News Updates

Home » আপনার রাশি » জ্যোতিষ জ্যোতিষ খেলা (বারো রাশির সাধারন ফল: বৃষ রাশি)

বৃষরাশিতে জন্ম গ্রহণ করলে জাতকের জঘনদেশ ও গন্ডস্থল স্থল, বৃহৎ গোলাকার চক্ষুদ্বয় ,অল্পভাষী, পবিত্র, কার্যদক্ষ, সুন্দর শরীরযুক্ত, সুখী, দেবতা –ব্রাম্মণ ও গুরুজনে ভক্তিমান, শ্লেষ্মাবাত প্রকৃতি, সঙ্কুচিত ও শুভ্র কেশাগ্র বিশিষ্ট এবং রোমযুক্ত হয়ে থাকে।
# বৃষরাশি স্বরূপ ঃ
বৃষরাশি স্থিরসংজ্ঞক, স্ত্রীরাশি, ভূমিতত্ত¡, শীতল রুক্ষ গাত্র, *দক্ষিণাদিকস্বামী, উত্তমভূমিচারী, বায়ূপ্রকৃতি, রাত্রিবলী, চতুষ্পদ, শ্বেতবর্ণ, অধিক শব্দকারী, বিষমোদয়, মধ্যপ্রজ ও মধ্যসঙ্গ (সন্তান-সন্তুতি অল্পও নয় ,অধিকও নয়, স্ত্রীসঙ্গও মধ্যম), শুভ ও বেশ্যাজাতি।
# বৃষরাশি কেমন
বৃষ পুরুষ/মহিলারা মূলত দেখতে সুন্দর হয়ে থাকে। এদের চুল ঘন কালো হয়ে থাকে। চোখও তাই। চামড়া হয়ে থাকে মসৃণ। চোয়াল শক্ত ও মুখাকৃতি গোল। এরা সুবক্তা ও সুকন্ঠের অধিকারী হয়। চালাকি ও চাতুর্যপূর্ণ কথাবার্তায় এরা পারদর্শী নন। তবে এদের সাথে কথা বলে মজা পাওয়া যায়। কারণ রুচির দিক দিয়ে এরা মার্জিত হন। মহিলারা রুচিবান হয়ে থাকেন। এই ছাপ চালচলনে, কথাবার্তায়, এমনকি আহারে-বিহারেও। আয়ের নেশা আছে। তবে তা সঞ্চয়ের জন্য নয়, ব্যয়ের জন্য। ধৈর্য ও একাগ্রতা এদের বড় গুণ। যথেষ্ট সন্তানবৎসল। ভূলোমন হয়ে থাকে। (স্মৃতি দুর্বল)। উপদেশ এরা পছন্দ করে না, সমালোচনাও নয় ফলে বদরাগী হয়ে থাকে। ভদ্র হলেও বৃষ লোকদের প্রায়ই অপ্রিয় করে তোলে অন্যদের কাছে। সন্দেহবাতিকও। কারো ওপর খেপে গেলে তাকে এরা ধারে কাছেই ঘেঁষতে দেয় না। ফলে একাকী হয়ে যায়।
# প্রকৃতি ঃ
বৃষরাশির ব্যক্তি অধ্যবসায়ী, পরিশ্রমী, তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন ও উচ্চকাক্সক্ষী হয়ে থাকে। জাতক স্থির প্রকৃতিসঙ্গ হন । বিশেষ অধ্যবসায়ে-সহকারে কঠোর পরিশ্রম যাবতীয় কষ্টকর কর্মাদি সম্পন্ন করেন, সব বিষযে স্বমতের বৈশিষ্ট সর্বদা রক্ষা করে চলবেন। কর্মক্ষেত্রে কোন বাধা-বিঘœ মানবেন না।
নিত্য নতুন ধরনের কাজ তার অপ্রিয় হবে তিনি চান যাবতীয় পুরাতন আচার আচরণ, নিয়ম –কানুনকে ভেঙ্গে-চুরে স্বীয় মতানুসারে আধুনিকতার ছাঁচে তাকে ঢেলে সাজিয়ে নিতে । নিজ রুচি অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে তিনি সোৎসাহে ব্রতী হবেন । কারও কথা, অনুরোধ উপরোধ বা প্রলোভনে মত্ত হয়ে ইনি কোন অপ্রিয় কাজে হাত দেবেন না ।
ইনি সর্বদা এমন সর্তক হয়ে চলবেন যেন, কোন ব্যপারেই তার আত্মসম্মানে বিন্দুমাত্র আঘাত না লাগে । যেখানে আত্মপ্রতিষ্ঠা বা খ্যাতি অর্জনের সামান্যতম সম্ভাবনা অর্বতমান, তেমন স্থানে তিনি থাকবেন না, স্বীয় স্বার্থের প্রতি জাতকের সর্বদা প্রখর দৃষ্টি থাকবে কোনরূপ স্বার্থের বিন্দুমাত্র ক্ষতিও না হয় । এই স্বার্থচিন্তা ও আত্মপ্রাধান্য হেতু জাতক অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক লোকের অপ্রিয় বা বিরাগ ভাজন হয়ে পড়বেন । কাজেই একটু উদার মনোভাবাপন্ন হয়ে যাতে অনর্থক শত্র“ সৃষ্টি না হয়, তেমনি সর্তক থাকাই বিধেয়, অর্থকড়ির ব্যাপারে হিসাবী হলেও কখনও নিজ বিলাস-বাসনের জন্য বা আহার-বিহারের দ্রব্যদি সংগ্রহে অমিতব্যয়ী হওয়া তার পক্ষে অসম্ভব নয়, কিন্তু পরে এ ভূলের জন্য তিনি অনুতাপগ্রস্ত হবেন, এভাবে দেহ ও মনের অবসাদ এসে যেতে পারে । জাতক কঠোর পরিশ্রমী, অধ্যবসায়ী ও প্রভূত ক্ষমতাশালী । তিনি সব ব্যাপারে ও সব কাজে প্রধান পদ অলংকৃত করে দায়িত্ব পালনে সুনাম অর্জন করতে চান। অবশ্য সে ক্ষমতাও তার প্রবল এবং অধীনস্থ কাজকর্মে বা অন্য সব বিষয়েও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করতে পারবেন জাতক যদিও বিশ্রাম ভালবাসেন, তা হচ্ছে তার কাজের অবসরে, হাতে কাজ জমিয়ে না রেখে øেহপ্রবণ ও জাতক জগতের সবাইকেই ভালবাসেন ,তবে তা নিঃস্বার্থভাবে নয়, প্রতিদান তার চাই –ই পূর্ণমাত্রায়। এর বিপর্যয় হলেই ঘটবে তার ধৈর্যচুতি এবং ইনি তাতে ভীষণ চটে যাবেন । আবেগপ্রবণ হয়ে ভালবাসার বাড়াবাড়িতে ক্ষেত্রবিশেষে অপবাদগ্রস্থ হওয়াও বিচিত্র নয়। কাজেই এ-সব ব্যাপারে তাকে যথেষ্ট সর্তক হতে হবে , হাতের যাবতীয় কাজ, শিল্পকর্মের প্রতি জাতকের স্বভাবত আকর্ষণ প্রবল কিন্তু এ-সব কোন কাজেই তার স্বার্থোদ্ধার নাহলে তিনি তাতে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারবেন না ।
জাতক শান্তিপ্রিয় সর্বত্র সর্বভাবে তার সুখে বসবাস করার একান্ত্ ইচ্ছা। সেজন্য দেখতে পাওয়া যায়, এসব জাতক উৎকৃষ্ট স্থানে উত্তম বাড়ীতে বাস এবং বহুমূল্য বসন-ভূষণ, খাদ্যাদি, বিলাস- দ্রব্যাদি ও রুচিকর উপাদেয় চর্ব-চেষ্য-লেহ্য-পেয় ইত্যাদির প্রতিই তার সমধিক আকর্ষণ। এসকল সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হলেও জাতক পশ্চাৎপদ হবেন না বা অর্থাদি ব্যয় করে তৎসমুদয় যোগাড় করতে তিনি বিন্দুমাত্র ত্র“টি করবেন না তাকে এ বিষয়ে সর্তক হতে হবে, নতুবা এই বিলাস ব্যসন ও ভোগাঙক্ষা জাতককে কর্মবিমূখ করে ক্রমাবনতির দ্বারপ্রান্তে এনে পৌঁছাবে শুধূ রসাস্বাদন করার জন্যই ভোগ আবশ্যক, আজীবন তাতে মেতে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর ফলে ক্রমে মানসিক অশান্তি ও রোগ- পীড়া এসে তাকে অর্কমণ্য করে ফেলতে পারে ।
জাতক কথাবার্তায় খুবই আমোদপ্রিয় এবং মিষ্টভাষী, সব কাজেই ধীরস্থীর, কোন বিষয়েই পূর্বাহ্নে না ভেবে-চিনেত, দোষত্র“টিমুক্ত না করে করতে চাইবেন না এজন্য সর্বদা নিজের বিবেকের প্রাধান্য দান করবেন মতবিরুদ্ধ কোন কাজ তাকে দিয়ে শতপ্রচেষ্টায়ও করান যাবেনা । নিজ বুদ্ধিকে ইনিস্বয়ং সম্পুর্ণ ও পরিপূর্ণ মনে করবেন। সুক্ষè খুটিনটি বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি ত্যাগ করে চলতে পারলেই হয় । কারণ ঐ সব তুচ্ছাতিতুচ্ছ ব্যাপারে সর্বদা মন আচ্ছন্ন হয়ে থাকার ফলে কর্মপথে বিঘেœাৎপত্তি হয়ে ঝঞ্ঝাটপূর্ণ হয়। ফলে কাজকর্ম বা লৌাকিক ব্যবহারে অপরের উপর অনস্থা জন্মাতে পারে। নিজে বুদ্ধিমান কর্মী হলেও সব বিষয় ‘আমি ভাল বুঝি’ আমার রচিত কর্মপন্থাই শ্রেষ্ঠতর, এ ধারণাটা সর্বদা মনোমধ্যে জাগরূক না রেখে যথারীতি সৎসঙ্গী ও সৎকর্মীর সহযোগীতা পেলে তাকে নিজ অহমিকায় উপেক্ষা না করে তৎসঙ্গে মেলামেশা এবং তার সুপরামর্শ নেওয়ায় উন্নতি বৈ অবনতির আশা যথেষ্ট শুন্য।
# কর্মদক্ষতা ঃ
জাতক উচ্চাকাঙক্ষী, কিন্তু নতুন নিয়মের পক্ষপাতী নন। প্রচলিত প্রথায় কর্মসমূহকে নিজ পছন্দমত গুছিয়ে নিয়ে আধুনিকতার সাহায্যে যথারীতি সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করাই তার বৈশিষ্ট। বাড়ী-ঘর ,জায়গা-জমি ,কৃষি বিষয়ক যেমন চাষবাস ও বাগান বাড়ী ইত্যাদি কাজে জাতক সম্যক পরিচয় দেবেন । খাদ্যদ্রব্য বা শস্য সম্বন্ধীয় বা ব্যবহার্য আসবাব-পত্র বিষয়ক ব্যবসায় অথবা তৎসমুদয় পরিচালনে জাতক সক্ষম হবেন । যেসব কাজে লাভ বা অল্প লাভেরও কোন স্থিরনিশ্চয়তা অবর্তমান , এসব কাজ জাতকের পছন্দ হবেনা । সে সব কাজ ইনি কখনও হাতও দেবেন না । বস্তুতঃ একটা নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত আয়ের কাজ তার থাকা চাই । কোনরূপ অনির্দিষ্ট বা অনিশ্চিত আয়ের কাজের প্রতি তার ঝোঁক থাকবেনা বা সেরূপ কাজে তিনি প্রবৃত্ত হবেন না । সেজন্য অন্যান্য কাজ অপেক্ষা নির্দিষ্ট অঙ্কের চাকরিতেই জাতকের আগ্রহ থাকবে । সব বিষয়ে প্রভূত্ব করবার ও একটা কিছু গড়ে তুলবার দিকে জাতকের লক্ষ্য থাকবে । কাজেই খুব বিবেচনা সহকারে যে কোন পরিচালনার কাজে সুনাম অর্জন করা তার পক্ষে সম্ভব।
# কর্মক্ষেত্র
বৃষ প্রশাষক হিসেবে মন্দ নন। ধর্মের ভয় থাকলে সুবিধা হবে। ব্যয়ের ব্যপারে উদার বলে বিপদে পড়তে পারেন। কষ্টসাধ্য ও দ্রুত হতে হয় এমন কাজে ব্রতী না হওয়ায় ভাল। দুষ্টলোক থেকে সাবধান থাকুন। প্রকৃতি সম্পর্কিত কাজে কর্মে এরা ভাল করবেন।
# ভাগ্য ঃ
উত্তরাধিকারসূত্রে অথবা কোন বিশেষ আত্মীয়ের দিক থেকে কিছু ভূ-সম্পত্তি ও নগদ অর্থ প্রাপ্তিযোগ রয়েছে। এছাড়া সময় বিশেষে দৈবানুগ্রহে আকস্মিক অর্থপ্রাপ্তি যোগও বর্তমান। জাতক মিতব্যয়ী খরচ-পত্রের প্রতি একটু অধিকমাত্রায় হিসাবী । সেজন্য দেখা যায়, জীবনে বিশেষ কোন ব্যাপারে প্রয়োজনমত অর্থব্যয় না করার জন্য লাভের সুযোগ তাকে হারাতে হয়েছে । সেজন্য অবশ্য – কর্তব্য কর্মে যথাসম্ভ^ব উদারতার সঙ্গে কৃপণতাকে পরিহার করে চললেই জাগতিক উন্নতি । অবশ্যম্ভাবি । জমি-জমা নিয়ে অন্য কারো সঙ্গে মনোমালিন্য হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হারাতে পারবেনা বা তেমন ক্ষতি সাধন করতে পারবেনা ;তবুও এসব যথাসম্ভব কিছুটা উদার মনোভাবাপন্ন হয়ে আপোষ মিমাংসা করে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে । কারণ দু‘শ টাকার জমিতে মামলার ব্যপারে দু‘হাজার খরচের কোন অর্থই হতে পারে না ভাগ্য মধ্যম প্রকার বলা যায়।
# পরিণয় ঃ
যেসব পুরুষ বা মেয়ের জন্মতিথি যে কোন মাসের যে কোন পক্ষের দ্বিতীয়া অথবা নবমী অথবা যাদের জন্মমাস জ্যৈষ্ঠ, আশ্বিন ,অগ্রহায়ণ বা মাঘ, এদের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলে এদের দাম্পত্য জীবন সুখে-সাচ্ছন্দে অতিবাহিত হবে । বিবাহ বিষয়ে ভাল করে দেখে শুনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিচার বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়া কর্তব্য । কারণ বিবাহের কিছুটা বিভ্রাট বা অনভিপ্রেত ঘটনার সূত্রপাত হওয়া সম্ভব, যাতে পরবর্তীকালে মানসিক অশান্তি এসে দেখা দিতে পারে । দম্পতিযুগল একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও বাহ্যিক আচার – আচরণ বা মতদ্বৈধতার জন্য কখনও অচলাবস্থর উদ্ভাব হতে পারে । এ বিষয়ে যাবতীয় কুটিলতা বিসর্জন দিয়ে যতদূর সম্ভব অন্যের দোষ ত্র“টি অনুসন্ধান না করে যথারিতি মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করলেই জীবন সুখের হতে পারে । অন্যের দোষত্র“টি বিষয়ে সর্বদা অনুসন্ধান চালাতে গেলে তার সন্দিগ্ধভাজন হয়ে জীবন বিড়ম্বিত হওয়া আদৌ বিচিত্র নয় ।
# পরিবার ঃ
সংসারে সর্বপ্রকার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সর্ববিধ প্রচেষ্টা সত্তে¡ও স্বীয় ভূল-ত্র“টিবশতঃ সময়ে সময়ে অশান্তির অনল জ্বলে উঠতে পারে । সন্তানাদির প্রতি øেহাধিক্য বশতঃ সাধারণের অপ্রিয়ভাজন হওয়া সম্ভব । নিজের স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাদির সুখ-শান্তি বিধানে সতত চেষ্টিত থাকবেন । স্বীয় পরিবারবর্গ ও স্বার্থচিন্তা মনকে সর্বদাই ব্যতিব্যস্ত রাখায় আত্মিয় – স্বজনের সঙ্গে সৌহার্দ বজায় রাখা অনেক ক্ষেত্রে দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। অন্যান্য পরিজন ও স্বজনাদির প্রতি যথাসম্ভব øেহপরায়ণ না হলে তাদের অপ্রিয় হয়ে পড়তে হবে। তাতে অনেক সমযে স্বার্থহানিও ঘটতে পারে । কাজেই আত্মপরায়ণতা যথাসম্ভব কমিয়ে অনেকাংশে উদারমনা হওয়া কর্তব্য, যাতে কেউ ঈর্ষা বা বিদ্বেষ পোষণ না করে ।
# স্বাস্থ্য ঃ
অনিয়মিত পান-ভোজন বা গুরুপাক খাদ্যাদি আহারবিলাস-ব্যসনে মত্ত থাকার ফলে পাকযন্ত্রে হজমশক্তির দৌর্বল্য বা কোন কঠিন রোগ দেখা দিতে পারে। পথ চলাচলে হিংস্র জন্তু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে । এ বিষয়ে যথাসাধ্য সতর্কতা সহকারে চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে । লঘুপাক অথচ পুষ্টিকর আহার্যাদি গ্রহণ স্বাস্থের পক্ষে অনুকুল । একবারে অধিক পরিমাণ খাদ্যগ্রহণ অপেক্ষা বারে বারে অল্প পরিমান আহার্যই জাতকের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকার সাধন করবে । নিয়মিত আহার-নিদ্রা ও শক্তানুসারে কাজকর্মে যথেষ্ট পরিশ্রম করা স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর । একেবারে নিষ্কর্মা অবস্থায় বসে থাকা বা অত্যাধিক পরিশ্রম করা হিতজনক নয় । সাধ্যমত পরিশ্রম ও বিশ্রাম স্বাস্থ্য রক্ষার সহায়ক । পরিষ্কার আলো-বাতাস যুক্ত গৃহে বসবাস ও নিয়মিত ব্যায়ামাদির অনুশীলন অপরিহার্য।
# প্রণয়ঃ
যে সব জাতকের জন্মতিথি যেকোন মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া বা কৃষ্ণা নবমী অথবা জন্মমাস জ্যৈষ্ঠ, আশ্বিন ও মাঘ এদের সঙ্গে প্রণয় সম্ভব। এরূপ প্রণয় অকৃত্রিম ও চিরস্থায়ী হবে। বন্ধু-বান্ধব অনেক জুটবে, কিন্তু তন্মধ্যে হতে প্রকৃত মিত্র বেছে নিয়ে বন্ধুত্ব করতে হবে । কারণ অনেকে স্বীয় স্বার্থচিন্তা বা উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এসে মিত্রতার ভান করবে। উদ্দেশ্য পূরণে বিঘিœত হলে বা ব্যর্থ হলে এরা যথাসাধ্য শত্র“তাসাধনেও কার্পণ্য করবে না। প্রতিবেশী বা স্বীয় পরিজনবর্গের কখনও মত বিরোধ হতে পারে। তাই সর্তক হয়ে সকলের সঙ্গে মেলামেশা করবে এবং যাতে কারও সঙ্গে কোনরূপ মনোমালিন্য হয়ে অপ্রিতিকর ঘটনার উদ্ভব না হয় ,সেদিকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে ।
# বিবিধ ঃ
বহু দূরদেশ ভ্রমণ স্বাস্থ্যের জন্য অনুকুল নয় । দীর্ঘকাল প্রবাস বাস অপেক্ষা কিছু সময়ের ব্যবধানে মধ্যে মধ্যে ভ্রমণ করা উত্তম । পথে বা প্রবাসে হিংস্র জন্তুর আক্রমণ বা অন্য কোনরূপে বিপদগ্রস্থ হওয়া বিচিত্র নয় । এজন্য খুব সাবধানে পথ চলাচল বা প্রবাসে বাস করতে চেষ্টিত হবেন । স্বাস্থ্যরক্ষা হেতু অথবা কার্যপদেশে প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণ পরিলক্ষিত হয় । কাজেই সর্বদা সর্তক থাকা একান্ত প্রয়োজন
# বর্ণ ঃ
সাদা, হলুদ, ও নীল রঙ জাতকের, আরামপ্রদ ও ভাগ্যবর্ধক। তবে এক্ষেত্রে রঙটা পাতলা হলেই ভাল হবে গাঢ় রঙয়ের পরিবর্তে।
# বৃষরাশি (শুক্র) লক্ষণ
নারী ভাবাপন্ন, ধনবান পরিবারের নতুন বউয়ের মতো।
# বৃষরাশি শুক্র (অধিপতি) কি চায়
শুক্র হল ভোগী গ্রহ, কিন্তু শুক্রাচার্যের ভোগও উৎকৃষ্ট। শুক্র যেমন বিলাস, ব্যসন, রমণে তুষ্ট, তেমনিই তিনি পরমহংসের মতো এসবের মধ্যে থেকেও পরমব্রম্মের সন্ধানী। অতএব, জোরালো শুক্র জ্ঞানান্বেষী, জিতেন্দ্রিয়,ধীমান।
# বৃষ রাশির (শুক্র) জন্ম কথা (গ্রীক)
জিউস ছিল মহাপ্রেমিক দেবতা! সুন্দরী দেবীদের সে তো ভালোবাসতোই, মনুষ্যি প্রজাতির ললনারও তার দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারতো না। ইউফোরা ছিল অনন্য সুন্দরী মানবী। জিউসের নজর পড়ে তার উপর। সঙ্গলাভে মরিয়া হয়ে উঠে জিউস। ইফোরাকে অপহরণ করে নির্জন জায়গায় নিয়ে ফন্দি আঁটে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সে এক সাদা ষাঁড় বেশে চলে আসে পৃথিবীতে। দেবতা জিউস আর মানবী ইউফোরার মিলনে জন্ম নেয় বৃষ।
# রতœ ঃ
চন্দ্র্রকান্তমণি, শঙ্খ, মুক্তা, শ্বেত প্রবাল, পান্না, গোমেদ, হীরা/বিশুদ্ধ জারকন। ব্যবহার কর্তব্য । হাতীর দাঁতের চিরুণী, অঙ্গুরীয় অথবা কোন আসবাবপত্র।
#প্রতিকঃ নির্মাতা, উৎপাদক
#সঙ্গীঃ মকর, কন্যা, র্ককট
#ধাতুঃ রৌপ্য, প্লাটনিাম
# সংখ্যাঃ
# বৃষরাশি বৈশিষ্ট্য ঃ
বাস্তববাদী, বিশ্বাসযোগ্য, শৈল্পিক, উদার, দৃঢ়, মানবতাবাদী, সদয়।
# বৃষরাশি খাদ্য (শুক্র) ঃ
মধ্যম উত্তেজক খাদ্য হিতকর, অধিক জলপান, নিরামিষ আহার বিধেয়। চর্বিজাতীয় খাদ্য বর্জনীয়। ভারী ও টক ফল খাবার বর্জনীয়।
# বৃষরাশি ব্যাধি (শুক্র) ঃ
যাবতীয় যৌনব্যাধি, সিফিলিস, বহুমুত্র, গর্ভাশয়ের রোগ, প্রদর, যৌনশীতলতা।
# বৃষরাশি শুক্রের ঔষধি ঃ
মধু, রামবাসকের মূল।
# বিবর্তন ঃ
জীবনপথে চলতে কখনও বা সুখ-শান্তির অভাব, কর্ম বিপর্যয়, অর্থক্ষতি, পারিবারীক বিশৃঙ্খলা, দাম্পত্যকলহ এসে মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হতে পারে। আবার সব বিষয়ে শুভ বা সুখযোগও আসতে পারে। রুষ্ট বা তুষ্ট গ্রহের প্রভাব ও ভোগকালেই এরূপ হয়ে থাকে। বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটাকে সমভাবে উপভোগ করতে চেষ্টিত হবেন।
# বৃষরাশি (শুক্র) গুণ ঃ
বৃষ উষ্ণ, প্রেমপূর্ণ, অমায়িক, ভদ্র ও পছন্দনীয়। ফালতু কোনো ঝুঁকির মধ্যে এরা যেতে চায় না-যেখানে পরে আফসোস করার যোগ থাকে। এরা যে কোনো কাজ করার আগে ষাতবার ভাবে। বার বার নীরিক্ষা করে দেখে এ কাজ কে কতবার করেছে এবং কে কী ভাবে সফল হয়েছে। সময় গড়িয়ে গেলেও তারা ধৈর্যহারা হয় না এবং মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে যে কোনো সময়ে। এরা সাধারণত যে সিদ্ধান্ত নেয় তার খুব কমই ভূল হয়। এ কারণে অনেকে বৃষের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকে। তারা পৃথিবী ও তার সম্পদকে দারুণ ভালবাসে এবং অপচয়বিরোধী। পবিত্রকে তারা ভীষণ ভালোবাসে।
# বৃষরাশি (শুক্র) দোষ ঃ
হিংসা বৃষের সবচেয়ে বড় দোষ। এরা নিজেরা সৃষ্টি করতে পারে, নিজেরা ভাংতে পারে, নিজেরা বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই তারা মেনে নিতে চায় না অন্যরাও বড় কিছু করুক। তারা চায় সবাই তাদের ওপর নির্ভরশীল হোক। একগুঁয়েমি মনোভাব ষাঁড়ের একটা বড় বৈশিষ্ট; বৃষেরও! নিজের সাফল্যগুলো তাকে ভীষণভাবে অহঙ্কারী করে তোলে এবং সে চায় সেটার উন্নয়ন যেন কেবল তার হাতেই হয়। কোনো কোনো কাজে ঝুঁকি অতি প্রয়োজন হলেও তারা ঝুঁকি নিতে অতি প্রয়েজনীয় মুহূর্তেও। ফলে অনেক সময় সমূহ ক্ষতি হয়ে থাকে বৃষের নিজের সমাজের। এরা ব্যক্তি ও সমাজজীবনের পরিবর্তনের বিরোধী এবং পুরোনকে আঁকড়ে ধরে থাকতে আগ্রহী।
# মন্িদকিঃ
একরোখা, সংস্কারাচ্ছন্ন, অলস, আত্মকন্দ্রেকি।
# উপদেশ ঃ
কারও ওপর রাগ করলে শিং উঁচিয়ে তেড়ে যাবেন না এবং রাগে অন্ধ হয়ে উল্টোপাল্টা গুঁতো মারবেন না। এটা আপনার জন্মগত স্বভাব। রাগকে দমন করতে শিখুন এবং এবং যে কোনো পরিস্থিতিকে ঠান্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন। আপনি রাগের মাথায় অনেক কাজ করে পরে ভীষণ অনুশোচনায় ভোগেন এবং বারবার প্রতিজ্ঞা করেন এমন কাজ আর কখনো করবেন না। তবুও করে বসেন।

Leave a Reply

Categories

%d bloggers like this: