের কর্মেপ্রবৃত্ত হবেন। আইন, ন্যায়শাস্ত্র, সুব্যবস্থা, সুমন্ত্রণা, পূর্তকর্ম, শিল্পকর্ম, শিল্প, সাহিত্য, গ্রন্থ সম্পাদনা, সম্পাদনা, জলপথে বানিজ্য ইত্যাদিতে সাফল্য লাভ করবেন। কর্মক্ষেত্রে সন্দিগ্ধচিত্ততা তার উন্নতি ও সম্মানপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধক। কোন বিরুদ্ধ সমালোচনায় কর্ণপাত না করে , ভীতবিহ্বল না হয়ে স্বীয় কর্তব্য সম্পাদন করতে ব্রতি হন, ঐশ্বর্যলক্ষী স্বোচ্ছাবন্দিনী হবেন আপনার হাতের মুঠোয়। মানসিক দুর্বলতা, সংশয়, দ্বিধাভাব-বর্জিত হতে পারলে যশ ও প্রতিপত্তি লাভ আপনার সুনিশ্চিত।
৫# মীনরাশি কর্মক্ষেত্র ঃ
সেবাপরায়ণ ও দয়াশীল বলে চিকিৎসা, নাসিং, রান্না, ইত্যাদিতে কাজ বা পেশায় এরা যথেষ্ট দক্ষ হয়ে থাকে। শিক্ষকতা এদের আরেক প্রিয় পেশা। অভিনয় শিল্প ও সাহিত্য সম্পর্কিত পেশায় এরা যথেষ্ট পারদর্শী হয়। ব্যবসা ক্ষেত্রে আপনাদের জ্ঞান না থাকলে সাহসী সঙ্গী ছাড়া এদিকে পা বাড়াবে না।
৬# মীনরাশি ভাগ্য ঃ
অর্থোপার্জন বিষয়ে জাতকের নিজের প্রচুর যোগ্যতা রয়েছে এবং তার কৌশলও তার অজানা নয়। কিভাবে অল্পায়াসে অধিক উপার্জন করা যায়, সে বিষয়েও ইনি সজ্ঞান। অতএব স্বীয় বুদ্ধিনৈপুণ্যে ও চারিত্রিক গুণে ইনি প্রচুর অর্থেপার্জন করবেন। সম্ভবস্থলে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতাও পাবেন। বন্ধুবর্গ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অর্থোপার্জনে সাহায্য করবে। এতদসত্ত্বেও অর্থকড়ি ব্যপারে মাঝে মাঝেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। আয়ের নিশ্চয়তা একরূপ বর্তমান থাকবে না। উপার্জন অধিক হলেও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা তার পক্ষে সর্বদা সম্ভব হবে না। বন্ধুবর্গ সংশ্রবে, আমোদ-প্রমোদাদিতে, আনন্দ-উৎসবে, নবতর কোন পরিকল্পনায় যথেষ্ট ব্যয়ধিক্য পরিলক্ষিত হয়। এজন্য অন্তে অনুশোচনাগ্রস্থ হতে হবে। এ সব দিকে সর্তক হয়ে চলতে পারলে প্রভূত অর্থ সঞ্চয় হবে, এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারেন। শেষ জীবনে কর্ম অবসরে বহুল পরিমাণে অর্থের অধিকারী হতে পারবেন। বস্তুতঃ অর্থভাগ্য উত্তম।
৭# মীনরাশি পরিণয় ঃ
যে সব জাতক-জাতিকার জন্মতিথি যে কোন মাসের শুক্লা একদশী অথবা কৃষ্ণা চতুর্থী অথবা যাদের জন্মমাস শ্রাবণ, আশ্বিন, অগ্রহায়ণ বা চৈত্র, এদের সঙ্গে বিবাহ হলে দাম্পত্যজীবনে সুখের আশা করা যায়। স্ত্রী গৃহকর্মনিপুণা, পতিপরায়ণা, হলেও স্বামীর সুখ-দুঃখের সম্যক সহভাগিনী হওয়া কষ্টসাধ্য হবে। কারণ স্বামীর মনোগত ভাব ইনি সর্বদা সহজে বুঝে উঠতে পারবেন না। সব বিষয় ও রুচি সম্যক অনুভব করে যথাসাধ্য সন্তোষসাধনে সচেষ্ট হবেন। স্ত্রী সর্বদাই চিরাচরিত নিয়ম-পদ্ধতি, আচার-আচরণের পক্ষপাতী। এটা জাতকের কাম্য বা প্রীতিপ্রদ হবে না। ফলে দাম্পত্য-কলহ আসতে পারে কখনও। এই মানসিক অশান্তি অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি ঔদাসীন্যও এনে দিতে পারে। স্ত্রী জাতির পক্ষে স্বামীর ভগ্নস্বাস্থ্য ও কর্মজীবন পরিপুর্ণ যৌবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ সব ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সচেষ্ট হন।
৮# মীনরাশির পরিবার ঃ
জাতকের ভ্রাতা –ভগ্নীর মধ্যে কারও আকস্মিক অকাল মৃত্যুযোগ পরিলক্ষিত হয়। আত্মীয়াদির মধ্যে বহু উচ্চপদস্থ প্রসিদ্ধ ও বৈষয়িক লোক থাকবেন। এদের কারও জন্য অপবাদগ্রস্থ হতে পারেন। স্বজন ও আত্মীয়ের সংখ্যাধিক্য বর্তমান। এদের কাছ থেকে যথোচিত প্রশংসাও পাবেন। পৈত্রিক সম্পদ নিয়ে ভ্রাতা-ভগ্নীর সঙ্গে কলহ-বিবাদও হতে পারে। পিতা কীর্তিমান ও প্রসিদ্ধ হবেন। পিতা মাতার কাছ থেকেও কিছুটা অশান্তি ভোগ করবেন। এমনকি, তাদের কাছ থেকে দীর্ঘ সময় বিছিন্ন হয়ে থাকাও বিচিত্র নয়। শৈশবে পিতা-মাতা কারও কোনরূপ আকস্মিক বিঘœ ঘটতে পারে। সন্তান-সন্ততি অধিক হবে। এদের অধিকাংশই শিক্ষিত ও ভাগ্যবান হবে। সন্তান-সন্ততি পালন ও শিক্ষা-দীক্ষায় প্রচুর অর্থব্যয়ের যোগ পরিলক্ষিত হয়। সন্তান বিষয়ে সুখলাভই হবে। তবে বিশেষ কারও জন্য প্রচুর মনোকষ্ট ও অর্থক্ষতি হতে পারে। জাতক সত্যি øেহপ্রবণ, øেহারাধ্যের অন্যায় আচরণ মাঝে মাঝে মনোকষ্টের কারণ হবে, তবে এদের সহস্র ভুলত্র“টিও ইনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
৯# মীনরাশি স্বাস্থ্য ঃ
জাতক শক্তিশালী, দৈহিক গঠনও সুন্দর। অনিয়ম-অত্যাচার না করলে কদাচিৎ স্বাস্থ্যহানি ঘটবে না। রোগপীড়া প্রায়ই হবে না। কখনও রোগক্রান্ত হলেও তা অতি সহজেই আরোগ্য হবে। জাতক ভোগ-বিলাস-প্রিয়, আমোদাসক্ত, একথা পূর্বেও বলেছি। উপবাস প্রভৃতি তার ধাতে সইবে না এবং এটা তার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগীও নয়। স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য তার প্রয়োজন যথোচিত পুষ্টিকর খাদ্য। পায়ের নীচের দিকের দুর্বলতা, মূত্রাশয়, হৃদয়, চক্ষু ইত্যদি কখনও পীড়িত হতে পারে। এসব অঙ্গের কোন দুর্বলতা দেখা দেওয়া মাত্র সযতেœ চিকিৎসা করতে সচেষ্ট হবেন। উগ্র মাদকদ্রব্য সর্বদা বর্জনীয়। সংহত জীবন-যাপন বিধেয়। স্বাস্থের পক্ষে হিতকর খাদ্য,লঘুপাক ও পুষ্টিকর দ্রব্যাদি এবং নিয়মিত øানাহার, ব্যায়াম-বিশ্রাম, পরিষ্কার স্বাস্থ্যকর স্থানে বাস, সৎসঙ্গ, সৎচর্চা প্রভৃতি প্রয়োজন। খাদ্যাদিতে তরল পদার্থ, জলীয় ভাগ অধিক ব্যবহার করা কর্তব্য। রোগ-ব্যাধি কমই হবে। তবে এ ব্যাপারে একটি বিচিত্রভাব লক্ষণীয়। তার আভ্যন্তরীণ রোগাদি চিকিৎসক সহজে বুঝে উঠতে পারবেন না। সু-চিকিৎসায়ও কখনও রোগারোগ্য হবে না। পক্ষান্তরে কখনও বিনা চিকিৎসায় আরোগ্য হবে। আহার-বিহার বিষয়ে হিসাবী ও সংযমী হলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং দীর্ঘায়ূ লাভ করবেন।
*পাকস্থলী অন্ত্রের রোগ, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, ফুড পয়জনিং, হাঁপানী, অনিদ্রা এবং পায়ের সমস্যা থেকে সতর্ক থাকুন।
১০# মীনরাশি প্রণয় ঃ
প্রেম ও বিয়ে এদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যেসব জাতক-জাতিকার জন্ম যে কোন মাসের শুক্লা একাদশী বা কৃষ্ণা চতুর্থী অথবা যাদের জন্মমাস শ্রাবণ, অগ্রহায়ণ, চৈত্র, এদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতাবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যাও অধিক থাকবে। তাদের সান্নিধ্যও মধুর হবে। কিন্তু তন্মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক জনের সঙ্গেই ইনি আন্তরিক ভাবে মিলবেন। এদের মধ্যে বহু উচ্চপদস্থ প্রতিভাধর ক্ষমতাবান কেউ কেউ থাকবেন, যারা জাতকের হিতসাধনে যথার্থই সচেষ্ট থাকবেন। ইনি নিজেও যথার্থ বিপন্ন মিত্রকে বিপদমুক্ত করতে চেষ্টা করবেন। তাদের জন্য প্রচুর অর্থব্যয় করতেও ইনি কুন্ঠিত হবেন না। অনুচরবর্গের মধ্যে কেউ কেউ বিরুদ্ধাচরণ করবে, সহকর্মীদের মধ্যেও কেউ হিংসাপরায়ণ হয়ে শত্র“তাসাধনে তৎপর হবে, তবে বিশেষ এই, কেউ তেমন কোন ক্ষতি করতে সমর্থ হবে না। হিংসুক ব্যক্তি আপনা হতেই নিরস্ত হবে। বন্ধুবর্গের মধ্যে যথেষ্ট প্রতিপত্তি লাভ করবেন। সর্বোপরি বুদ্ধিমান বিচক্ষণ জাতক স্বীয় বিবেচনা সহকারে ভালভাবে অনুসন্ধান করে বন্ধু নির্বাচনে প্রয়াস পাবেন।
১১# মীনরাশি বিবিধ ঃ
জাতক কখনও আধ্যাতিক বিষয়ে মনোনিবেশ করলে বেশ সাফল্য লাভ করতে পারেন। এমনকি, ক্ষেত্র বিশেষে তাতে দিব্য দৃষ্টিলাভ, ভবিষ্যদ্দর্শন সম্ভব হবে। ধর্মকর্মে অভিনিবেশ ও তাতে নিষ্ঠাপরায়ণ হওয়া এবং জনহিতকর বিবিধ কর্মে জাতক আত্মনিয়োগ করবেন। দেশভ্রমণের যোগ বহুবার পরিলক্ষিত হয়। স্বীয় কার্যোপলক্ষে অথাবা তীর্থ ভ্রমণোদ্দেশ্যে, স্থান বা বায়ূপরিবর্তনহেতু, শিক্ষা ও সুনাম অর্জনমানসে সুদূর বিদেশ ভ্রমণ যোগ বর্তমান। তবে বিদেশ ভ্রমণ নিরাপদ নয় আদৌ, কোনরূপ বিপদাপন্ন হওয়া অথবা অশান্তি ভোগ করার প্রবল যোগ বর্তমান। সে জন্য এ বিষয়ে একটু ভেবে-চিন্তে বিচার বিবেচনা সহকারে অগ্রসর হওয়াই সমীচীন।
১২ # মীনরাশি বর্ণ ঃ
শুধু সবুজ রঙ বা সবুজের যে কোন প্রকারভেদ ভাগ্যবর্ধক ও আনন্দদায়ক। ভগ্নস্বাস্থ্যে জরদ বা সোনালী রঙ সুস্বাস্থ্যের সহায়ক।
১৩# মীনরাশি লক্ষণ ঃ
মীনের অধিপতি বৃহস্পতি : স্ত্রী ভাবাপন্ন, গুরুমা বা পুরোহিতের স্ত্রীর মতো।
১৪# মীন কি চায় ঃ
গ্রহরাজ বৃহস্পতি, আকারে বিরাট, গতিতে শ্লথ, স্বভাবে বৃদ্ধ। অতএব, বৃহস্পতির প্রভাবে সত্ত্বগুণের যা কিছু লক্ষণ, সবই উন্নত হয়। সত্ত্ব হল মানুষের ত্রিগুণের শ্রেষ্ঠটি, বৃহস্পতির প্রভাবে তাই ধীশক্তি বাড়ে, ঔদর্য্য আসে। বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, হীনতা নাশ করে। দ্বিজভাব আসে। অর্থাৎ মহোদয় ব্যক্তিত্ব তৈরী হয়।
১৫# মীন রাশির জন্ম কথা (গ্রীক) ঃ
গ্রীক পূরানে টাইফুন হচ্ছে ভয়ঙ্কর এক শয়তানি পশু। এটি মানুষের জন্য যেমন ভয়ঙ্কর ছিল তেমনি ভয়ঙ্কর ছিল দেবতাদের জন্যও। টাইফুনের মাথায় সবসময় ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা কাজ করত। কারো সুখ সে সহ্য করতে পারত না। একদিন হঠাৎ করে বলা নেই কয়া নেই দেবতাদের আবাসস্থল মাউন্ট অলিশপাশে হানা দিয়ে বসে।
১৬# মীনরাশি রতœ ঃ
অ্যাগেট, গোমেদ, চন্দ্রকান্ত, পান্না, ফিরোজা স্বাস্থ্যপ্রদ ও সৌভাগ্যবর্ধক। রোগ ভোগকালে অ্যাম্বার, পোখরাজ, অ্যাকোয়া, স্বর্ণক্ষেত্র বৈদুর্যমণি হিতসাধক।
৩০# মীনরাশি বৈশিষ্ট ঃ
জলীয়
৩২# মীনরাশি খাদ্য ঃ
¯েœহজ পদার্থ, মাছ, মাংস ও সাত্তিক দ্রব্যাদি।
৩৩# মীন ব্যাধি (বৃহস্পতি) ঃ
হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা, ফুসফুসের দৌর্বল্য, শ্বাস কাস, সন্ন্যাস রোগ, উদরী, যক্ষ্মা, তালু ও কুষ্ঠরোগ, মেদবৃদ্ধি, বহুমুত্রাদি।
৩৪# মীন ঔষধি (বৃহস্পতি) ঃ
বামনহাটির মূল।
৩৮# মীনরাশি গুণ ঃ
মীনের কল্পনা শক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা যেখানে প্রয়োগের সুযোগ আছে সেখানে মীন দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। শৈল্পিক প্রতিভাধর। যুক্তি প্রয়োগে অনুধাবনের চেয়ে মনোযোগেই জটিল সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশ্বস্থ, গৃহাভিমুখী,দয়ার্দ এবং সংযমী। নতুন নতুন আইডিয়া (মাথা থেকে) প্রকাশ করে এবং অন্যের সিদ্ধান্তের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিকগুলো দারুনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। কল্পনাশক্তি অত্যন্ত প্রখর বিধায় শিল্পীসত্তা অুুলনীয়।
৩৯# মীনরাশি মন্দ দিক (দোষ) ঃ
মীনের প্রধান দোষ হচ্ছে এরা ভীষণ ভুলোমনের। ও হ্যাঁ, কি যেন বলতে যাচ্ছিলাম, তোমার সঙ্গে যেন কি কথা ছিল এ জাতীয় কথা মীনের মুখেই শোনা যায়। এদের আবেগ প্রবণতা মাঝে মধ্যে ভীষণ সমস্যা সৃষ্টি করে তার নিজের ক্ষেত্রে এমনকি পরিবারের ক্ষেত্রেও। ব্যবসা ক্ষেত্রে এরা অনির্ভরযোগ্য, অলস, উদসীন এবং ঝামেলা সৃষ্টিকারী। এরা অতিমাত্রায় হুজুগে বিশ্বাস করে, যা অনেক সময় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে।
৪১# মীনরাশি উপদেশ ঃ
হতাশা মীনকে এমন কাবু করে ফেলে যে এ অবস্থা হতে আপাত উত্তরণের জন্য অনেক সময় নেশাকে আমন্ত্রণ জানায়। ব্যর্থতা সবার জীবনে আছে। প্রথমেই সফলতা এ ধরণের ধারণা ঠিক নয়। প্রত্যাখ্যাত হলেই যে জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেল এ ধারণাও ঠিক নয়। আপনার নার্ভস সিস্টেম বেশ দুর্বল। বেশি হাঁটবেন। পরিবারের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখবেন।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: