News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: ধনু রাশি)

(২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর) [পৌষ মাস]
১# রাশি স্বরূপ
ধনুরাশিতে জন্ম গ্রহণ করলে জাতক কর্মতৎপর, কীর্তিমান, পূজনীয়, কুলশ্রেষ্ঠ, রসজ্ঞ, বন্ধুগণের একমাত্র সুহৃদ, বহুধনযুক্ত, দেবদ্বিজ পরায়ণ, মৃদুগতি এবং অসহিষ্ণু হয়ে থাকে।
২# ধনু কেমন ঃ
গ্রহরাজ বৃহস্পতি, আকারে বিরাট, গতিতে শ্লথ, স্বভাবে বৃদ্ধ।
৩# প্রকৃতি ঃ
জাতক স্বাধীনতালিপ্সু, শান্তিপ্রিয়, দ্বিধাভাবগ্রস্থ ও সুক্ষèদৃষ্টিসম্পন্ন হবেন। নিজ স্বার্থ বিষয়ে ইনি যথেষ্ট সর্তক থাকবেন , সেজন্য নিজ স্বার্থ বিষয়ে কিংবা স্বমতের বিরুদ্ধে কোন কারণ উপস্থিত হলে নির্ভীকভাবে প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে তার প্রতিবাদ করতে তৎপর হবেন এবং যতক্ষণ না কোন সন্তোষজনক মীমাংসায় পৌঁছাতে পারবেন,ততক্ষণ তিনি শান্ত হবেন না। প্রতিটি ব্যাপারে যথোচিত মীমাংসা ও প্রতিকারের জন্য ইনি চেষ্টিত হবেন। শান্তিপ্রিয় হলেও কোনরূপ অসম্মান, তা অর্থের দিক দিয়ে হোক, মানসিক দিক দিয়ে হোক অথবা শারীরিকই হোক, ইনি মেনে নিবেন না বা সহ্য করবেন না।
জাতকের মনোভাব অপরে সহজে বুঝতে পারবেনা। কারণ তার মন সর্বদাই কতকগুলো বিরুদ্ধ ভাবে পূর্ণ থাকবে। যেমন ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য, স্বাধীনতা,অন্যকে আক্রমনের আকাক্সক্ষা, পক্ষান্তরে শান্তিময় জীবনযাপন করা, সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ, সংস্বকারপ্রিয়তা অথচ সমাবর্হির্ভূত নয়। এতসব বিষয় সর্বদাই জাতকের মনকে আন্দোলিত করায় কখনই তাকে এক পথালম্বী হতে দিতে চাইবে না। এ বিষয়ে যথেষ্ট বিবেচনা সহকারে না চললে সর্বসাধারণ্যে মেলামেশা করে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠত হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।
দ্বৈত মনোভাবের জন্য বিবিধ চিন্তাশীলতার ফলে আচারÑআচরণ, কথাবার্তায় মনে প্রকৃতভাব ব্যক্ত হবে না। গভীর উদ্বেগ ও চিন্তাকুল হলেও কথা ও ব্যবহারে চাঞ্চল্য বা হাস্যোজ্জ্বলভাবে সর্বদা বজায় থাকবে। আবার মন যখন প্রশান্ত, অনন্দ থাকবে, তখন হয়ত বাইরে গাম্ভীর্যপুর্ণ চিন্তাযুক্ত ভাব প্রৃকাশ পাবে। জাতক কখনও কপটতা মিথ্যাচারের পক্ষপাতি নয়। ইনি সরল, সমগ্র মন এর সারাল্যে পরিপুর্ণ, তাই যাবতীয় বিষয়ে প্রকাশ্য ভাবই তার প্রিয়। তবে স্বীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, অভাব-অভিযোগ, দুঃখ-দুর্দশার কথা অন্য কাউকে জানতে, তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে দিতে ইনি সম্মত নন। সবকিছু , নিজের বিষয় সংক্রান্ত, অন্যের কাছে গোপন করে রাখাই তার একমাত্র অভিলাস।
জাতক কর্তত্বপ্রিয় ও স্বেচ্ছাচারী। কারও অধীনতা স্বীকারে ইনি আগ্রহী নন। চারিত্রিক স্বাধীনতা, তেজস্বীতা-সবই তার সহজাত। এই স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্তৃত্বলাভের আকাংক্ষার ফলে ইনি অতি সহজেই অন্যের বিরাগভাজন হতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবল প্রতিদ্বন্দী ও শত্র“ জুটে কর্মবৈকল্য বা অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। যাতে নিজ শক্তি, অর্থ, উদ্যম ও সময়ের যথোচিত সদ্ব্যবহার করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না ; কর্ম-ব্যবসায় পরিচলনেও যথেস্ট অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। নিঃস্বার্থভাবে কোন কর্মসম্পাদনে এর আগ্রহ নেই। স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়েই ইনি সোৎসাহে হাত দেবেন এবং সুষ্ঠভাবে তা সম্পাদন করবেন। অবশ্য এই স্বার্থ-ব্যাপারে সব সময়েই যে অর্থে কারণ থাকবে, তা বলছি না, ইনি চান কর্তৃত্ব, অগ্রাধিকার, সবার উপর ক্ষমতা বিস্তার; এটুকু পেলে ইনি সন্তুষ্ট হবেন। বৃথা সময় নষ্ট করা তার একান্ত রুচিবিরুদ্ধ। তা সত্ত্বেও সুনিশ্চিত কর্ম বা পথ অবলম্বন করে ইনি কোন কাজ বা বিষয়ে অগ্রসর হবেন না। নিয়ম শৃঙ্খলাকে ইনি মেনে চলবেন; কোনরূপ ব্যতিক্রম হতে দেবেন না। প্রতিটি বিষয়ের সদসৎ, প্রকাশ্য-অপ্রকশ্য কোন গুপ্ত রহস্য থাকলে তা উদঘাটন না করা পর্যন্ত ইনি স্বস্তি পাবেন না। চিরাচরিত বা স্থিতিশীল ভিন্ন কোন সাময়িক আচার-আচরণ, নিয়ম-প্রণালীর পক্ষপাতী ইনি হবেন না। বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক সবকিছুর প্রতি জাতকের আকর্ষণ প্রবল। ধীরতা-স্থীরতার সং্গে সত্যচিন্তনে অভ্যস্ত হলে জাতকের দ্বারা জনকল্যাণমূলক কর্মসাধনও অসম্ভব নয়। আবার ভ্রান্ত চিন্তার বশবর্তী হলে স্বীয় জীবনের অবনতিও অতি সহজে দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে। ক্ষেত্রবিশেষে জাতকের পক্ষে অতিমাত্রা গোঁড়া বা নাস্তিক ভাবাপন্ন হওয়াও বিচিত্র নয়।
দ্বৈত ভাবধারাবিশিষ্ট হওয়ার ফলে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য, সর্বদা তার মনকে বিক্ষিপ্ত করে রাখবে। কোন বিষয়ে মনঃসংযোগ করা তৎফলে তার কষ্টসাধ্য হতে পারে। চাঞ্চল্য, অধৈর্য,তার কথাবার্তা, আচার-আচরণ, এমনকি, কাজকর্মেও প্রকাশ পাবে। খেলাধূলা, বহিভ্রমণ ও স্থানপরিবর্তৃনর প্রতি সবিশেষ ঝোঁক বর্তমান। অবশ্য ইনি যখন পারিবারিক, বৈষয়িক, বিজ্ঞান বা দর্শনবিষয়ক চিন্তামগ্ন থাকবেন, তখন তার বাইরে বা মনোজগতে কোনরূপ চাঞ্চল্য আসবে না। লোক পরিচালন বিষয়ে কাউকে সদুপদেশ দান তার সহজাতগুণ। মন উচ্চাকাঙক্ষা ও সৎভাবাপন্ন। আধ্যতিক বিষয়ে কখনও মনোনিবেশ করলে তার পক্ষে এ বিষয়ে কখনও মনোনিবেশ করলে তার পক্ষে এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ অসম্ভব নয়। ইনি সরল, ধর্মবিশ্বাসী, দৈবে প্রবল আস্থাসম্পন্ন। গুপ্তবিদ্যা, বশীকরণাদি, তন্ত্রশাস্ত্র প্রভৃতির চর্চা করলে দৈববলে বলীয়ান হয়ে তাতে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া বা কোন অতীন্দ্রিয় বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা তারপক্ষে সহজসাধ্য হবে। বস্তুতঃ জাতক বহুবিধ গুণসম্পন্ন। একটু যতœশীল হলেই সাধারণের নিকট শ্রেষ্ঠত্ব পেতে পারবেন। সৎসংসর্গ, সুশিক্ষা ও সু”িন্তাপ্রভাবে ইনি জগতে মহতী কীর্তিসাধন করতে পারবেন; পক্ষান্তরে কুসঙ্গদোষে যদি তার কু-রিপুসমূহ জাগ্রত হয়ে ওঠে, তবে তার মত পাপাচারী ও ভন্ডের জুড়ি মেলা ভার হবে। ঘোড়দৌড়, জুয়াখেলা, পশুপাখী শিকার, বারবনিতা গমন-এসব তার চরিত্রের মন্দ দিকের নির্দেশক। কাজেই সৎসঙ্গ, সৎশিক্ষা, সদগ্রস্ত অধ্যয়ন, সু”িন্তা, পবিত্র স্থানে বসবাস, নিয়মিত ব্যয়াম, রুচিশীল কর্মনির্বাচন তাকে জগতে প্রসিদ্ধিলাভ করার সহায়ক হবে।
৪# কর্মদক্ষতা ঃ
সাধারণ ছোটখাটো কর্মপেক্ষা যেসব কর্মে বহু লোক পরিচালনা করা যায় বা বহু জনের প্রয়োজন হয়, এসব কাজই তার বাঞ্ছনীয়। বহু জনপরিচালনে ও তাদের দ্বারা অধিকতর কাজ আদায়ে তার দক্ষতা লক্ষণীয়। জনহিতকর যাবতীয় কাজেই তার আগ্রহ সমধিক। ধর্মপ্রচার, সাংবাদিকতা, গ্রন্থসম্পাদনা, আইন-শিক্ষা, রাজনীতি প্রভৃতি বিষয় সংশ্লিষ্ট হলে প্রচুর সুখ্যাতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করতে পারবেন। স্বীয় শক্তিমত্তায় সংঘ, আশ্রম, ক্লাব-সমিতি বা যে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সুনাম অর্জন করাও জাতকের পক্ষে সম্ভব। এক সময়ে বহুবিধ কর্মে লিপ্ত থাকা বা কর্ম পরিবর্তন অসম্ভব নয়। জনগণের কল্যাণার্থে প্রচুর ব্যয় করে ইনি দানশীল আখ্যা পাবেন। জাতকের দু’ধরনের কাজে বৈশিষ্টের পরিচয় পাওয়া যাবে। যেসব কাজে বহুলোকের প্রয়োজন , ঘোরাফেরা ও পরামর্শ প্রয়োজন, অথবা সাধারণে কল্যাণার্থে অথচ স্বীয়স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন কাজ একস্থানে নির্জনে বসে সম্পন্ন করাও সম্ভব। খুব বিবেচনা সহকারে সৎকর্মে স্বীয়স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মনোনিবেশ করলে কর্মজীবন ভালই বলা যেতে পারে।
৫# কর্মক্ষেত্র
শিক্ষা এদের জীবনের এক মহান ব্রত। মিথুনও তেমনি। কিন্তু এরা একাধারে শিক্ষক ও ছাত্র। ফলে শিক্ষকতা ও শিক্ষা সম্পর্কিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করে থাকে। দর্শন ও ধর্ম আপনাদের প্রিয় বিষয়। এই দুটি বিষয়ে পেশা নির্বাচন করলে আপনারা যথেষ্ট সুনামের অধিকারী হতে পারেন। এরা ভ্রমণ বিলাসী বলে ভ্রমণ সংক্রান্ত পেশায়ও এরা দক্ষ হতে পারে। এ সংক্রান্ত পেশা আপনাদের কাম্যও। যেমন- সেলসম্যান, রিপ্রেজেন্টেটিভ, বিমানচালক ইত্যাদি পেশা আপনারা বেছে নিতে পারেন।
৬# ভাগ্য ঃ
উত্তরাধিকারসূত্রে অর্থ-সম্পত্তি পাবার যোগ প্রবল। আকস্মিক দৈববলে ধনলাভ যোগও দেখা যায়। স্বীয় কর্মকুশলতায়ও যথেষ্ট ধনোপার্জন করতে পারবেন। জীবনের প্রথম ভাগে স্বীয় চাঞ্চল্য ও পারিবারিক ব্যাপারে অর্থপ্রপ্তি বিষয়ে মাঝে মাঝে বাধা-বিপত্তির সৃষ্টি হবে। সর্তকভাবে তৎসমুদয় এড়িয়ে যাওয়া কর্তব্য। শেষ জীবনে অর্থোন্নতি ও অর্থসঞ্চয় শুভ দেখা যায়। অর্থের অভাব আদৌ হবে না। স্বাচ্ছল্যের মাঝে সংসারযাত্রা নির্বাহ করেও কিছু সঞ্চয় সম্ভব। বহুবিধ ব্যাপারে অর্থোপার্জন হবে। তবে কোন বিশেষ ব্যপারে যথেষ্ট ক্ষতির সম্ভাবনা। বহুজন সংশ্লিষ্ট কাজ রাজনীতি, কন্ট্রাকটরি, লেখাপড়া, অধ্যয়ন-অধ্যপনা, ভূমি-গৃহ-বাড়ী সংক্রান্ত কাজ-এসব কাজেও লাভবান হতে পাবেন। বস্তুতঃ অর্থভাগ্য ভালই বলা চলে। সদ্ভাবে জীবিকা হবে।
৭# পরিণয় ঃ
যেসব জাতক –জাতিকার জন্মতিথি যে কোন মাসের শুক্লা চতুর্থী বা কৃষ্ণা একাদশী অথবা যাদের জন্মমাস বৈশাখ, আষাঢ়, ভাদ্র বা পৌষ তাদের সঙ্গে বিবাহ হলে বিবাহিত জীবন সুখময় হতে বাধ্য। বিবাহ ব্যাপারে কিছু বিশৃঙখলা হওয়া সম্ভম। দাম্পত্য ব্যাপারে অপরের সুক্ষ্ম দোষ-ত্র“টি লক্ষ্য করার ফলে সাময়িক প্রণয়ভঙ্গ বা বিচ্ছেদ বিচিত্র নয়। মনের বা মতের অমিল হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে দম্পতিযুগলকে বিচ্ছিন্নবস্থায় জীবন কাটাতে হবে এবং একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশূন্য ও উদাসভাবাপন্ন হয়ে পড়তে হবে। এজন্য উভয়েই দোষ ত্র“টি বর্জিত হয়ে, অপরের ছিদ্রান্বেষী না হয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। সরল ও উদার মনোভাবসম্পন্ন হলে দাম্পত্যজীবন সুখময় হতে বাধ্য।
৮# পরিবার ঃ
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কোন ব্যাপারে সাময়িক বিচ্ছেদ হতে পারে কিংবা তাদের ব্যাাপারে নিজে বিপদে জড়িয়েও পড়তে পারেন। ভ্রাতা-ভগ্নীর প্রতি অত্যাধিক øেহপরায়ণ হলেও কোন বিশেষ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে মিলিত ভাবে কোন গোপনীয় কর্মসম্পাদনে মতান্ত-মনান্তরের ফলেও পারিবারিক বিশৃঙ্খলা আসতে পারে। তবে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সারাজীবনই এক-আধটু থাকবে। পুত্র-কন্যা, ভ্রাতা-ভগ্নী, মাতা-পিতা এদের মধ্যে যে-কোন একজনের জন্য সাতিশয় দুশ্চিন্তা ভোগ করতে হবে। আত্মীয়াদির সঙ্গে মনোমালিন্য হেতু দীর্ঘদিন দূরদেশে বা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করাও বিচিত্র নয়। সন্তান অল্প, এর ফলে কখনও মানসিক অশান্তি দেখা দিতে পারে । সন্তান প্রতিম ও কোন øেহাস্পদের জন্য দুশ্চিন্তা- দুর্ভোগ পোহাতে হবে। জাতকের অন্তকরণ যদিও øেহাদ্র, তবুও তার ব্যবহার বা কথাবার্তায় তা কখনও প্রকাশ পাবেনা । ফলে সবাই তাকে নির্মম মনে করবে । বস্তুতঃ জাতকের চরিত্র হচ্ছে-বজ্রাদপি কঠোরানি কোমলানি কুসুমাদপি চ’ । এজন্য পারিবারিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাকে বেগ পেতে হবে।
৯# স্বাস্থ্য ঃ
জাতক প্রকৃতই স্বাস্থ্যবান, শারিরীক কাঠামো খুবই মজবুত। তবুও একে চির-অটুট রাখতে হলে প্রত্যহ লঘু ব্যায়াম, আনন্দকর খেলাধূলা, ভ্রমণ ইত্যাদি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন কৃচ্ছসাধ্য ব্যায়াম বা পরিশ্রম তার পক্ষে কল্যাণকর নয়। সু”িন্তা ও সাধারণ যৌগিক পন্থানুসরণ শারিরীক ও মানসিক উন্নতির সহায়ক। মস্তিক, মুখমন্ডল, গলদেশ, মেরুদন্ড, উরুদেশ দুর্বল হওয়ায় এসব স্থানে রোগাক্রমণ সহজতর। অত্যাধিক পানভোজন ও উপবাস অহিতকর। নদী তীরে বসবাস, নিয়মিত øানাহার, পরিমিত সুনিদ্রা, লঘুপাচক পুষ্টিকর আহার্য গ্রহণ স্বাস্থ্য রক্ষার প্রকৃষ্ট উপায়। খাদ্যাদিতে জলীয় ভাগ বেশি থাকা কর্তব্য। উচ্চস্থান থেকে পতন বা কোন জন্তু থেকে দুঃখভোগ যোগ বর্তমান। এ বিষয়ে যথাসাধ্য সর্তক হোন। আলস্য ও বিলাস-ব্যসন ত্যাগ করে নিয়মানুবর্তী হয়ে যথাসম্ভব সদ্ভাবে জীবন পরিচালিত করতে সচেষ্ট হোন।
১০# প্রণয় ঃ
যে সব জাতক-জাতিকার জন্মমাস বৈশাখ, ভাদ্র বা পৌষ অথবা জন্মতিথি শুক্লা চতুর্থী বা কৃষ্ণা একাদশী, এদের সঙ্গে বন্ধুতে স্থায়ী সুখ লাভ করা সম্ভব। বন্ধু অনেক জুটবে, কিন্তু বিবেচনা সহকারে সদসৎ নির্বাচন করে মিত্রতাপাশে আবদ্ধ হতে চেষ্টিত হবে। নতুবা কর্মক্ষেত্রে অসাধু মিত্রসংসর্গে সর্বপ্রকার অনিষ্টের সমূহ সম্ভাবনা, ক্ষেত্রে বিশেষে জীবন-সংশয়ও দেখা দিতে পারে কাজেই এ ব্যপারে যথেষ্ট সর্তক হওয়া কর্তব্য, ধর্ম, রাজনীতি বা গুপ্ত বিষয়াদির ব্যাপারে ও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট সাহচার্য আসবে, কিন্তু তার মধ্যেও যে কেউ বিশ্বাঘাতকতা করবেনা, বলা যায় না। বন্ধু বান্ধববের সঙ্গে অর্থকড়ি ব্যপারে কোনরূপ লেন দেন না করাই উত্তম। কারণ এক্ষেত্রে কখনও মনোমালিন্য হয়ে বন্ধুহানির যোগ বর্তমান। স্বার্থের প্রয়োজনে অনেকসঙ্গী এসে জুটবে, খুব আনুগত্যও প্রকাশ করবে, কিন্তু তাদের উপর বিশ্বাস স্থাপন সর্বক্ষেত্রে ভাল হবে না । সেজন্য সর্তকতা সহকারে সুষ্ঠ নির্বাচনে যে দু’একজনে বন্ধুলাভ ঘটবে, তাদের সঙ্গেই আজীবন বন্ধুত্ব করা কর্তব্য।
১১# বিবিধ ঃ
মধ্যম প্রকার জীবনযাপনেই জাতকের আকাঙক্ষা প্রবল। বসন- ভূষণ, আসবাবপত্র মানানসই। আধিক্য বা উৎকৃষ্ট-অপকৃষ্ট বিচার কোন কিছুতেই তার নেই। তীর্থভ্রমণ যোগ দেখা যায়। কার্যোপলক্ষে বিদেশ ভ্রমণকালীনও তীর্থগমন যোগ প্রবল। ধর্ম রাজনীতি বা গুপ্ত কর্মে বিদেশ ভ্রমণ বা দীর্ঘকাল অবস্থান সম্ভব। ভ্রমণ ও বিদেশবাসকালে মনোকষ্ট পাবার যোগ বর্তমান।
১২# বর্ণ ঃ
সর্ব্বপ্রকার মেটে বর্ণ, ধোঁয়াটে, চাঁপা (হলুদ), পাংশুটে, ধূসর প্রভৃতি বর্ণ ও আনন্দ বর্ধক। অত্যুজ্জ্বল বর্ণ ব্যবহারকরা অকর্তব্য। ভগ্নস্বাস্থ্যে শ্বেতবর্ণ হিতকর, কিন্তু অত্যুজ্জ্বল না হওয়াই মঙ্গলকর। গাঢ় কাল রং কখনও ব্যবহার করবেন না; হিতে বিপরিত ঘটবে তাহলে।
১৩# ধনু বৃহস্পতির লক্ষণ ঃ
পুরুষ ভাবাপন্ন, অবস্থাপন্ন ঘরের যুবতী মেয়ের মতো।
১৪# ধনু কি চায় ঃ
ধনু বৃহস্পতির প্রভাবে সত্ত্বগুণের যা কিছু লক্ষণ, সবই উন্নত হয়। সত্ত্ব হলো মানুষের ত্রিগুণের শ্রেষ্ঠটি, বৃহস্পতির প্রভাবে তাই ধৈর্য, জ্ঞান, ধীশক্তি বাড়ে ঔদার্য আসে। বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়, হীনতা নাশ করে। দ্বিজভাব আসে, অর্থাৎ মহোদয় ব্যক্তিত্ব তৈরী হয়।
১৫# ধনু রাশির জন্মকথা (গ্রিক)
কিরণ ছিল স্বর্গের সবচেয়ে বড় ধনুর্বিদ। বয়োজ্যেষ্ঠ এই ধনুর্বিদের সমকক্ষ কেউ হতে পারেনি হাজার চেষ্টা করেও। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বীর একিলিস, হেক্টর, জ্যাসন, হারকিউলিস প্রমুখ ছিল কিরণের ছাত্র। ছাত্রদের পরিচয় থেকেই কিরণের শক্তির পরিচয় আঁচ করা যায়। কিন্তু একদিন দুর্ঘটনাবশত ছাত্র হারকিউলিসের ছিলা থেকে একটি বিষমাখা তীর এসে বিঁধে গুরু কিরণের শরীরে। কিরণ ছিল অমর। তার মরণ হচ্ছিল না আবার বিষের ক্রিয়ায় তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। ফলে স্বেচ্ছায় অমরত্ব বিসর্জন দিয়ে মরণকে গ্রহণ করে কিরণ। দেবরাজ জিউস এই মহান শিক্ষকের প্রতিচ্ছবি মহাকাশে স্থাপন করে ধনুর প্রতীক হিসেবে।
১৬# রতœ ঃ
ধুম্রক্ষেত্র বা বৈদুর্যমণি অভাবে সাধারণ বৈদুর্য স্বাস্থ্যকর ও উন্নতিবর্ধক। রুগ্নাবস্থায় মুক্তা, শ্বেতপ্রবাল, চন্দ্রকান্তমণি হিতকর।
৩০# বৈশিষ্ট ঃ আগ্নেয়
৩২# বৃহস্পতির (ধনু) খাদ্য ঃ
৩৩# বৃহস্পতি (ধনু) হতে ব্যধি ঃ অশুভ স্থানে হলে লিভার, রক্তচলাচল, নিউমেনিয়া, পাকস্থলী, ফুসফুস সংক্রান্ত, বয়সকালে বাতজ্বরে ভুগে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা।
৩৪# ঔষধি
৩৬#হেমিও/বায়োকেমিক
৩৮# ধনুর গুণ ঃ
ধনু উদার শ্রেণীর মানুষ। এরা অর্থের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে। অন্যের কষ্টে ব্যথিত হয়, সহানুভূতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। এদের নৈতিক এবং শারীরিক শক্তি প্রবল। নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করে এবং অন্যায় দেখলে তা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করে। এরা সৃষ্টিশীল, খোলামনের এবং প্রাণবন্ত। বিশ্বস্ত এবং কথাবার্তায় সোজাসাপটা। ভন্ডামি এদের অপছন্দ। আকাঙ্খা বেপরোয়া নয় এ ব্যাপারে আত্মনিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা এদের আছে। ফলে পারিবারিক এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করতে পারে।
৩৯# ধনুর দোষ ঃ
হঠাৎ মেজাজ গরম হয়ে যাওয়া ধনুর সবচেয়ে বড় দোষ। কথাবার্তায় সোজাসাপটা, কিন্তু সোজাসাপটা অপ্রিয় কথা বলে ফেলে, এতে বিরাট ধরণের ভূলবুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। কারো সঙ্গে ঝসড়া করার সময় কিংবা অধীনস্ত কর্মচারীদের বকাঝকা করার সময় এরা যে সমস্ত ‘ভাষা’ ব্যবহার করে তার রেশ শ্রোতার মনে থেকে যায় অনেক দিন। এমনকি ঝসড়া মিটে যাবার পরও। অনেকে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে আর্থিক অনটনে ভোগেন। সবকিছু জানতে চাওয়ার একটা জন্মগত বদঅভ্যাস তাদের আছে।
৪১# উপদেশ ঃ
খেলাধূলায় বাড়তি আগ্রহ থাকার কারণে,অংশগ্রহণে সর্তক থাকুন। দুর্ঘটনায় পড়া ধনুর জন্য খুবই স্বাভাবিক। তাই চলাফেরায়, কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়িয়ে চলবেন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম অপরিহার্য।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: